fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

একুশের আগেই সরকারের পতন!

দাবি বঙ্গ বিজেপির

ইন্দ্রাণী দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি: ভাঙন অব্যাহত ছিল। মন্ত্রিসভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর পদত্যাগের পর তা আরও চওড়া হল বলেই দাবি গেরুয়া শিবিরের। এই পরিস্থিতিতেই শনিবার বাংলার দুই বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং ও নিশীথ প্রামাণিকের হুঙ্কার, ‘ভোটের আগেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে শাসকদল। ভেঙে যাবে তৃণমূল সরকার।’

দিল্লিতে যুগশঙ্খকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামানিক বললেন, ‘আগামী সপ্তাহের প্রথমদিকেই উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ থেকে একাধিক তৃণমূল বিধায়ক যোগ দেবেন বিজেপিতে। আমাদের সঙ্গে এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গের অনেক বিধায়কের কথা চলছে। একইসঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের প্রচুর বিধায়কও যোগাযোগ রাখছেন আমাদের রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা একশোর বেশি। এই মুহূর্তে তৃণমূলের কাছে ২২১ জন বিধায়ক আছেন। সেখান থেকে যদি ১০০ জন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে সরকার ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক ফিগার আর থাকবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে।’

তাঁর সাফ কথা, ‘যেভাবে পিসি-ভাইপোর রাজনীতির দুর্নীতিতে বিরক্ত হয়ে তৃণমূলের প্রবীণ এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, তাতে এটা পরিষ্কার যে, তৃণমূল সরকার ভাঙতে চলেছে।’ তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক মিহির গোস্বামীর বিজেপিতে যোগদান দিয়েই তৃণমূলের পতনের কাউন্টডাউন শুরু হল। এরপর প্রতিদিনই আমরা এরকম ভাবেই কখনও এক, আবার কখনও একাধিক নেতার যোগদান দেখতে পাব। এমনিতেই বাংলাজুড়ে তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেসের একাধিক দলীয় নেতা-কর্মী প্রতিদিনই যোগ দিচ্ছেন আমাদের দলে। বাকি রয়েছেন বিধায়করা’। সাংসদ অর্জুন সিং বলেলন, আগেই বলেছিলাম, মা দুর্গার বিসর্জনের সঙ্গে-সঙ্গেই তৃণমূলের বিসর্জন শুরু হবে।

আরও পড়ুন- অমিত শাহের আলোচনার প্রস্তাব খারিজ, আন্দোলন চালিয়ে যাবেন কৃষকরা

আপনারা দেখুন, সেইসময় এসে গিয়েছে। গতকাল তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী বিজেপিতে যোগদান করেছেন। ইতিমধ্যেই দলের প্রতি অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন প্রকাশ্যে। ভাইপোর একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধেই তাঁদের লড়াই। অথচ তৃণমূল সুপ্রিমো কানে তুলো দিয়ে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র সেজে বসে আছেন। তাই দলের দুর্দিনে বুকের রক্ত দিয়ে যারা তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিলেন, অপমানে আজ তাঁরাই বিরক্ত।’

অর্জুনের কথায়, ভাইপো আর প্রশান্ত কিশোরের দাদাগিরিতে কোণঠাসা হতে হতে আজ তাঁরা বিদ্রোহের পথ বেছে  নিয়েছেন। একনায়কতন্ত্রের দলে বাক-স্বাধীনতার কোনও জায়গা নেই। সেখানে বিদ্রোহ করলে গাঁজা বা আর্থিক তছরুপের মামলা দিয়ে জেলে ভরে দেওয়া হবে। হেনস্থা করা হবে তাঁর পরিবার এবং সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক কর্মীদের। আগেই বলেছিলাম, পাঁচজন সাংসদ-সহ একাধিক বিধায়ক যোগাযোগ রাখছেন আমাদের সঙ্গে। বর্তমানে সংখ্যাটা আরও বেড়েছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূল সরকার ভেঙে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।’

 

Related Articles

Back to top button
Close