fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান করানোর রীতি বহুদিনের

  সুখেন বিশ্বাস: শুরু হয়েছে মহাসপ্তমী। হিন্দু পূরাণ মতে, মহাসপ্তমীতে ভক্তদের কল্যাণ ও শান্তির আশীর্বাদ   দেবী দুর্গার নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন করা হয় আজকের দিনে। নবপত্রিকা প্রবেশের আরেকটি নাম হল কলা বউস্নান।কিন্তু ঘোমটায় মোড়া কলাবউ আসলে কে? পুজোর চারদিন লালপেড়ে শাড়িতে যিনি থাকেন গণেশের ঠিকডান পাশে।সপ্তমীর সকালে চণ্ডীমণ্ডপে গিয়ে বারবারই কথাটা মনে এসেছে। ছোটবেলায় কেন, আজও বড়দের মুখে শোনা যায়, কলা বউ আসলে গণেশের স্ত্রী।

নবপত্রিকা কলা বউয়ের পোশাকি নাম। সমবেতভাবে নবপত্রিকার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন স্বয়ং দুর্গা।নয়টি পাতা বা উদ্ভিদের সমষ্টি এই পত্রিকা। হরিদ্রা, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান, কচু ও ধান এই নয়টি গাছে অবস্থান করেন নয়দেবী। এই সব গাছের পাতা বা ডাল কলাগাছের সঙ্গে শ্বেত অপরাজিতার লতা দিয়ে বাঁধতেহয়। পূরাণে আছে, হরিদ্রা গাছে উমা, জয়ন্তীতে কার্ত্তিকা, বেলেশিবা, ডালিমে রক্তদন্তিকা, অশোকে শোকরহিতা, মানেচা মুণ্ডা, কচুতে কালিকা, ধানে লক্ষ্মীএবং কলা গাছে থাকেন দেবী ব্রহ্মাণী। সপ্তমীর কলাবউ আসলে মা দুর্গারই আর একরূপ। বৃক্ষপুজোর মধ্যে দিয়ে দেবী দুর্গার পাশাপাশি প্রকৃতিরই বন্দনা করা হয়।

 

শাস্ত্রে আছে, নবপত্রিকা স্নানে সমুদ্রের জল ও তীর্থের জল প্রয়োজন হয়। যেভাবে রাজঅভিষেক সম্পন্ন হয়, সপ্তমীর সকালে সেভাবেই সম্পন্ন হয় নবপত্রিকার স্নান। এইস্নানে গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতী, আত্রেয়ী, সরযূ, কৌশিকা, ভোগবতী, মন্দাকিনী, গণ্ডকী, শ্বেতগঙ্গার জল লাগে। আটঘটের জলে নবপত্রিকাকে স্নান করিয়ে তবে তাঁকে চণ্ডীবেদীতে স্থাপন করা হয়। প্রতিটি ঘটের জল দেওয়ার সময় আলাদা আলাদা ঢাকের বাদ্যি বাজাতে হয়। তারবোলও আলাদা।

 

মহাসপ্তমীর সকালে নবপত্রিকা স্নান করানোর রীতি বহুদিনের। স্নানে লাগে তেল-হলুদ, অষ্টকলস, পঞ্চরত্নেরজল, পঞ্চঅমৃত, পঞ্চশস্য, পঞ্চগব্য, পঞ্চকষায়, বৃষ্টিরজল, ডাবেরজল, শিশির, সমুদ্রেরজল, আখেররস, বরাহদন্তমৃত্তিকা, বেশ্যাদ্বারমৃত্তিকা, পদ্মরেণু ও চন্দন। স্নানের পরে লাল পেড়ে সাদাশাড়ি পরিয়ে পত্রিকাকে বধূর আকার দেওয়া হয়। সেখানে ঝোলে বড় ঘোমটা। অতঃপর সিঁদুর পরিয়ে দুর্গা চালির ডানদিকে সিদ্ধিদাতা গণেশের পাশে রাখা হয়।

পুরাণ কথায় দেব   থাকেন ডাইনে আর বাঁয়ে দেবী। যেমন শিব-দুর্গা, লক্ষ্মী-নারায়ণ প্রমুখ। বাঙালি সমাজেও তেমনই। তাই কলাবউ, গণেশেরবউ হবার কোনও সম্ভাবনাই নেই। পাশাপাশি বাঙালিদের একটা সহজাত স্বভাব হল সহজেই পরকে আপন করে নেওয়া। ফলে ভোলানাথ হয়ে উঠেছে আদরের জামাই। দেবী দুর্গারূপ পেয়েছে বাঙালিকন্যা উমায়। কবিরা এইরকমই লিখেছেন তাঁদের লেখা শাক্তপদাবলীতে।

নবপত্রিকার প্রবেশ ও দর্পণে দেবীকে মহাস্নান করানোর মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে সপ্তমী বিহিত পুজো। মার্কণ্ডেয় পূরাণে অবশ্য নবপত্রিকা পুজোর কোনও বিধান নেই। কালিকা পূরাণে না থাকলেও সপ্তমীতে পত্রিকা পুজোর কথা বলা হয়েছে।

 

 

( লেখক কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক )

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close