fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনার রিপোর্ট না আসায় মৃত্যুর পরও দেহ সৎকার করতে পারল না পরিবার

মিল্টন পাল, মালদাঃ ব্লাড ক্যান্সারে মৃত ব্যক্তির সোয়াব পরীক্ষার রিপোর্ট না আসায় মৃত্যুর পর আটকে মৃতদেহ। ফলে আটক মৃতদেহ কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। ঈদ উৎসবের পরিবর্তে চিন্তার ভাজ পরিবারে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কথা বলা হবে ওই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। পাশাপাশি ওই পরিবারকে সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা সভানেত্রী মৌসম নুর।

 

 

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম লালু শেখ (৪০)। বাড়ি মোথাবাড়ি থানার বাঙ্গিটোলার জাহিরটোলা গ্রামে। মৃতের স্ত্রী জাহানারা বিবি জানান, ৫ মে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই শ্রমিক। প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরে মালদা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তাঁর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়লে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসার জন্য অর্থ জোগাড় করে ১৪ মে কলকাতার এন আর এস মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। পরের দিনই করোনা পরিস্থিতিতে তাঁর সোয়াব সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসাও চলতে থাকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ মে মধ্যরাতে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁর স্ত্রী জাহানারা বিবি আরও বলেন, পরের দিন মৃতদেহ নিয়ে আসতে গেলে এন আর এস মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ জানান, কোভিড পরীক্ষার ফলাফল তখনও এসে পৌঁছায়নি। রিপোর্ট আসলে মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

 

 

মৃত শ্রমিকের পরিবারের দাবি, মৃতের সোয়াব সংগ্রহের ১০ দিন হয়েছে। মৃত্যুর পরেও অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে পাঁচ দিন। কিন্তু এতদিনেও সোয়াব পরীক্ষার রিপোর্ট না আসায় মৃতদেহ হাতে পাচ্ছেন না তাঁরা। ফলে চরম সঙ্কটে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এলে নিয়মানুযায়ী যা করার করা হোক। আর ফল নেগেটিভ হলে যত দ্রুত সম্ভব পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়া হোক শেষ কাজের জন্য।

 

মৃতের ভাই টানু শেখ বলেন, আমাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। মৃত দাদার তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে দুইজনই নাবালক। অপরজন গুজরাটে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে লকডাউনের কারণে আটকে পড়েছেন। এই অবস্থায় কবে কোভিড পরীক্ষার ফল জানা যাবে আর কবে শেষকৃত্য করা সম্ভব হবে তা পুরোটাই অনিশ্চিত। আমরা চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছি। রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নুর বলেন, আমি সমস্ত ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে দেখছি। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেও মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি। খুব শীঘ্র ব্যবস্থা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close