fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘সিবি – ন্যাট’ যন্ত্রে করোনা পরীক্ষার কাজ শুরু করলো পূর্ব বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ‘সিবি -ন্যাট’ যন্ত্রের সাহায্যে করোনা পরীক্ষার কাজ সোমবার থেকে শুরু করে দিল পূর্ব বর্ধমান জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। রোগীদের শনাক্ত করে নমুনা সংগ্রহের পরেই ‘সিবি-ন্যাট’ যন্ত্রে তার পরীক্ষা হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর চাইছে বেশী সংখ্যায় কোরোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করতে। তারজন্য তারা একগুচ্ছ পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই নিয়ে ফেলেছেন। একই সঙ্গে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিভাগ থেকে পাওয়া যন্ত্রে পরীক্ষার জন্যে আইএমআরের কাছে আবেদনও করা হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চিন থেকে যে কিট এদেশে এসেছে তা ত্রুটিপূর্ণ। সেই কারণে আইসিএমআর রাজ্যকে ওই কিটে র‍্যাপিড-অ্যান্টিবডি টেস্ট বন্ধ রাখতে বলেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর শুরু করেছে ‘ট্রু-ন্যাট’ পদ্ধতিতে কোভিড স্ক্রিনিং টেস্টের প্রস্তুতি। বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ সুহৃতা পাল বলেন, “যেখানে ওই যন্ত্র নেই সেখানে ‘মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট টিউবারকুলোসিস’ (যক্ষা রোগের) নির্ণয়ের জন্য নির্ধারিত ‘সিবি-ন্যাট’ যন্ত্র ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে আইসিএমআর।”

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোভিড নিশ্চিত হওয়ার জন্য নমুনায় দুটি জিন অর্থাৎ ‘নিউক্লিওক্যাপসিড’ এবং ‘এনভেলপ’ এর অস্তিত্বের বিষয়ে নিশ্চিত হতে হয়। ‘সিবি-ন্যাট’ যন্ত্র এই দু’টি জিনই চিহ্নিত করতে সক্ষম।

আরও পড়ুন: সোনার দোকানে চুরি, তিন সিভিক ভল্যান্টিয়ারের বুদ্ধিমত্তায় ধরা পড়লো দুষ্কৃতীরা

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ছাড়াও বর্ধমান শহর লাগোয়া বেসরকারি ‘কেমরি’ হাসপাতালটিকে ‘কোভিড-১৯’ হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ‘কেমরি’তেও দু’টি কিয়স্ক বসানো হয়েছে। সেখানে কর্মীরা পারস্পরির দূরত্ব বজায় রেখে নমুনা সংগ্রহ করতে পারছেন। বর্ধমান জেলায় এদিন পর্যন্ত ৫০০ জনের নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। যার মধ্যেই খণ্ডঘোষের কাকা ও ভাইঝির শরীরে করোনা ভাইরাসের প্রমাণ মিলেছিল।যদিও দুর্গাপুরের কোভিড হাসপাতালে হওয়া চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠার পর ওই দু‘জনকে ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ।

এমন পরীক্ষার বিষয়টি নিচুস্তর পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে রবিবার বিশেষ নির্দেশিকাও পাঠিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায়। নির্দেশিকা নামায়(ডেপু সিএমওএইচ-দুই/৮২৬) বলা হয়েছে, ‘করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ভুগছেন এমন রোগীদের পরীক্ষায় গতি নিয়ে আসতে হবে। সেই জন্যে ব্লক স্তরের ‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস’ থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। তাঁদের পাঠাতে হবে ‘কেমরি ’হাসপাতালে। এছাড়াও ব্লক ও পুরসভা এলাকায় ‘কো মর্ডিবিটি’তে ভুগছেন এমন রোগীদেরও চিহ্নিত করে ‘কেমরি’ হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। রাজ্যের বাইরে থেকে এসে এই জেলায় রয়েছেন এমন যারা ‘কো মর্ডিবিটি’তে ভুগছেন তাঁদের মহকুমা ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে baভর্তি করার কথা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। জানানো হয়েছে ওই ব্যক্তিদের কারুর শারীরীক সমস্যা দেখা দিলে তাঁদের কেমরিতে ভর্তি করতে হবে। এলাকায় চিরুনি তল্লাশি করে চিহ্নিত করতে হবে ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা লাইক ইলনেস’ বা ‘ইলি’তে করা ভুগছেন। তাঁদের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ বা মহকুমা হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ করার কথাও নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। সিএমওএইচ প্রণব রায় এদিন বলেন , “পরিকল্পনা করে নমুনা সংগ্রহ বাড়ানো হচ্ছে। ওই নমুনা কলকাতার নাইসেডেও পরীক্ষার জন্যে পাঠানো হচ্ছে।”

Related Articles

Back to top button
Close