fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অবলুপ্তির পথে পা বাড়ানো লুডো খেলা আজ ফের স্বমহিমায়

অভিষেক আচার্য, নদীয়া: দেশজুড়ে লকডাউন কিছুটা শিথিল হলেও এখনও ঘরবন্দি আট থেকে আশি সবাই। এই বন্দি দশায় সময় অতিবাহিত করার জন্য বাড়ছে ইন্ডোর গেমের চাহিদা। দোকানে বিক্রি বেড়েছে লুডোর। এমনটাই দাবি নদীয়ার বিভিন্ন দোকানদারদের।  লকডাউনের আগে পর্যন্ত তাস খেলা ট্রেনে, বাসে, রাস্তায় অহরহ দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব গুলোতেও লক্ষ্য করা গিয়েছে ক্যারামের উপস্থিতি। কিন্তু লুডো খেলা নৈব নৈব চ। এক কথায় বলতে গেলে বিলুপ্তির পথে পা বাড়িয়ে দিয়েছিল লুডো। অথচ একসময় বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে জনপ্রিয় খেলা ছিল এই সাপ-লুডো।

নদীয়ার কল্যানীর এক দোকানদার তপন বিশ্বাস বলেন, লকডাউনের শুরুতে দোকানপাট সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি কিছুটা শিথিল হওয়ায় খুলছে দোকান। ক্রেতারা দোকানে এসে খোঁজ করছেন লুডোর। আগে দু-একটা লুডো রেখেছিলাম। দোকান খোলার প্রথম দিনেই বিক্রি হয়ে গেছে সেগুলি। নতুন করে ৩০ টি লুডো নিয়ে এসেছিলাম। ভয় ছিল বিক্রি হবে কিনা। কিন্তু ৫-৬ দিনের মধ্যে দেখলাম সেগুলোও শেষ। এবার আরো বেশি নিয়ে এসেছি। তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি শেষ। কিছু লুডো রয়েছে।  তপনবাবুর কথায় বোঝা গেল, বিলুপ্তির হাত থেকে আপাতত রক্ষা পেল অতি পুরোনো এবং জনপ্ৰিয় খেলা লুডো।  নদীয়ার রানাঘাট এলাকার এক দোকানদার মনোজ সরকার বলেন, এটা ঠিক লুডোর চাহিদা বেড়েছে। প্রতিদিন কেউ না কেউ আসছেন লুডো কিনতে। ছোট থেকে বড় সবাই লুডো কেনার জন্য দোকানে দোকানে ঘুরছেন। স্পষ্ট হলো, ফের স্বমহিমায় লুডো।

আরও পড়ুন: পেটের টান ও বাঁচার তাগিদে উত্তরপ্রদেশ থেকে সাইকেল চালিয়ে পূর্ব বর্ধমানে এলো পাঁচ শ্রমিক

যাঁরা লুডো কেনার জন্য দোকানে উঁকিঝাঁকি মারছেন তাঁদের কি বক্তব্য? মাঝবয়সী সজল কর। তিনি বলেন, কোথাও যাওয়ার নেই, অফিস নেই, বন্ধুবান্ধদের সঙ্গে দেখা নেই দীর্ঘদিন। বাড়িতে বসে। তাই সময় কাটানোর জন্য লুডো কিনেছি। পরিবারের সঙ্গে খেলবো। সাথে এসেছেন সজলবাবুর মেয়ে, কলেজে পড়েন। তিনি বলেন, স্মার্ট ফোনের যুগে দীর্ঘক্ষণ ফোন নিয়ে বসে থাকতে ভালো লাগে না। স্মার্টফোনে লুডো ডাউনলোড করে খেলা যায় ঠিকই কিন্তু তাতে মজা নেই। তাই বাবার সাথে বেরিয়ে লুডো কিনলাম।

সূর্য অস্ত যায়। বাড়ি ফেরার পালা। ধীরে ধীরে বন্ধ হচ্ছে দোকান। শুনশান হতে শুরু করেছে রাস্তাঘাট। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে অবশেষে বাড়ি পৌঁছানো গেল। বাড়ি ঢুকতেই ঘরের মধ্যে শোনা গেল সদস্যদের হট্টগোল। উৎসুক হয়ে দেখতে যাওয়ার আগেই কানে এল, “একটা ছয়, একটা পুট, ছয়-পুটে কাটা”। এই শুনে বোঝা গেল লুডো এই বাড়িতেও সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে।

Related Articles

Back to top button
Close