fbpx
পশ্চিমবঙ্গশিক্ষা-কর্মজীবনহেডলাইন

শিক্ষক দিবসে পড়ুয়ারা কেমন আছে, খোঁজ নিতে ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়ি পৌঁছে গেলেন প্রধান শিক্ষক

জয়দেব লাহা, দুর্গাপুর:- করোনা আবহে বদলে গেল শিক্ষকদিবসের প্রথা মেনে অনুষ্ঠান। খোদ প্রধানশিক্ষক পৌঁছে গেলেন পড়ুয়াদের বাড়িতে। তবে খালি হাতে নয়। শিক্ষকদিবসে পড়ুয়াদের হাতে তুলে দিলেন খাতা, পেন, পেনসিল। পড়াশোনার খোঁজ খবর নিলেন। বাড়ির দরজায় দীর্ঘদিন পর মাস্টারমশাইকে পেয়ে আপ্লুত পড়ুয়ারা। শিক্ষক দিবসে নজিরবীহিন ঘটনাটি পাণ্ডবেশ্বর থানার নবগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। প্রধানশিক্ষকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে অবিভাবকরা।

শিক্ষক দিবস মানেই সমস্ত শিক্ষকদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করার দিন। শিক্ষাঙ্গনে উৎসব আকারে দিনটি পালন হয়ে থাকে। কিন্তু করোনার থাবায় সবই বদলে গেছে। গত ছ’মাস যাবৎ স্কুলের ক্লাসরুমে পঠনপাঠন বন্ধ। পড়ুয়াদের দিন কাটাছে বাড়িতেই। স্কুল বন্ধ থাকলেও শনিবার অভিনব উদ্যোগে ড: সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিবস পালন করলেন পাণ্ডবেশ্বর নবগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার দাঁ। গ্রামে পায়ে হেঁটে পড়ুয়াদের খোঁজ নিতে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে গেলেন। পড়ুয়াদের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাদের হাতে ছবি আঁকা’র জন্য বই, খাতা ও রঙ -পেনসিল সহ পেনসিল বক্স উপহার তুলে দিলেন। যদিও শিক্ষক দিবসে এই অভিনব উদ্যোগ নিয়ে অরুণবাবুর দাবি,” দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় আগামীদিনে স্কুল ছুট রুখতে অভিভাবক ও পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করতেই এই সিদ্ধান্ত।”

স্কুলের পরিচালন কমিটির সূত্রে জানা গিয়েছে, “ওই স্কুলে প্রথম শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত রয়েছে। স্কুলে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ২২০ জন। দীর্ঘ ৬ মাস ধরে করোনা আবহে স্কুল বন্ধ। পড়ুয়া ও অভিভাবকরা মিড-ডে -মিলের খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে মাঝে মধ্যে স্কুলে আসে। এই বিশেষ দিনে প্রতিবছরই উৎসব আকারে শিক্ষকদিবস পালন করা হয়ে থাকে। কিন্তু পড়ুয়াদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় এই বছর তা বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:কুমারী পুজোয় এবছর দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে বেলুড় মঠের দরজা!

যদিও স্কুলে প্রাধান শিক্ষক ও পরিচালন কমিটির একজন সদস্য মিলে ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণে’র মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তারপরই প্রধান শিক্ষক হাতে উপহার নিয়ে ক্ষুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করতে গ্রামে বেরিয়ে পড়েন।
প্রধান শিক্ষক অরুণবাবু বলেন, “৩২ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। শিক্ষাকতার জীবনে করোনার জন্য দীর্ঘ এতদিন ধরে খুদে পড়ুয়াদের ছেড়ে থাকতে খুব কষ্ট হয়। মাস্টারমশাই, মাস্টার মশাই ডাক আর শুনতে পাই না। তাই মাঝে মধ্যেই পড়ুয়ারা কেমন আছে ও লেখাপড়া কেমন করছে সেসবের খোঁজখবর নিতে তাদের বাড়ি চলে যায়। অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলি। কেমন পড়াশোনা করছে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কিনা জানি। এদিন একটি বিশেষ দিন থাকায় তাদের জন্য সামান্য কিছু উপহার নিয়ে গিয়েছিলাম।”

পরিচালন কমিটির সদস্য শেখ আলাউদ্দিন। তিনি বলেন,” একটানা না আসায় স্কুল খোলার পরে স্কুলছুট পড়ুয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়। ছাত্রছাত্রীরা কেমন পড়াশোনা করছে তা নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হয়। এবং বাড়িতে প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে পরীক্ষাও নেওয়া হয়। আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখি।” প্রধান শিক্ষকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অবিভাবকরা।

Related Articles

Back to top button
Close