fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ছত্রধরকে হিরো বানিয়ে আদিবাসীদের বোকা বানানোর দিন শেষ! একুশে মিলবে জবাব তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি খগেন মুর্মু’র

রক্তিম দাশ, কলকাতা: জঙ্গলমহলের ছত্রধর মাহাতোকে হিরো বানিয়ে বোকা বানানোর দিন শেষ! একুশের বিধানসভায় তাঁদের ওপর বঞ্চনার দাঁতভাঙা জবাব দেবে বাংলার আদিবাসীরা। সোমবার যুগশঙ্খকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তৃণমূলকে এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন মালদা উত্তরের সাংসদ তথা বিজেপির এসসি মোর্চার নবনিযুক্ত সভাপতি খগেন মুর্মু।

এদিন খগেন মুর্মু বলেন, ‘ আদিবাসী চিরকালই প্রতিবাদী। নিজেরা আত্মনির্ভরশীল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। হুল বিদ্রোহ থেকে শুরু। সংগ্রামই প্রতিষ্টা করেছে আদিবাসী সমাজকে। বাম আমলের বঞ্চনা থেকে লড়াই করে তাঁরা তৃণমূলকে নবান্নে পাঠিয়েছে। সেটা তৃণমূল ভুলে গিয়েছে।’

খগেনবাবু বলেন, ‘ এখন তো বাংলায় তোষণমূলক রাজনীতি হচ্ছে। তাঁদের উন্নয়ণের নামে ঠকানো হয়েছে। বাংলায় চলছে পারিবারিক তোষণ, গুন্ডা তোষণের রাজনীতি। এর বিরুদ্ধে লোকসভায় জবাব দিয়েছেন আদিবাসীরা। ভোট লুট রুখতে তাঁরা তীর-ধনুক নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। একুশে তৃণমূল ভোটলুটের চেষ্টা করলে ফের আদিবাসী সমাজ রাস্তায় নামবে।’
বিজেপির এই সাংসদ অভিযোগ করে বলেন, ‘ আদিবাসী এলাকায় একটিও কেন্দ্রীয় প্রকল্প হয়নি। কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্পের ৬ হাজার টাকা থেকে তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। আয়ুষ্মান ভারত থেকে ৫ লক্ষ টাকা পেতেন। রেশনে চাল চুরি। এসব থেকে বাংলার আদিবাসী সমাজের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। আদিবাসীদের পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিন রাজ্যে যেতে হয়েছে কাজের সন্ধানে।’

একদা বাংলা আদিবাসী সমাজের হিরো ছিলেন ছত্রধর মাহাতো। তিনি এখন শাসকদল ঘনিষ্ট। আদিবাসী সমাজের প্রকৃত নেতা ছত্রধর নন বলেই মনে করেন খগেনবাবু। তিনি বলেন,‘ ছত্রধরকে হিরো করেছিল তৃণমূল আর বুদ্ধিজীবীরা। আজ তাঁরা কোথায়? সেই সময় আদিবাসীদের বোকা বানানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধি নেত্রী থাকাকালিন যে ভাবে আদিবাসীদের কাছে ছুটে যেতেন আজ যান না কেন? তাঁর সেই লড়াকু মনোভাব কোথায় গেল? মানুষ এর জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে বসে আছেন আর মাত্র ৮ মাস। সেটা যেন মনে রাখে তৃণমূল।’

রাজনৈতিক দলবদল তিনি মানুষের জন্য কাজ করার স্বার্থে করেছেন বলেই এদিন দাবি করলেন খগেনবাবু। তিনি বলেন,‘ আমার জীবন মানুষের জন্য। ছাত্র জীবন থেকেই লড়াই-সংগ্রাম করেছি। সিপিএমের বিধায়কও হয়েছি। কিন্তু বিজেপিতে আসার পর মনে হয়েছে, যে জায়গায় ছিলাম তাঁর থেকে বেশি সম্মান ও কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। প্রথমে সাংসদ তারপর এসটি মোর্চার সভাপতি করে দল আমায় কাজের সুযোগ দিয়েছে। এই পদ কোনও অলঙ্কার নয়, এই পদ ঠিক করে ব্যবহার করতে হবে যাতে যে লক্ষ্য নিয়ে দেওয়া হয়েছে তা যেন করতে পারি। দিলীপদা, সুব্রতদা সহ রাজ্য নেতৃত্ব, জেলা, মন্ডল সবার সহযোহিতা চাই।’

এসটি মোর্চার সভাপতি হলেও উত্তর মালদায় সময় দিতে অসুবিধা হবেনা বলেই মনে করেন খগেন মুর্মু। তিনি বলেন,‘ আমি রাজনৈতিক সংগঠক। সব মানুষই আমার পরিবারের। সংসদীয় এলাকার সঙ্গে রাজ্যের মানুষকেও সময় দিতে হবে। এটা আমার বাড়তি দায়িত্ব নয়, দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এটা কোনও বোঝা নয়,বরঞ্চ ভাল হল। সবটাই সামলাতে হবে। দিলীপদা যেমন রাজ্য সভাপতির পাশাপাশি সংসদীয় এলাকা সামলাচ্ছেন।’

Related Articles

Back to top button
Close