fbpx
অন্যান্যঅফবিটকলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

চোদ্দপ্রদীপ ও চোদ্দোশাকের মাহাত্ম্য

দোয়েল দত্ত: কার্তিক মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশীর দিনটি সনাতন শাস্ত্রমতে ‘ভূত চতুর্দশী’ বা ‘নরক চতুর্দশী’ নামে পরিচিত৷ লোকগাঁথা অনুসারে, এইদিন নাকি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নরকাসুরকে বধ করে এই ধরিত্রী  রক্ষা করেছিলেন৷ উত্তর ও পশ্চিম ভারতে দিনটিকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়৷ বাংলাতেও ভূত চতুর্দশীর নিজস্ব তাৎপর্য আছে৷ ইতিহাসের সমর্থিত সূত্র অনুসারে এইদিন  বাড়িতে চোদ্দপ্রদীপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চোদ্দোশাক খাওয়ারও রীতি প্রচলিত আছে৷

চোদ্দপ্রদীপ

লোকগাঁথা জানাচ্ছে হিন্দু সংস্কৃতি বিশ্বাস করে যে এইদিন যেন বাড়ির প্রতিটি কোণায় বাতি দিয়ে আলোকিত করা হয়, সেখান থেকেই চোদ্দপ্রদীপ দেওয়ার রীতি৷ বিশেষ করে তুলসিমঞ্চ, বারান্দা ও প্রতি ঘরের কোণে৷ বিশ্বাস অনুসারে দেবীপক্ষে যে পূর্বপুরুষের আত্মা মর্ত্যে আগমন করে ভূত চতুর্দশীর দিন তাঁরা পরলোকে ফিরে যান৷ এটি একটি বিশ্বাসমাত্র৷ আর কৃষ্ণপক্ষের অন্ধকার তিথি হওয়ায় এই প্রদীপ তাঁদের চলার পথকে আলোকিত করে৷ ১৪ প্রদীপের মাধ্যমে উত্তরসূরীরা তাঁদের শ্রদ্ধাও নিবেদন করেন৷ বাবা ও মায়ের দিকের মোট সাতজন করে চোদ্দোজন পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যেই এই চোদ্দপ্রদীপ।

এইদিনের আরও একটি বিশেষ রীতি ছিল আগেকার দিনে সূর্যাস্তের পরে বাড়ির ছোটদের কোথাও বাইরে বেরোতে দেওয়া হবে না৷ কেননা তান্ত্রিকরা বাচ্চাদের তুলে বলি দেবে৷ তবে সেইসব এখন ইতিহাসের পাতাতেই সামীবদ্ধ আছে৷

 

চোদ্দোশাক

এইদিন যেসব চোদ্দোশাক খাওয়া হয়, তা হল পালংশাক, লালশাক, কলমিশাক, সরষেশাক, মুলোশাক, পুঁইশাক, মেথিশাক, পাটশাক, ওলকপিশাক, ছোলাশাক, হেলেঞ্চাশাক, লাউশাক, কুমড়োশাক, কচুশাক৷ এই শাকগুলি কেটে একসঙ্গে রান্না করে খাওয়া হয়৷ এর পিছনেও কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত কারণ আছে৷ আসলে এই সময়ে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের জন্য শরীরে সংক্রমণের মাত্রা খুব বেড়ে যায়৷ শাকে থাকা ভিটামিনস, মিনারেলস, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরকে নানাভাবে রক্ষা করে৷

Related Articles

Back to top button
Close