fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে আর্থিক সংকট, কুয়ো কাটছে কলেজ ছাত্রী, পাশে দাঁড়াল প্রশাসন

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: আর্থিক ক্ষমতা নেই। তাই নিজেই কুয়ো খোঁড়া শুরু করেছিলেন রানিগঞ্জের মেধাবী কলেজ ছাত্রী ববিতা সোরেন। ববিতার সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পাশে দাঁড়ালো রানিগঞ্জ ব্লক প্রশাসন। রবিবার আদিবাসী ওই ছাত্রীর সঙ্গে বাড়িতে গিয়ে দেখা করলেন রানিগঞ্জের বিডিও অভিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক তথা আসানসোল দূর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ বা আড্ডার চেয়ারম্যান তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়। তার প্রায় ২০ ফুট কাটা অসম্পূর্ণ কুয়োটি পাকাপাকিভাবে তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তারা ববিতাকে সম্বর্ধনা জানান। ববিতার পরিবারের সবার হাতে জবকার্ড দেওয়ারও আশ্বাস দেওয়া হয় বল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে।

পানীয় জলের জন্য একাই কুয়ো খুঁড়ে ফেলেছেন আদিবাসী কন্যা ববিতা। বাড়িতে পানীয় জলের অনেক দিনের সমস্যা। অনেক দূর থেকে জল বইয়ে নিয়ে আসতে হয় মা মীনা সোরেনকে। মায়ের সেই জল আনার কষ্ট লাঘব করতে নিজেই ২০১৯ সালের শেষদিক থেকে কুয়ো কাটা শুরু করে ববিতা সোরেন। কিছুটা কাটার পরে, কষ্ট হওয়ায় কুয়ো কাটা বন্ধ করে দেয়। রানিগঞ্জের বল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বক্তানগর আদিবাসী পাড়ার লাইনপাড় এলাকায় ববিতা থাকেন মা বাবা ভাই ও দিদির সঙ্গে। ববিতা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে এমএ পাশ করেছে। বর্তমানে গলসি থেকে বিএডে পড়াশোনা করছে সে। লক ডাউনের কারণে কলেজ বন্ধ। তাই হাতে অফুরন্ত সময়। তাই সেই সময়কে কাজে লাগাতে আবার ববিতা শাবল ঝুড়ি কোদাল হাতে নিয়ে এই লক ডাউনে কুয়ো কাটার কাজ শুরু করে। তবে ববিতা কাজে এবার সাহায্য করছে তার মা ও বোন।

আরও পড়ুন: অল্প বৃষ্টিতেই বেড়িয়ে পড়লো শহরের রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা

ববিতার মা মীনা সোরেন বলেন, ববিতার বাবা হোপনা সোরেন প্রাইভেট কারখানায় কাজ করেন। ভাই বৈদ্যানাথ ভাড়া গাড়ির চালক। বোন সুমিত্রা কাপড়ের দোকানে কাজ করে। লক ডাউনের বলতে গেলে সবাই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। টাকা পয়সা না থাকার জন্যেই লোক লাগিয়ে কুয়ো করতে পারিনি। ববিতা বলে, প্রথমে একটু কষ্ট হয়েছিল কুয়ো খুঁড়তে। পরে মা ও বোনের সাহায্য পেয়ে দ্রুত গতিতে কুয়ো খোড়ার কাজ চলছে। মাটির সঙ্গে চাঁই ও পাথর সরিয়ে ইতিমধ্যেই ১৮ ফুট খোঁড়া হয়ে গেছে।

রবিবার বিডিও অভিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি ববিতার বাড়ি গেছিলাম। অসম্পূর্ণ কুয়োর কাজ সরকারিভাবে পাকা করে শেষ করা হবে। ১৮ ফুট পর্যন্ত কুয়ো খুঁড়তে যে খরচ হওয়ার কথা সেই টাকা ববিতাকে দিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এই পাড়ায় পানীয় জলের সমস্যা না থাকে তার জন্য আরো নলকূল বসানো হবে।

বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আদিবাসী পরিবাবের মেধাবী কলেজ ছাত্রীর মানসিক দৃঢ়তা আমাদের সবাইকে অবাক করেছে। ওকে সম্মানিত করতে পেরে আমরা সম্মানিত হলাম। ভবিষ্যতে তার পড়াশোনা ও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে যতটা যা পারবো সাহায্য করবো।

ববিতা বলে, বিডিও ও বিধায়ক আমার বাড়িতে এসেছিলেন। আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাড়ির সবার জব কার্ড তৈরি করে দেবে বলেছেন। সোমবার আমাকে আসানসোলে মহকুমাশাসকের অফিসে যেতে বলেছেন। সেখানে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। যা আমার চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। বিধায়ক আমাকে একটা ল্যাপটপ দেবেন বলেছেন। আর পঞ্চায়েতে ডেটা এন্ট্রির কাজের দায়িত্ব দেওয়ার কথাও বলে গেছেন। একইসঙ্গে, আমাদের এলাকায় ১০০ দিনের কাজে যে গাছ লাগানো হবে তার জন্য সুপারভাইজার হিসাবে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে । ববিতার এই কাজ ও তার মানসিকতা পরিবারের লোকজনেরা যেমন খুশি তেমনই তার জন্য গর্ব অনুভুব করছেন রানিগঞ্জের মানুষেরা ।

Related Articles

Back to top button
Close