fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

নভেম্বরের পর চাকরিজীবীদের বেতন দিতে পারবে না সরকার!

কুয়েত সিটি, (সংবাদ সংস্থা): বিশ্বের একাধিক দেশে লকডাউনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বছর জ্বালানি তেলের দাম ছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন। এর ফলে সংকটে পড়েছে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ কুয়েত। টান পড়েছে সরকারি তহবিলে। সংকট এতটাই গভীর যে, দেশের অর্থমন্ত্রী বারাক আল-শেতানকে সংসদে জানাতে হয়েছে, ‘তহবিল সংকটের কারণে নভেম্বরের পর সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না।’

একইসঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আল-শেতান জানিয়েছেন, ‘করোনাকালে বাধ্য হয়ে সরকার রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ তহবিল থেকে প্রতিমাসে প্রায় ১৭০ কোটি কুয়েতি দিনার খরচ করেছে।’ অর্থাৎ জাতীয় আয় এখন কমে যাওয়ায় দেশের সঞ্চিত ভান্ডারে হাত দিতে হয়েছে সরকারকে। প্রতিমাসে সেখান থেকে খরচ হচ্ছে ১৭০ কোটি কুয়েতি দিনার, ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৩ শত ৩১ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:রাজ্যের মর্যাদা ফেরতের লক্ষ্যে কাশ্মীরে জোট বাঁধল বিরোধীরা

বিগত কয়েকমাস ধরে সমপরিমাণ অর্থ সরকারের সঞ্চিত তহবিল থেকে তুলে নেওয়ার ফলে, তহবিল প্রায় শূন্যের দিকে। এমন আশংকা করে কুয়েতের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘তেলের দাম যদি না বাড়ে কিংবা সরকার যদি অভ্যন্তরীণ উৎস অথবা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঙ্খিত পরিমাণ ঋণ না পায় তাহলে শীঘ্রই কুয়েতে তহবিল শূন্যের কোটায় নামবে।’ এখনেই থেমে থাকেননি অর্থমন্ত্রী আল-শেতান। তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘বিগত অর্থবছরে কুয়েতের বাজেট ঘাটতি ৬৯ শতাংশ বেড়ে ৫৬৪ কোটি দিনারে গিয়ে ঠেকবে এবং সরকার অনুমান করছে, আগামী ৩১ মার্চ শেষ হতে যাওয়া চলতি অর্থবছরে দেশের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ হবে এক হাজার ৪০০ কোটি দিনারের বেশি।’

কুয়েত সরকারের ঘাটতি বাজেটের বেশিরভাগ অংশই এখন খরচ হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দিতে। সেকথাও জানিয়েছেন কুয়েতের অর্থমন্ত্রী। বলেছেন, সরকারি ব্যয়ের ৭৬ শতাংশই বেতন-ভাতা। ফলে মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সংকটের কারণে জনসেবাখাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও মিতব্যয়ী হতে হবে সরকারকে।’ জানা যাচ্ছে, তেল উৎপাদকদের জোট ‘ওপেক প্লাসে’র জ্বালানি তেলের উৎপাদন কমাতে গৃহীত চুক্তির কারণেও বিপদে পড়েছে কুয়েত।

Related Articles

Back to top button
Close