fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

আগে মনুষ্যত্ব তারপর রাজনীতি, তৃণমূল নেত্রীর স্বামীকে টাকা খরচ করে বাড়ি ফেরালেন সিপিএম নেতৃত্ব

শ্যামল কান্তি বিশ্বাস, রানাঘাট: লকডাউনে আটকে পড়া তৃণমূল নেত্রীর স্বামী অবশেষে সিপিএম নেতৃত্বের আর্থিক সহযোগিতায় এলাকায় ফিরলেন। এখন তিনি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে।নেত্রীর স্বামী বলে ছাড় দেওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না, একথা নিজে জানালেন তৃণমূল নেত্রী খুকুমণি বৈদ্য।

 

 

ঘটনা, রূপকথার কাহিনীকেও হার মানাবে।নদীয়া জেলার হাঁসখালি পঞ্চায়েত সমিতির অন্তর্গত ১৩ টি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মধ্যে একটি গ্রাম পঞ্চায়েত হল ময়ুরহাট ১ এবং অপর টি ময়ুর হাট ২ গ্ৰাম পঞ্চায়েত এবং এই ময়ুরহাট ২ নং গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সদস্যা তৃণমূল নেত্রী খুকুমণি বৈদ্য(২৬)- র স্বামী নারায়ন বৈদ্য(৩২)ঊনত্রিশ দিন পায়ে হেঁটে শেষ পর্যন্ত এলাকায় ফিরে, বর্তমানে হাঁসখালি থানার অন্তর্গত দক্ষিণপাড়া কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের হেফাজতে।

 

 

তার স্ত্রীর কথায়, ঘটনাপ্রবাহে জীবনে এক নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চারের মধ্য দিয়ে নতুন জীবন প্রাপ্তির আনন্দে, এলাকার সকলেই অভিভূত। নারায়ণ বাবু র স্ত্রী জানালেন, বিল্ডিং কন্সট্রাকশন এর কাজে গিয়ে পুনেতে আটকে পড়লেও আমরা নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখতাম। ‘দিদিকে বল’ তেও ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। দলের নেতৃত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কথা ও হয়েছে।বারণ করেছিলাম এই ভাবে আসতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তবেই ফিরে আসার অনুরোধ ও করেছিলাম কিন্তু কে কার কথা শোনে, ওনার তর সইছিল না, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে পড়ে; অগত্যা একক সিদ্ধান্ত নিয়েই পায়ে হেঁটে পথ চলা শুরু।

 

 

পুণের আম্বেদকর নগর থেকে ১৮ ই এপ্রিল ভোররাতে যাত্রা শুরু, এইভাবে বিশ্রাম নিতে নিতে পুনের রায়পুর পর্যন্ত তেমন কষ্ট হয়নি। তারপর থেকে পায়ের গিটে গিটে ব্যথা, গা হাত পায়ে যন্ত্রণা, মাথায় হালকা ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি নারায়ন বাবু। রাস্তায় চলতে চলতেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভ্রাম্যমাণ ত্রাণ শিবির থেকে খাবার মিলেছে ঠিকই কিন্তু রাতে শোবার ক্ষেত্রে একটু সমস্যাই ছিল,পথ চলতি অবস্থায় না পেয়েছে কোন ফাঁকা ঘর কিংবা আচ্ছাদন, অজানা অচেনা পথে এইভাবেই খুব কষ্টের মধ্যেই যেখানে সেখানে রাত্রি যাপন এবং এরপরই আবার সকাল হতেই যাত্রা শুরু। এভাবেই টানা ২৬ দিন চলার পর পথিমধ্যে এক পরিচিত কন্ঠের আওয়াজ ভেসে আসে, কাকা আমি শুভঙ্কর,গ্ৰামের ই কোন এক পরিচিত কাকাতুতো ভাইপো শুভঙ্কর। সে ও পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজে গিয়ে আটকে পড়েছিল। সে ও বাড়ি ফিরছিল। তবে একটি কন্টেনার করে চুক্তি হয়েছিল হাওড়ার সাঁতরাগাছি পর্যন্ত পৌঁছে দেবে বলে কথা ছিল।

 

 

দুজনের কথোপকথনে কন্টেনারটি দাঁড়িয়ে পড়ে এবং চালকের সঙ্গে নতুন ভাবে চুক্তি করে নারায়ণ বাবু কেও তুলে নেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী হাওড়ার সাঁতরাগাছি পর্যন্ত আসার কথা থাকলেও উড়িষ্যা সীমান্তে পৌঁছানোর আগেই দু’জনকে কন্টেনার থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং টাকা,পয়সা পুরো দিতে না পাড়ায় মোবাইল ফোন পর্যন্ত দিয়ে দিতে বাধ্য হন।এরপর আবার পায়ে হেঁটে যাত্রা শুরু। পথে কোন এক পুলিশ ছাউনীর কর্তরত পুলিশ কর্মীদের সহযোগিতায় পাথর বোঝাই গাড়িতে আবার ওঠার সুযোগ এবং এরপরে সাঁতরাগাছি তে পৌঁছে দেওয়া। এবং এই সাঁতরাগাছি তেই সিপিএম নেতৃত্বের সহযোগিতায় খাওয়ার ব্যবস্থা সহ হাতে ১৪ শো টাকাও তুলে দেন ওনারা এবং ওখান থেকেই যোগাযোগ করা হয় হাঁসখালি সিপিএম পার্টি অফিসের সঙ্গে।

 

 

এখানকার স্থানীয় আঞ্চলিক সম্পাদক মৃনাল বিশ্বাস কথা বলেন এবং তাঁরই তত্বাবধানে শেষ পর্যন্ত সাঁতরাগাছি থেকে সিপিএম নেতৃত্ব ট্রাক ভাড়া করে নদীয়া জেলার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। নারায়ণ বাবুরা নদীয়া জেলায় পৌঁছানোর পরই,জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে প্রথমে স্থানীয় বগুলা গ্ৰামীণ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং তারপর ওখান থেকেই দক্ষিণপাড়া কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নারায়ন বাবু রা নদীয়া জেলায় পৌঁছানোর পর থেকেই এই পুরো প্রক্রিয়ার সফরসঙ্গি ছিলেন সিপিএম নেতা মৃনাল বিশ্বাস।এখন নারায়ন বাবুরা দক্ষিণপাড়া কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের হেফাজতে আছেন।

Related Articles

Back to top button
Close