fbpx
কলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নিরাশ্রয় মানুষের সেবায় কাজ করে চলেছে ‘অনুভব’

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বর্তমানে পৃথিবী এক কঠিন রোগে আক্রান্ত। যার নাম কোভিড-১৯। যে মারণ ভাইরাসের কবলে পড়ে আমরা আজ গৃহবন্দি। পরিস্থিতি ছন্দে ফেরাতে চলছে আনলক-1। কিন্তু সবর্ত্রই এক অজানা আশঙ্কা আমাদের প্রতিনিয়ত গ্রাস করে চলেছে। তার মধ্যেই মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা-য়ের মতো এসে জোটে আমফান। এক নিমেষে লন্ডভন্ড হয়ে যায় কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলি। বলা যায় ২০২০, প্রকৃতি তার যে ধবংসলীলার চিহ্ন রেখে গেল ইতিহাস তার সাক্ষী থাকবে।

আর এই অবস্থার মধ্যে সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় মনুষ্যজগৎ। লকডাউনের জেরে একদিকে বেকারত্ব অন্যদিকে আমফানের জেরে বহু মানুষ নিরাশ্রয়। বাঁচার ছাদটুকু হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নীচে থাকতে বাধ্য হয়েছে। সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থায় পড়ে সাগর পারের মানুষগুলি। কারুর ঘরের ছাদ উড়ে গেছে, কারুর দেওয়াল ভেঙে পড়েছে।

তবে এবারেও সেই মানুষগুলির পাশে বন্ধু হিসেবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ‘অনুভব চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’। এর আগেও অনুভবের সঙ্গে সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে পরিচিত হয়েছে। লকডাউনের সময়েও তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

অনুভবের অন্যতম সদস্যা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কের ম্যানেজার রাত্রি ব্যানার্জি জানালেন, প্রতিনিয়ত আমাদের বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী চলে। তবে এই অবস্থাটা অন্য সময়ের থেকে অনেক আলাদা। এই রকম দিন যে আসতে পারে, সেটাই ভাবতে পারেনি কেউ।

তাই লকডাউনের সময় থেকেই আমরা আমাদের কর্মসূচীর ওপর আরও বেশি জোর দিই। এর মধ্যে ছিল ত্রাণ দেওয়া, রক্তদান প্রভৃতি। কিন্তু আমফানের পর অবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেক মানুষের ঘর ভেঙে পড়ে। নিরাশ্রয় মুখগুলির দিকে তাকিয়ে আর বসে থাকতে পারেনি অনুভবের সদস্যরা। ত্রাণের কাজের পাশাপাশি চলেছে নিরাশ্রয় মানুষগুলির মুখে হাসি ফোটানোর কাজ।

কালীঘাটের ২৭খানা বাড়ির টিনে চাল,  টালির চাল উড়ে গিয়েছিল। সেগুলোর মেরামতি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আমফানের তাণ্ডবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে সাগর পারের মানুষগুলি। আমরা ইতিমধ্যেই রায়দিঘি, মথুরাপুরের প্রায় ৫০টি’র বাড়ি মেরামতির জন্য টিন, রড, বাঁশ দিয়ে সাহায্য করেছি।

এছাড়াও ফ্রেজারগঞ্জ, বকখালিতে ৩০০টি পরিবারকে ২০ রকমের ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২০০০ পরিবারের হাতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতে পেরেছি আমরা। এছাড়াও কালীঘাটের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে স্যানিটাইজেশনের কাজ করছেন আমাদের সদস্যরা। সকলের কাছেই আমরা কৃতজ্ঞ।

Related Articles

Back to top button
Close