fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ময়ুরেশ্বরের শতাব্দী প্রাচীন রথমন্দিরের জীর্ন দশা, প্রশাসন নির্বিকার

সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাঁইথিয়া : বীরভুমের ময়ুরেশ্বর দু’নম্বর ব্লকের কুন্ডলা গ্রামের ঐতিহ্যময় শতাব্দী প্রাচীন রথমন্দিরের আজ জীর্ন দশা। অথচ এই রথমন্দির শুধু এলাকার নয়, একসময় সাঁইথিয়া শহর ও সংলগ্ন গ্রামগুলির মানুষের কাছে অন্যতম দর্শনীয় স্হান হিসাবে পরিগণিত হত। যে কোন মানুষকে আজও এর স্হাপত্যশৈলী বিস্ময়াবিষ্ট করে রাখে। কিন্তু কালের গতিতে এর সবকিছুই এখন নষ্ট হওয়ার মুখে। রাজ্যের সমস্ত বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে বহুবার এ নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে, প্রশাসনকে বহুবার জানানো হয়েছে কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। গতবছর কুন্ডলা গ্রামে এসে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী এই গ্রামে যাঁর পুর্বপুরুষরা বসবাস করতেন এবং এখনও তার ভিটেমাটিটি সযত্নে রক্ষিত রয়েছে সেই আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় দেখে গেছেন রথমন্দির। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিছু একটা ব্যবহা করার। কিন্তু তারপরও কিছু করা হয়নি।

আজ থেকে প্রায় একশো বারো বছর আগে বাংলার ১৩১৪ সালে কুন্ডলার দোর্দন্ডপ্রতাপ মুখোপাধ্যায় পরিবারের পঞ্চম পুরুষ জমিদার কৃপাসিন্ধু মুখোপাধ্যায় এই অসাধারণ রথমন্দিরটি নির্মান করেন। মুর্শিদাবাদের খাগড়া থেকে বারো ফুট লম্বা ও আট ফুট চওড়া বিশাল পিতলের রথ টুকরো অস্হায় নিয়ে এসে রথমন্দিরে তা পুর্ণ আকারে বানানো হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রত্যেক বছর মহাধুমধাম করে রথের পুজো করা হত। এলাকার হাজার হাজার মানুষকে পেটভরে দইচিড়ে ও ফলাহার করানো হত প্রত্যেক বছর । এখন আর সেসব হয়না কেবল প্রতি বছর মন্দির সংলগ্ন মাঠে এবং রাস্তার ধারে মেলা বসে। পেতলের রথ কে দড়ি বেঁধে গ্রামের মানুষ রাস্তায় বার করে আনন্দ করে।

আরও পড়ুন: কোয়ারেন্টাইন সেন্টার ‘ হ্যারাসমেন্ট সেন্টার’ মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিতে তোপ রাহুল সিনহার

রথের সামনে ছিল দুটো নিরেট পিতলের বড় আকারের ঘোড়া। যার মধ্যে একটি এখন চুরি হয়ে গেছে। পিতলের রথের অনেক অংশই এখন ভেঙ্গেচুরে গেছে। গ্রামের ভেতরে মুল রাস্তার ওপর রথমন্দিরের বিশাল গেট অপুর্ব কারুকার্য মন্ডিত। গেটের ওপরে ছখানি স্তম্ভ রয়েছে যার অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে এবং যেকোন রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে স্তম্ভগুলো ভেঙে পড়ে কারন প্রতিদিন অজস্র মানুষ ও যানবাহন এই গেটের পাশে রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। কুন্ডলা গ্রামের বাসিন্দা সাধন মাহারা, গোপাল বাগ্দী, অনন্ত রায়, ঐষি মুখোপাধ্যায়রা বলেন, আমরা মনে প্রানে চাইছি সরকার থেকে উদ্যোগ নিয়ে এই প্রাচীন ঐতিহ্যময় রথমন্দিরের যেটা শুধু এলাকার নয় জেলারও গর্ব আশু সংস্কার শুরু হোক।

Related Articles

Back to top button
Close