fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চিনাই নদীর চরে মাচাতে বাস পরিবারের

বিশ্বজিত হালদার, নামখানা:‌ একসময় ভিটেমাটি সবই ছিল। কিন্তু রাক্ষুসে চিনাই নদী আস্তে আস্তে সব গিলে নিল। কালের নিয়মে ভিটেমাটি তলিয়ে গেল নদীর ঘোলা জলে। প্রায় বছর দশেক আগের কথা। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে দিশেহারা নামখানা ব্লকের মৌসুনি দ্বীপের বালিয়াড়ার সেখ পরিবার। অগত্যা নদীর চরে বাঁশের মাচা তৈরী করে কোনক্রমে ঠাঁই নিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বাঁশের তৈরী এই মাচাতেই জীবনযাপন। সাত জনের জন্য মাচাটা বড়ই ছোট। মাচার মধ্যে রান্নাবান্না ও গেরস্থালির জিনিষপত্র। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় ওই মাচাতে। ওই বাঁশের মাচাটাই শেষ সম্বল পরিবারের। এভাবে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা কাটছে। কোটালের জেরে মাঝেমাঝে ডুবে যায় মাচা। তখন আশেপাশের প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয় পরিবারের সদস্যদের। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে জমিজিরেত। তাই সরকারি প্রকল্পে বাড়িও করে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের সরকারি প্রকল্পে বাড়ির আশ্বাস দিয়েছেন। এখন সেই আশ্বাসে ভর করে দিন কাটছে পরিবারের।

[আরও পড়ুন- ধামসা মাদলের তালে আদিবাসী নৃত্যে বিতরণ করা হল মাক্স]

সত্তোরোর্ধ আইয়ুব সেখ। একসময় সুন্দরবনের এই বিছিন্ন দ্বীপে বিঘা কয়েক জমি ও বাড়ির মালিক ছিলেন তিনি। দিনমজুরি করে চলত তাঁর সংসার। কিন্তু ২০০৯ সালে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আইলার সময় তছনছ হয়ে যায় মৌসুনি দ্বীপ। নদী ও সমুদ্র বাঁধ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভাঙনের জেরে এলাকার বড় অংশ নদীতে তলিয়ে যায়। অনেকেই ভিটেমাটি হারায়। সেখ পরিবারও ভিটেমাটি হারায়। তারপর থেকে বাড়ি তৈরী করতে পারেননি গৃহকর্তা। অগত্যা নদীর চরের বাঁশের মাচাই ভরসা। এখন ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারেন না আইয়ুব। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয় তাঁর। পরিবারের বছর কুড়ির সেখ হায়দার। তাঁর উপার্জনের টাকায় চলে অভাবের সংসার। ছোট তিন ভাই-‌বোনের পড়াশোনার খরচ তাঁকে জোগাতে হয়। জমি কিনে বাড়ি করার মতো সামর্থ নেই। আইয়ুবের স্ত্রী লায়লা বিবি জানান,‘‌ এককালে সব ছিল। নদী সব গিলে নিল। তারপর আর সামর্থ হয়নি বাড়ি করার। আইলার পর থেকে এভাবেই চলছে। আমফানেও সব ভেঙেচুরে দিয়ে গেছে। ঘর গেরস্থালির জিনিষপত্র সব ভেসে গেছে। সরকারি তার্পোলিনে কোনরকমে আবার সারিয়ে নিয়েছি মাচাটা। কিন্তু এভাবে আর কতদিন?‌’

Related Articles

Back to top button
Close