fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

মানচিত্র বিতর্কের আবহেই দিল্লি-কাঠমান্ডু বৈঠক আগামী সপ্তাহে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: মানচিত্র বিতর্কের আবহেই দিল্লি-কাঠমান্ডু বৈঠক আগামী সপ্তাহে। উত্তরাখণ্ডের তিনটি এলাকা নিজেদের দাবি করে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে নেপাল। তার পরই দুই দেশের বিরোধ চরমে ওঠে। এবার সেই বরফই গলছে!‌ আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসছে ভারত এবং নেপাল। নেপালে বেশ কিছু প্রকল্পে টাকা দিয়েছে ভারত। সেই নিয়েই বৈঠক বসবে কাঠমাণ্ডুতে। করোনার কারণে ভিডিও কনফারেন্সেই চলবে আলোচনা। ভারতের হয়ে যোগ দেবেন কাঠমাণ্ডুতে দেশের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কাওয়াত্রা। নেপালের হয়ে থাকবেন বিদেশ সচিব শঙ্কর দাস বৈরাগি সহ কয়েক জন আমলা।

ভূমিকম্পের পর বিধ্বস্ত নেপাল। মূলত তরাই অঞ্চলে রেল পথ পাতা থেকে, তেলের পাইপ বসানো, পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপণ, পলিটেকনিক কলেজ তৈরি সহ পরিকাঠামো উন্নয়নের একাধিক ক্ষেত্রে ভারত সরকার বিনিয়োগ করেছে। সেই কাজ কতদূর এগলো তা বৈঠকে পর্যালোচনা করা হবে। নেপালের উন্নয়নের জন্য গত বছর বাজেট ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মোদী সরকার। করোনার জন্য ভিডিও কমফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই বৈঠক হবে।

কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা- ভারতীয় এই তিন ভূখণ্ডকে নিজেদের বলে দাবি করেছে নেপাল। শুধু তাই নয়, রাতারাতি দেশের মানচিত্রে এই তিন ভারতীয় অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত পর্যন্ত করা হয়েছে। নেপালের জাতীয় সংসদে ইতিমধ্যেই নয়া মানচিত্র স্বীকৃতি পেয়েছে। কেপি শর্মা ওলি সরকারের এই পদক্ষেপে ভারত-নেপাল সম্পর্ক ক্রমশ তালানীতে। প্রথম থেকেই নেপালের দাবিকে ‘অযোক্তিক’ বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এছাড়া নেপাল সরাকরের চিনমুখীতাও দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ককে শীতল করছে।

আরও পড়ুন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম! ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলা কমলা আমেরিকায় ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী 

নেপাল দাবি করে উত্তরাখণ্ডের কালাপানি, লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা তাদের এলাকা। সেই মতো ভারতের আপত্তি অগ্রাহ্য করে নতুন মানচিত্র বিল পাশ করে পার্লামেন্টে। সেই নিয়ে বিবাদ চরমে ওঠে। নেপাল আরও দাবি করে, তারা বিল পাশের আগে কথা বলতে চাইলেও দিল্লি কান দেয়নি। এর আগে ১১ মে, দুই দেশের শেষ বৈঠকে লিপুলেখ দিয়ে ভারতের রাস্তা তৈরির বিরোধিতা করে। তার পরই খারাপ হয় দুই প্রতিবেশি দেশের সম্পর্ক। যদিও ভারত করোনা মোকাবিলায় নেপালকে সাহায্য করে চলেছে। রবিবারও সেদেশে ১০টা ভেন্টিলেটর পাঠিয়েছে দিল্লি। এই পরিস্থিতিতে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, প্রয়োজনীয় হলেও করোনা আবহে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে কোনও আলোচনা আগামী সপ্তাহের বৈঠকে হবে না। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, কোভিড মোকাবিলা সাফল্যের সঙ্গে শেষ করার পরই দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা হবে।

জম্মু-কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পরিনত করার পর গত নভেম্বরে ভারত নয়া মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। তারপর থেকেই ভারত-নেপাল সীমান্ত বিরোধের শুরু। সীমান্ত নিয়ে আলোচনার জন্য যে প্রস্তাব দেয় তার নির্ধারিত সূচি ছিল মার্চে। কিন্তু করোনা আবহে স্থগিত হয়ে যায়। কাঠমান্ডু ভিডিও বৈঠকের কথা জানালেও ভারত করোনা আবহে তাতে রাজি হয়নি বলে দাবি করে নেপাল সরকার। উত্তেজনার আবহেও দুই দেশের প্রশাসনিকস্তরে আলোচনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে, এই আলোচনা রুটিন বৈঠক, খুব বেশি কিছু ফলাফলের সম্ভাবনা নেই বলেই সূত্রে মারফত জানা গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close