fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চাষির হাসি কেড়েছে বৃষ্টি, একফুট জলের তলায় পাকা ধান

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: জল থৈ থৈ ধান জমি। মাঠে কেটে রাখা ধানের আঁটি এখন ভাসছে। কিভাবে সেসব উঠবে উঠোনে তা ভেবেই কূলকিনারা পাচ্ছেন না চাষিরা। সারা বছরের উপার্জন এখন জলের তলায়। জলডোবা জমি যেন বন্যার প্রতিচ্ছবি।

পাঁশকুড়া থেকে মহিষাদল, সুতাহাটা থেকে কাঁথি – একই চিত্র। বৃহস্পতিবারের বিকেলের বৃষ্টি চাষিদের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে। জেলা কৃষি দফতরের তথ্যানুযায়ী এবারের বৃষ্টির পরিমাণ এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর ঠিক সে সময় মাঠ জুড়ে সোনালী ফসলের রমরমা। কেউ সদ্য কেটেছেন। কেউ কেটে শুকোতে দিয়েছেন। আবার কেউ বা কেটে শুকনো করে মাঠেই ‘জাঙা’ দিয়ে জড়ো করে রেখেছেন, পরে বইবেন ভেবে। অনেকেরই এখনও ধান কাটতে বাকি।

সবংয়ের শিক্ষিকা দিপালী তুং ফোনে জানালেন দুর্দশার কথা। সব শেষ। মাথায় হাত বাড়ির লোকজনের। কিভাবে জল ছেঁকে মাঠ থেকে ধান ঘরে নিয়ে আসবে এই ভেবেই ঘুম উড়েছে সবার।

যাঁরা ধান কাটেননি, তাঁদের তবুও কিছুটা রেহাই মিলবে। কিন্তু অনেকেই কেটেছেন। মাঠ জুড়ে মেলা ছিল কাটা ধানের লাশ। পাঁশকুড়ার গোপাল পাড়ুই বৃহস্পতিবার দিনই কেটেছেন ১২ কাঠা জমির ধান। তাঁর আফশোস, এই ধান না কেটে যদি আগের কেটে রাখা ধানগুলো ঘরে তুলতে পারতাম, তবে অনেক কম ক্ষতি হত। সব ধান এখন জলের তলায়। এখনও কাটতে বাকি আড়াই বিঘা জমির পাকা ধান। গ্রামের বয়স্কদের দাবি যবে থেকে বোরো ধানচাষ শুরু হয়েছে, এরকম বৃষ্টির মুখে পড়ে চাষিদের ল্যাজেগোবরে অবস্থায় কখনও পড়তে হয়নি।

শুক্রবার সকাল থেকেই মাঠমুখো চাষিরা। বাড়ির সকলকে নিয়ে হাজির মাঠে। হাত দিয়ে ছেঁকে ছেঁকে সেসব ধান তুলে শুকোতে দেওয়া হচ্ছে উঁচু আলপথে। জাঙা দেওয়া ধানের কাঁড়িতেও নিচ থেকে এক ফুট জল। বহু ধানের অঙ্কুর বেরিয়ে গেছে। জলনিকাশী ব্যবস্থা না থাকায় জল দ্রুত বের হচ্ছে না। ফলে সমস্যা আরও ভয়ঙ্কর। এখন যা পরিস্থিতি মাঠের জল না শুকোলে নতুন ধান কাটাও সম্ভব নয়। এদিকে ধান পেকে টসটসে। অবিলম্বে কেটে ঘরে তুলতে হবে। চাষিরা এখন দোটানায়।

সারা ভারত কৃষক সভার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক সত্যরঞ্জন দাস জানান, খুব শিগগিরই চাষিদের নানা দাবি নিয়ে জেলার ২৫ টি ব্লকের এডিও দের কাছে প্রতিনিধিত্ব মূলক ডেপুটেশন দেওয়া হবে। তিনি জানান, সামনেই আমন চাষের মরসুম আসছে। গতবার বুলবুল ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আমন চাষের। আর বোরো চাষে তো ক্ষতি হলই। এমতবস্থায় চাষিদের কৃষিঋণ মকুবের পাশাপাশি বিনামূল্যে আমনের মিনিকিট দিতে হবে সরকারকেই। রাজ্য জুড়ে চলা ‘ডোল পলিটিক্স’ এর বিরুদ্ধে লড়াই চলবে এখন।

জল ছেঁকে ধান তুলছেন মার্কণ্ডপুরের জয়দেব ভুঁইয়া। বাড়ির সকলে মিলে যতটা সম্ভব ডাঙায় তুলছেন সেসব। কি হবে এবার? চাষিদের দাবি বিমা কোম্পানি গুলো কি ক্ষতিপূরণ দেবে? এখন প্রত্যেকের ধ্যানজ্ঞান যত দ্রুত সম্ভব এ ধান মাঠ থেকে ঘরে নিয়ে আসা।

Related Articles

Back to top button
Close