fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গৃহলক্ষীর আবদারে মৃন্ময়ীর লক্ষী আনতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মৃত্যু শ্বশুরের!

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: লক্ষ্মী পুজোয় এবছর পুত্রবধূর আবদার ছিল এবার আর ঘটে নয়, এবার প্রতিমার পুজো হবে বাড়িতে। কন্যাসমা সেই গৃহলক্ষীর আবদার মেটাতেই শ্বশুর বাড়ি থেকে সাইকেলে নিয়ে বেরিয়েছিল প্রতিমা আনতে। কিন্তু লক্ষী পুজো অপূর্ণই থেকে গেল তাঁর পরিবারের।  বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন শালবনীর আসনাশুলি গ্রামের বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর প্রাণকৃষ্ণ মাহাত (৪৫)। মর্মান্তিক এই পথ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শালবনীতে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে মৃত প্রাণকৃষ্ণ মাহাত প্রতিবছর বাড়িতে লক্ষী পুজপ ঘটেই করেন। কিন্তু ছেলে বৌমার আবদার এবার ঘটে নয় পুজো হবে প্রতিমাতে। সেই মতো বাড়িতে পুজোর প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়৷ এদিন সকালে প্রাণকৃষ্ণ বাবু প্রতিমা এবং পুজোর উপকরণ কেনার জন্য সাইকেলে করে শালবনীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। শালবনী বাজার ঢোকার কিছুটা আগেই বড়ো পোলের কাছে তিনি যখন আসছিলেন সেই সময় মহেশপুর মেদিনীপুর রুটের আলিফ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস দুরন্ত গতিতে শালবনীর বড়ো পোলের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে গিয়ে সাইকেল আরোহী প্রাণকৃষ্ণ মাহাতর পিছনে ধাক্কা মারে। বাসের ধাক্কায় প্রাণকৃষ্ণ ছিটকে গিয়ে পড়ে কিছু হাত দুরে পিচের উপর৷ ধাক্কায় মাথা ফেটে ক্ষত হয়ে প্রচুর পরিমাণে রক্ত বেরোতে থাকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। স্থানীয়রা ছুটে আসেন তারাই শালবনী থানায় খবর দেন৷

দুর্ঘটনার পরই চালক ও বাসকর্মীরা বাস ফেলে পালিয়ে যায় ৷ দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়ক কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে শালবনী থানার পুলিশ। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং বাসটিকে থানায় নিয়ে যায়।
ছেলে বিপ্লব মাহাত বলেন “এবার ঠিক করেছিলাম প্রতিমা নিয়ে এসে বাড়িতে লক্ষী পুজো করবো৷ সেই উদ্দেশ্যেই বাবা শালবনী যাচ্ছিল প্রতিমা কিনতে৷ কিন্তু এই রকম বিপদ হবে জানলে বাবাকে কখনোই পাঠাতাম না। আর প্রতিমা কেন, ঘটেই কী কোনও দিন মায়ের পুজো করতে পারব? ঘটনার খবর পাওয়ার পরই শোকে পাথর হয়ে গেছেন পুত্রবধূ। বরাবার মাথা ঠুকছেন মাটিতে, আর বলে চলেছেন, “কেন বাবাকে প্রতিমা আনতে পাঠালাম?
আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় শোকে নিশ্চুপ হয়ে গেছে পরিবার সহ গোটা আসনাশুলি গ্রাম।

Related Articles

Back to top button
Close