fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হাইস্কুলের সাফাই কর্মীর বেতন আটকে রাখার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

দিব্যেন্দু রায়, ভাতার: ভাতারের বামশোর হাইস্কুলের এক সাফাই কর্মীর কয়েক মাসের বেতন আটকে রাখার অভিযোগ উঠল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে । উত্তম দাস নামে ওই সাফাইকর্মীর অভিযোগ, গত মার্চ মাস থেকে এযাবৎ তাঁকে কোনও বেতন দেওয়া হচ্ছে না । বেতন চাইতে গেলেই প্রধান শিক্ষক তাঁকে অপমান করে তাড়িয়ে দিচ্ছেন । শনিবার এ নিয়ে তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে ।

জানা গেছে,বামশোর গ্রামের বাসিন্দা উত্তম দাস দীর্ঘদিন ধরে বামশোর হাইস্কুলে সাফাইকর্মী হিসাবে কাজ করছেন । দৈনিক মজুরি ২৫ টাকা হিসাবে মাসে ৭৫০ টাকা বেতন পান তিনি । করোনার জেরে গত মার্চ মাসে লকডাউনের শুরু থেকেই এযাবৎ স্কুল বন্ধ রয়েছে । শুধুমাত্র মিডডে মিলের খাদ্যসামগ্রী বিলির জন্য মাসে দু’চারদিন স্কুল খোলা হচ্ছে । উত্তমবাবুর প্রশাসনের কাছে অভিযোগে জানিয়েছেন, স্কুলের প্রধানশিক্ষক এই চার-পাঁচ মাস ধরে তাঁর বেতন আটকে রেখে দিয়েছেন । বেতন চাইতে গেলে প্রধান শিক্ষক তাঁকে অপমান করে তাড়িয়ে দিচ্ছেন।

এই বিষয়ে বামশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক সৈয়দ কামাল আবদুল আরেফ সাফাইকর্মীর বিরুদ্ধে পালটা অভিযোগ তুলে বলেন, ” কিছুদিন আগে আমাদের স্কুলে কোয়ারিন্টাইন সেন্টার করা হয়েছিল । উত্তম দাসকে তখন জলের পাম্প চালিয়ে দিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তখন সে করোনার ভয়ে স্কুলে আসেনি। স্কুলে ডিডটিও করেনি।” কিন্তু এই যুক্তিতে একজন সাফাই কর্মীর কয়েক মাসের বেতন আটকে রাখার তীব্র নিন্দা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা । পাশাপাশি বামশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালন কমিটির সভাপতি ফিরোজ ফৌজদার প্রধান শিক্ষকের সমালোচনা করে বলেন, “আমি প্রধান শিক্ষককে ওই সাফাইকর্মীর পাওনা মিটিয়ে দিতে অনুরোধ করেছিলাম।কিন্তু প্রধানশিক্ষক যুক্তি দেখাচ্ছেন সাফাইকর্মী ডিউটি করেনি, তাই বেতন আটকে রাখা হয়েছে । একজন গরীব মানুষ ২৫ টাকা রোজ মজুরিতে স্কুলে কাজ করেন ৷ এভাবে মাসের পর মাস তাঁর বেতন আটকে রাখা অমানবিক কাজ।” যদিও প্রধানশিক্ষক জানিয়েছেন,ওই সাফাই কর্মীর চারমাসের বেতনের চেক কেটে রেখে দেওয়া হয়েছে । উনি স্কুলে এলেই দিয়ে দেওয়া হবে ।

Related Articles

Back to top button
Close