fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতা

বিধায়ক চন্দনার বিরুদ্ধে এফআইআর-এ স্থগিতাদেশ আদালতের

বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের মামলায় তদন্ত করতে পারে না পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরির বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রে পুলিশ কোনও তদন্ত করতে পারে না। এমনটাই জানাল কলকাতা হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে চন্দনা বাউরির বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর-এর উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। তাই আপাতত স্বস্তি পেলেন বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি। শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলায় এই  নির্দেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ।

মামলাকারী চন্দনা বাউরির আইনজীবী সৌমজিৎ দাস মহাপাত্রদের অভিযোগ, চন্দনা বাউরির বিরুদ্ধে যে ক’টি অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয়, তার মধ্যে একটি মামলা রয়েছে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ। কিন্তু যাঁর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের আভিযোগ রয়েছে, সেই কৃষ্ণ কুণ্ডু বা যিনি অভিযোগ জানিয়েছিলেন অর্থাৎ কৃষ্ণের স্ত্রী, কাউকেই জেরা করা হয়নি। এমনকী এই মামলার সঙ্গে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও জেরা করা হয়নি চন্দনার স্বামীকেও। তাই এই মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি আইনজীবীদের। তাঁরা জানান, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মহিলা বিধায়কের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে একাধিকবার তাঁকে দল পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়াতেই এই চক্রান্ত। এমনটাই দাবি চন্দনার আইনজীবীর।

প্রসঙ্গত, গত মাসে গঙ্গাজলঘাটি থানায় শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁর গাড়ি চালক কৃষ্ণ কুণ্ডুর স্ত্রী রুম্পা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই দায়ের হয় এফআইআর। এফআইআর খারিজ করার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন চন্দনা। শুক্রবার ছিল সেই মামলার শুনানি। আইনজীবীরা জানান, লিখিত অভিযোগে রুম্পা জানিয়েছিলেন, বিজেপি বিধায়ক গোপনে কৃষ্ণকে বিয়ে করেছেন। তাঁদের মধ্যে একটি সম্পর্কও ছিল। সেই লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিধায়ক চন্দনা বাউরি ও কৃষ্ণ কুন্ডুর বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, বিশ্বাসভঙ্গ, হুমকি-সহ একাধিক মামলা রুজু করে। সেই এফআইআর খারিজের আর্জি নিয়ে  হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন চন্দনা।

উল্লেখ্য বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরি ও কৃষ্ণ কুন্ডুর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ এ ধারায় বধূ নির্যাতন, ৪৯৪ ধারায় বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, ৪০৬ নম্বর ধারায় বিশ্বাসভঙ্গ এবং ৫০৬ ধারায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনে মামলা রুজু হয়। পরবর্তীকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বিজেপি বিধায়ক। বিধায়কের দাবি তাঁর নামে কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে। এরপরই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। শুক্রবার আদালত তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআরে স্থগিতাদেশ দিল।

 

Related Articles

Back to top button
Close