fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বাংলায় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের আইন লাগু হচ্ছে না… প্রতিবাদে ট্রাক ধর্মঘটের ডাক

মিল্টন পাল,মালদা: বাংলায় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের আইন লাগু হচ্ছে না। আর যার ফলে সমস্যায় পড়েছে পণ্য পরিবহনকারী ট্রাকের মালিকেরা। অথচ অন্য রাজ্যের ট্রাক বাংলার থেকেও ২৫শতাংশ বেশি পণ্য নিয়ে এই রাজ্য দিয়ে অন্য রাজ্যে যাচ্ছে। তাতে কোনও ক্ষতি হচ্ছে না। শুধুমাত্র এই রাজ্য সরকার বলছে সেতুর অবস্থা ভালো নয় রাজ্যে। গত দু’বছর ধরে সেই আইন এ রাজ্যে লাগু হয়নি। রাজ্য সরকারের এই নীতির প্রতিবাদে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে ট্রাক ধর্মঘটের ডাক দিল ফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাক অপারের্টস অ্যাসোসিয়েশন। পুজোর মুখে পণ্যবাহী ট্রাক ধর্মঘটের জেরে বাজারে যথেষ্ট প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে ব্যবসায়ী মহল।

জানা গিয়েছে, গত দুই বছর আগে কেন্দ্রীয় সরকার আইন লাগু করে যতটা পণ্য সেই সময় ট্রাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তার ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। অথচ রাজ্য সরকার সেই আইন লাগু করছে না। যার ফলে ক্ষতির মুখে পড়ছে পণ্যবাহী ট্রাকের মালিকরা। বিষয়টি নিয়ে দুই বছরে একাধিক চিঠি রাজ্য সরকারকে দেওয়া হলেও কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এর সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করছে। ফলে রাজ্যের ট্রাক ব্যবসার চরম ক্ষতি হচ্ছে সেই কারণেই তারা ধর্মঘটের ডাক দিতে বাধ্য হয়েছে।

ফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাক অপারের্টশ অ্যাসোসিয়েশন যুগ্ম সম্পাদক সৌম্য প্রসাদ বোস বলেন, দুই বছর আগে কেন্দ্রীয় সরকার ভিক্যাল আইনের কিছু পরিবর্তন করে। তাতে পরিষ্কার বলা হয় ভারতবর্ষের সমস্ত ট্রাকের পণ্য লোডিংয়ের ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ বাড়ানো হল। এই আইন পরিবর্তন করার পর ভারতবর্ষের সব রাজ্য দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ওই সমস্ত রাজ্যের পণ্য লোডিং এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার শেষ দুই বছরে অনেক চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও আমাদের এই দাবি এখনো পর্যন্ত মানে নি। এতে আমাদের গাড়ির মালিকদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের এই রাস্তার ওপর দিয়ে অন্য রাজ্যের গাড়ি আমাদের থেকে ২৫শতাংশ মাল বেশি নিয়ে চলে যাচ্ছে। তার ফলে আমাদের রাজ্যের গাড়িগুলোকে আমাদের রাজ্যের মহাজনরা ভাড়া নিচ্ছেন না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে যুক্তি দিচ্ছে তা হল আমাদের রাজ্যের ব্রিজগুলোর অডিট চলছে। আমাদের রাজ্যের নাকি ব্রিজের অবস্থা খুব খারাপ। কিন্তু এই ব্রিজের ওপর দিয়েই বাইরের রাজ্যের গাড়িগুলো ২৫শতাংশ পণ্য বেশি নিয়ে চলে যাচ্ছে। এমনকি কিছু অসাধু গাড়ির মালিক প্রশাসনের কাছে এন্ট্রি দিয়ে ডাক পার্টি, প্যাচ পার্টি এদের সাহায্যে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত মাল বহন করছে। সেখানে ওই গাড়ির পূণ্য পরিবহনের ক্ষমতা ৩০ টন অথচ নিয়ে যাচ্ছে ৭০ টন। যদি কেন্দ্রীয় সরকারের আইন বলবৎ করা হত সে ক্ষেত্রে আমরা চার থেকে পাঁচ টন মাল বেশি বহন করতে পারতাম। এতে আমরা আর্থিক দিক থেকে অনেক সচ্ছল থাকতাম।

এই আইন বলবৎ করার না ফলে পশ্চিমবঙ্গের গাড়ির মালিকদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। সেই কারণে আমাদের রাজ্য সংগঠন ফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রাক অপারেটরদের ডাকে সারা রাজ্যে ৭২ ঘণ্টা ট্রাক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।এরপরেও যদি রাজ্য সরকার আমাদের দাবি না রাখে পুজোর পরে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রাক ধর্মঘট করব। আমাদের একটাই দাবি রাজ্য সরকার আমাদের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি করে দিক এবং গাড়ির মালিকদেরকে সহযোগিতা করুন।
জেলা তৃণমূলের কো-অডিনেটর দুলাল সরকার বলেন, ধর্মঘট করে কোনও সমস্যার সমাধান হবে না। তারা পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করুন। সমস্যার কথা তুলে ধরুন। এই সরকার তাদের সমস্যা নিশ্চয় সমাধান করবে।

আরও পড়ুন:সুন্দরবনকে বাঁচাতে ম্যানগ্রোভ বসানোর কর্মসূচি শুরু

জেলা বিজেপির সহ সভাপতি অজয় গাঙ্গুলী বলেন, ট্রাক মালিকদের দাবি সঠিক। ইচ্ছে করেই এ রাজ্যে এই ধরনের ব্যবস্থা সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে।যাতে মোটা টাকার বিনিময়ে পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে ওভারলোডিং করা যায়। এই টাকার কাটমানি এরাজ্যের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পায়। সেই কারণে এই অবস্থা করে রাখা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close