fbpx
কলকাতাহেডলাইন

সপ্তাহের প্রথম দিন, বাস বাড়লেও অভাব যাত্রীর!

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:   বিস্তর দড়ি টানাটানি, বহু টালমাটাল পরিস্থিতি পেরিয়ে অবশেষে সেই সমস্ত সমস্যা মিটিয়ে আজ, সোমবার থেকে রাস্তায় নামল সমস্ত বাস সংগঠনের বাসই। রাস্তায় থাকল সরকারি বাস। যদিও অফিস টাইমের পর বাসে নেই যাত্রী। রাজ্য সরকার আরও বেসরকারি বাস নামানোর কথা বলা হলেও বেশ কয়েকটি সংগঠন বাস নামায়। কোনও সংগঠন বাস নামায়নি। এর ফলে রাস্তায় বেরিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের। সমস্যা মেটাতে সরকার কলকাতা শহর ও শহরতলিতে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। প্রায় ১৮০০ বাস রাস্তায় নামায় রাজ্য পরিবহন নিগম। সেই দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চেষ্টা করা হয়। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট বাদে বাকি সংগঠন অবশ্য রাস্তায় বাস নামিয়েছিল। এদিন সকাল থেকে দেখা গেল বেঙ্গল বাস সিন্ডিকেট, জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট, বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতি, মিনিবাস অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন, মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বাস নামিয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রায় ৪৭৭০ বেসরকারি বাস রাস্তায় নেমেছে। সরকারি বাস ধরে প্রায় ৬৫০০ বাস চলল রাস্তায়। কিন্তু বাস যে সংখ্যায় রাস্তায় রয়েছে. তার তুলনায় যাত্রী সংখ্যা অনেকই কম। এদিন শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র দেখা গেল বাস নিয়ে অভিযোগ নেই যাত্রীদের মধ্যে। যে তুলনায় বাস নেমেছে সেই তুলনায় যাত্রী না থাকায় এখন পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন এই বেসরকারি বাস মালিকেরা। ‘যাত্রী নেই যেখানে সেখানে কয়েক দিন এভাবে বাস চালাবো?’ এই তাঁদের প্রশ্ন। তবে আমযাত্রীরা খুশি বাস না পাওয়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে। সোম সকালে এটাই কলকাতা ও শহরতলির ছবি বা পরিস্থিতি।

বহু বার বাস নামানোর জন্য বেসরকারি বাস মালিকদের অনুরোধ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই অনুরোধে সাড়া দেননি বেসরকারি বাস মালিকেরা। তাঁদের দাবি ছিল ভাড়া বাড়াতেই হবে। কিন্তু লকডাউনের এই দুর্দিনে আমজনতার ওপর ভাড়ার বোঝা চাপাতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। পরিবর্তে বাস পিছু মাসে ১৫ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়ার কথা জানান তিনি। কিন্তু তাতেও রাজি হননি বাস মালিকেরা। এরপরেই কড়া মনোভাব নেয় রাজ্য। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন রাস্তায় বাস না নামালে রাজ্য সরকার বাস অধিগ্রহণ করবে। রাজ্যের এই অবস্থানের পরেই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হন বেসরকারি বাস মালিকেরা।

আরও পড়ুন: মুম্বইয়ে লাগাতার ভারী বর্ষণ, গুজরাতে জারি সতর্কতা, মোতায়েন এনডিআরএফ

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন ৩ তারিখ অবধি রাজ্য সরকার দেখবে তারপর ৬ তারিখ জানিয়হে দেওয়া হবে রাজ্যের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে। ঘটনাচক্রে ৩ তারিখ ছিল শুক্রবার। তাই সকলেই অপেক্ষায় ছিল ৬ তারিখ সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন কী হয় তা দেখার জন্য। আর এদিন সকাল থেকেই রাস্তায় কার্যত পূর্ণ দমে বাস নেমে যাওয়ায় যানযন্ত্রণার ছবিটাই উধাও হয়ে গিয়েছে। বরঞ্চ অফিস টাইমের পর রাস্তায় বাস থাকলেও যাত্রীর অভাবে বাসগুলিকে ফাঁকাই দৌড়াতে দেখা যায়। তার জেরেই বেসরকারি বাস মালিকেরা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এভাবে ফাঁকা বাস কতদিন চালিয়ে যেতে হবে? বাস তো নামালাম কিন্তু লোক নেই তো। এভাবে যাত্রী ছাড়া বাস চালানো কতদিন সম্ভব হবে। বক্তব্য জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দোপাধ্যায়ের। তথ্য বলছে এদিন কলকাতা ও শহরতলির রাস্তায় নেমেছে প্রায় ৪৭৭০ বেসরকারি বাস। সরকারি বাস ধরে সেই সংখ্যা প্রায় ৬৫০০। বাস মালিকদের সংগঠনগুলি এদিনও জানিয়েছে, সরকারের অনুরোধ মেনে রাস্তায় বাস নামিয়েছে সব সংগঠন। এবার সরকার ভাড়া বাড়ানো নিয়ে দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক।

 

Related Articles

Back to top button
Close