fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

উচ্চমাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট হলে বিরিয়ানি খেতে চেয়েছিল ছেলেটা, আর কোনওদিন কিছু চাইবে না শুভ্রজিৎ…

অলোক কুমার ঘোষ, ব্যারাকপুর: উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করলে বিরিয়ানি খাওয়াতে হবে, ইছাপুরের মৃত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় এই আবদার করেছিল নিজের বাবা মায়ের কাছে। সে স্বপ্ন দেখত আইনজীবি হওয়ার, কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করেও তার স্বপ্ন পূরণ হল না। ভবিষ্যতের সেই স্বপ্ন কোনও দিন পূরণ হবে না তার। ১৮ বছরের শুভ্রজিৎ তার বাবা মায়ের কোল ফাঁকা করে চলে গেছে।

তবে শুভ্রজিতের মায়ের অভিযোগ, “বিনা চিকিৎসায় আমার একমাত্র ছেলেকে খুন করা হয়েছে’’। উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করে “এ”গ্রেড পেয়েছে শুভ্রজিৎ, তবে তার আর সেই বিরিয়ানি খাওয়া হল না, হল না আর আইনজীবী হয়ে ওঠা, নিজের স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই ইছাপুরের শুভ্রজিৎ অকালে সকলকে ছেড়ে চলে গেল। করোনা পজিটিভ সন্দেহে কার্যত বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে বছর ১৮র শুভ্রজিৎ, সেই অভিযোগ তুলে মৃতের অভিভাবকরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে। ইছাপুর নেতাজিপল্লীর বাসিন্দা মৃত শুভ্রজিৎ এই বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে ছিল। মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায়কে পরীক্ষায় ভালো ফল করে উত্তীর্ণ হওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল সে। মা কে দেওয়া সেই কথা রেখেছে সে। শুক্রবার বিকেলে উচ্চ মাধ্যমিকে ফল বেরনোর পর তার বাবা মা জানতে পারেন তাদের একমাত্র ছেলে পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশ নম্বর নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছে, তার প্রাপ্ত নম্বর ৩৬০। তবে কৃতী ছাত্র শুভ্রজিতের আইনজীবী হয়ে ওঠার স্বপ্ন আর পূরণ হবে না। ছেলের উচ্চ মাধ্যমিক ফল জানতে পেরেই ছেলের ছবি বুকে আঁকড়ে কান্নায় ভেঙে পরেন শুভ্রজিতের বাবা মা দুজনেই। চট্টোপাধ্যায় দম্পতির ঘর শূন্য করে চলে গেছে তাদের একমাত্র সন্তান। রয়ে গেছে শুধুই স্মৃতি।

আরও পড়ুন: ফের বড়সড় দুর্ঘটনা বিহারে, ট্রেনের সঙ্গে গাড়ির ধাক্কায় নিহত ৩

শুভ্রজিতের মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাতভোর জেগে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতি নিয়েছিল আমার ছেলে। তার খাটনির সেই ফল পেয়েছে সে।” ছেলের উচ্চ মাধ্যমিকের ফল জানার পর শুভ্রজিতের মা চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, “আমার ছেলে আজ বেঁচে থাকলে আমরা একসঙ্গে খুব আনন্দ করতাম। ও রেজাল্টের পর বিরিয়ানি খাওয়ার আবদার করেছিল আর একটা ভালো মোবাইল উপহার চেয়েছিল আমাদের থেকে। কিন্তু আজ ওর এত ভালো ফল হওয়া সত্বেও আমরা ওর ইচ্ছা আর পূরণ করতে পারলাম না।” তিনি আরও বলেন, ” আমার ছেলে আমাকে কথা দিয়েছিল যে সে ভালো রেজাল্ট করবে আর আজ আমার ছেলে সেই কথা রেখে গেছে। ওর স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে আইনজীবী হবে। কিন্তু আজ আর ও নেই, আমার সবই স্মৃতি হয়ে গেছে।” ইতিমধ্যেই শুভ্রাজিতের বাবা মা তাদের ছেলের বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত চেয়ে সরকারি ও বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে বেলঘরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সন্তানের মৃত্যুর নিরপেক্ষ বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছেন অসহায় পুত্র হারা চট্টোপাধ্যায় দম্পতি ।

Related Articles

Back to top button
Close