fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভিনরাজ্যে আটকে দুর্গত বাঙালিদের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার ঐতিহ্য রক্ষা হিন্দু জাগরণ মঞ্চের

শান্তনু অধিকারী, সবং: আবার‌ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ালো হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। এর আগে মঞ্চের উদ্যোগে ছোটদের জন্য আয়োজিত হয়েছে অনলাইনে সারা বাংলা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। করোনা যোদ্ধাদের কুর্নিশ জানাতে পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়েছেন সংবর্ধনা। এবার পাশে দাঁড়ালেন লকডাউনের জেরে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া দুর্গতদের। এখনও পর্যন্ত সারা দেশ জুড়ে প্রায় বারোশো মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী। কয়েকশো মানুষের আশ্রয়ের‌ও ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তাঁরা। যাঁদের অধিকাংশই এই রাজ্যের বাসিন্দা।

করোনার জেরে উদ্ভূত লকডাউনে ভিনরাজ্যে এখনও আটকে রয়েছেন কয়েক হাজার বাঙালি। অভিযোগ, অন্যান্য রাজ্যের বাসিন্দারা ফিরে গেলেও, এখন‌ও তেমন সুরাহা জোটেনি দুর্গত বাঙালিদের। কেউ গিয়েছিলেন চিকিৎসার কাজে। কেউ সদলবলে বেড়াতে। সেইসঙ্গে রয়েছেন হাজার হাজার বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক। সকলেই পড়েছেন রীতিমতো আতান্তরে।

যেমন, গড়বেতার বাসিন্দা বছর সাতান্নর হরিসাধন মণ্ডল। ছেলের কিডনির চিকিৎসা করতে গিয়ে আটকে রয়েছেন পণ্ডিচেরিতে। সঙ্গে বৌমা থাকায় পড়েছেন আর‌ও বেশি বিপাকে। কোথায় থাকবেন, কী খাবেন, সবটাই হয়ে উঠেছিল কার্যত অনিশ্চিত। রাজ্যের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের‌ তরফ থেকে এই খবর পৌঁছালে তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান তামিলনাড়ুর কার্যকর্তারা। খাদ্যসামগ্রীর পাশাপাশি আশ্রয়ের‌ও ব্যবস্থা করে দেন তাঁরা। এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত হরিসাধনবাবুরা।

আরও পড়ুন: করোনা সতর্কবার্তা দিতে রেডজোনে বাড়ির দোরগোড়ায় নাট্যকর্মীরা 

বেড়াতে গিয়ে হিমাচল প্রদেশে আটকে রয়েছে দুর্গাপুরের প্রায় সাতাশ জনের একটি দল। দলের‌ই এক সদস্য দিলীপ আচার্য জানালেন, ‘নগদ অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে থাকা-খাওয়া নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সহযোগিতা পেয়ে আশ্বস্ত বোধ করছি।’ ক্যানসারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে মহারাষ্ট্রে আটকে রয়েছেন সাতবাঁকুড়ার বাসিন্দা ব্যাঙ্ককর্মী সুমিত ঘোষ। জানালেন, করোনার জেরে মায়ের চিকিৎসাই এখন‌ও সম্ভব হয়নি। পরিবার পরিজনদের নিয়ে খুব দুর্দশার মধ্যে পড়ে পরিচিত এক কার্যকর্তাকে ফোন করে সাহায্য চান। তিনিই সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ‘এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত’, ফোনেই জানালেন সুমিত।

সেই ‘পরিচিত কার্যকর্তা’ তথা মঞ্চের রাজ্য প্রচারপ্রমুখ পারিজাত চক্রবর্তী বললেন, ‘সারা দেশ জুড়েই সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি রাজ্যের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে।’ মঞ্চের দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের সাধারণ সম্পাদক তুষার টিকাদার জানালেন, ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ তার নিজস্ব সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশ জুড়ে এমন সহস্রাধিক দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, কেরালা, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় প্রভৃতি রাজ্যে আটকে পড়া প্রায় বারোশো বাঙালির অন্নের ব্যবস্থা করা হয়েছে মঞ্চের পক্ষ থেকে। বহু মানুষের আশ্রয়ের‌ও ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। ‘এমন অনেক রোগি রয়েছেন, যাঁরা একলা গিয়েছিলেন। দিনরাত তাঁদের‌ও পাশে থাকছেন মঞ্চের স্থানীয় কার্যকর্তারা’, জানালেন তুষারবাবু।

রাজ্য সরকারের প্রতি পারিজাতবাবু আবেদন জানিয়ে বলেন ‘মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া বাঙালিদের ফেরানোর উদ্যোগ নিন।’ অবশ্য যতদিন না তা হচ্ছে, ততদিন এইভাবে মানবতার ধ্বজা ওড়াবে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, এমনটাই ঘোষণা করলেন তিনি। ‘আমাদের এই দেশ তো চিরদিন মানবতার কথাই বলে। হিন্দু জাগরণ মঞ্চ সেই ঐতিহ্যের পরম্পরাটুকুই রক্ষা করেছে,’ জানালেন পারিজাত।

Related Articles

Back to top button
Close