fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

করোনার বিপদ এতটুকু কমেনি, ‘মন কি বাত’-এ সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। আজ ‘মন কি বাত’-র ৬৫তম অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘ভারতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। করোনা সঙ্কটে অর্থনীতি চাঙ্গা করতে শিথিল করা হয়েছে লকডাউন, যার নাম আনলক-১। তবে, এবার শুধুমাত্র কনটেনমেন্ট জোনে লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, কনটেনমেন্ট জোনের বাইরে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে, সেখানে খুলছে শপিং মল, হোটেল। তিনটি পর্যায়ে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে মৃত্যুর হার অনেক কম। গোটা বিশ্ব করোনা মোকাবিলায় ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বলেও মনে করিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, দেশের গরিব মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। লকডাউন শেষ করে জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার পদক্ষেপও যে সেকথা মাথায় রেখেই করা হয়েছে, তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে লকডাউন শিথিল হলেও করোনার বিপদ যে এতটুকু কমেনি, এ দিন বার বার সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন গাছাড়া মনোভাব দেখালে এতদিনের যাবতীয় কষ্ট বৃথা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় ‘সেবাশক্তি’-র ক্ষমতা দেখেছে গোটা দেশ। মানুষ করোনা সংক্রমণ রুখতে এবং সামাজিক দূরত্ব মানতে যে সমস্ত উদ্ভাবনী শক্তি বের করেছেন, তারও প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রাম, জেলা, রাজ্যগুলি আজ আত্মনির্ভর হলে এত সমস্যা হতো না। কিন্তু এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও মানুষ আত্মনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করছে। যা আমায় খুশি করেছে।’ তাঁর দাবি, আত্মনির্ভর হতে পারলে চলতি দশকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে দেশ। তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন গাছাড়া মনোভাব দেখালে এতদিনের যাবতীয় কষ্ট বৃথা যাবে। মন কি বাত-এর শেষদিকেও তিনি বলেন, ‘এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে দেশ।

আরও পড়ুন: জি৭ সামিট পিছিয়ে দিতে পারেন ট্রাম্প, বৈঠকে আমন্ত্রণ ভারতকে

লকডাউনে বিপর্যস্ত মানুষদের কথা তুলে তিনি বলেন-“এখন আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। করোনা পরিস্থিতিতে ভারতের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব। গরিব শ্রমিকদের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অন্য দেশের তুলনায় ভারতের মৃত্যুর হার কম।”আত্মনির্ভর ভারতের জয় জয়কার করে বলেন-“দেশীয় দ্রব্যের ব্যবহার বেড়ে গেছে। স্থানীয় স্তরে বাড়ছে উত্‍পাদিত দ্রব্যের ব্যবহার। আত্মনির্ভর ভারত সাড়া ফেলে দিয়েছে।” যোগ, আয়ুর্বেদ নিয়ে আগ্রহী অন্যান্য দেশ।

ধাপে ধাপে শিল্প খুলছে, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান খুলছে। এই সময় আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। দুই গজ দূরত্ব বিধি মানতে হবে। প্রত্যেককে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে আয়ুষ্মান প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের গরীব মানুষরা যে সাহায্য পেয়েছেন, তার ভাগীদার দেশের সত্‍ আয় করদাতারা। পরিবেশের দিকে লক্ষ্য দিয়ে প্রত্যেককে একটি গাছ লাগানোর আর্জি জানান প্রধানমন্ত্রী। সবার সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

পাশাপাশি করোনার মোকাবিলায় আয়ুর্বেদের ব্যবহার অপরিহার্য বলে জানান। তাই সকলকে যোগার মাধ্যমে শারীরিক চর্চা করার নির্দেশ দেন। ৩ মিনিটের ভিডিও পাঠিয়ে জনগণকে যোগা প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণ করতে বলেন।  পূর্ব ভারতে উন্নয়নে জোর দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সঙ্কটকালে উদ্ভাবনী শক্তির পরিচয় দেশবাসীর। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত, চাষের জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলায় অনেকেই সেবায় সামিল হয়েছে। সাহসের সঙ্গে ২ রাজ্যের মানুষ মোকাবিলা করেছে। গোটা দেশ তাদের পাশে রয়েছে। যেভাবে পরিস্থিতি সামলানো হয়েছে তার প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। উত্তর ভারতে আসা ‘পঙ্গপাল’ ফসলের বিপুল ক্ষতি করছে। পরিবেশ দূষণে দূর করে স্বচ্ছ পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তা দেন।

Related Articles

Back to top button
Close