fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

‘মমতা স্বর্ণ’ ধানের চাষ করে বিপাকে গলসির চাষিরা

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ভালো ফলনের আশায় ‘মমতা স্বর্ণ’ প্রজাতির ধান চাষ করেছিলেন পূর্ব বর্ধমানের গলসির চাষিরা। কিন্তু ভালো ফলন হওয়া তো দূরের কথা, উল্টে ‘মমতা স্বর্ণ’ ধানের চাষ করে গলসি ১ ব্লকের লোয়াপুর ও কৃষ্ণরামপুর অঞ্চলের চাষিদের মাথায় হাত।
বহু টাকা খরচ করে ধান চাষ করে এখন সর্বস্বান্ত অবস্থা গলসির কৃষকদের। তারা এখন পরিত্রাণের পথ খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

গলসির লোয়াপুর ও কৃষ্ণরামপুর অঞ্চলের প্রায় চারশো বিঘে জমিতে ‘মমতা স্বর্ণ’ ধানের চাষ করেছেন চাষিরা। ধান গাছে শিস অর্থাৎ ফুলও ধরেছে। কিন্তু ধানগাছ ফুলানোর পরেও ধানের ভিতরে চাল তৈরি হচ্ছে না বলে চাষিরা জানিয়েছেন। কৃষ্ণরামপুরের বাসিন্দা নুর হোসেন বলেন, অধিক ফলনের আশায় তারা কেউ ৫ বিঘে, কেউ ১০ বিঘে আবার কেউ ১৫ বিঘে জমিতে ‘মমতা স্বর্ণ’ ধান চাষ করেছিলেন। এই ধান চাষের জন্য কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আবার কেউ মহাজানের কাছ থেকে দাদন নিয়ে চাষ করেছেন। জমি ভালোভাবে পরিচর্যা করা, সময় মত সার ও কীটনাশক দেওয়া সবই তারা করেছেন। কিন্তু সব কিছুই বেকার গেছে বলে চাষিরা বলেন।

লোয়াপুর এলাকার চাষির জানিয়েছেন, ধানগাছে ফাঁকা শিস তৈরি হয়েছে। এলাকার অপর চাষি ওসমান আলি বলেন, ফাঁকা শিস যাতে না হয় তার জন্য তারা প্রতিদিনই জমিতে নানা ওষুধ ও কীটনাশক ছড়াচ্ছেন।কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।দেনা করে ধান চাষ করে এখন জমিতে ধান না ফলায় কিভাবে দেনা শোধ করবেন সেই চিন্তাই কুরে কুরে খাচ্ছে চাষিদের।এই পরিস্থিতিতে চাষিরা সরকারি সাহায্যের জন্য প্রশাসনের দফতরে দফতরে ঘুরে আবেদন নিবেদন করে চলেছেন।

আরও পড়ুন: রোহিত অস্ট্রেলিয়া যাবে: BCCI প্রেসিডেন্ট

গলসি ১ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এলাকার জমিতে গিয়ে তিনিও ধানগাছের অবস্থা দেখেছেন। সত্যি ধানগাছে শিসে চাল নেই। গাছে সবই ফাঁকা শিস হয়ে রয়েছে। ওই সব জমিতে ধানের ফলন একেবারেই হবে না। অনুপবাবু ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য সরকারিভাবে কিছু একটা ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button
Close