fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কোচবিহারের তিনবিঘা আন্দোলনে শহিদবেদীতে আসছেন নেতারা,  দুই দশকে অসহায় পরিবারদের খোঁজ নেয়নি কেউ

স্বপন রায় বীর, কোচবিহার: ঐতিহাসিক তিনবিঘা অন্দোলন। দুই দশক পেরিয়ে গেলেও ভুলতে পারেনি কেউ তিন শহিদদের কথা৷যারা নিজেদের ভূখন্ডের হস্তান্তরকে মেনে নিতে না পেরে চরম বিরোধীতা করে নিজেদের জীবন আত্মবলিদান দেন৷ ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তে তিনবিঘা করিডর৷ এই করিডরকে নিয়েই প্রান দিয়েছেন তিনজন গ্রামবাসী৷

১৯৭৪ সালে ১৬ ই মে ভারত -বাংলাদেশে সীমান্তের তিনবিঘা করিডর চুক্তি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও শেখ মুজিবর রহমানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত হয়। ভারতে মূল ভূখন্ডে থাকা বাংলাদেশের দুটি গ্রাম দহগ্রাম ও অঙ্গারপোতায় যোগাযোগ করার জন্য তিনবিঘা করিডর বাংলাদেশকে হস্তান্তর করার জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তিনবিঘা আয়তনের( ৫৮৪ X২৭৯ ফুট ) তিনবিঘা করিডর বাংলাদেশকে হস্তান্তরে জন্য এরপর ১৯৮১ সালে শুরু হয় জরিপ৷ সেই সময়  তিনবিঘা করিডর বাংলাদেশকে হস্তান্তর করার বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়৷

বাংলাদেশকে তিনবিঘা করিডর হস্থান্তরের প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রথম শহীদ হন কুচলিবারির বাসিন্দা সুধীর রায়৷ এরপর, ১৯৯২ সালে ২৬ শে জুন চুক্তি কার্যকর করার দিনে  তিনবিঘা এলাকায়  আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন ক্ষিতিন অধিকারী এবং জিতেন রায়৷

 

এরপর এই তিন শহিদের শহিদবেদি স্থাপন করা হয় তিনবিঘা সংলগ্ন এলাকায়৷ বছরের ২৬ সে জুন পালন করা হয় তিনবিঘা শহীদ দিবস৷ এদিন, সকল রাজনৈতিক নেতারা শহিদদের বেদীতে পুষ্প-মাল্যদান করেন৷

 

শুক্রবার, মেখলিগঞ্জে তিনবিঘা আন্দোলনে শহিদদের বেদীতে মাল্যদান করেন বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়৷ শহিদদের বেদীতে মাল্যদান করেন সেই সময়ের আন্দোলোনে সামিল হওয়া নেতারাও। এছাড়াও শাসকদল তৃণমূলের নেতারাও এদিন মাল্যদান করেন৷

 

দেশের ভূখন্ডের হস্তান্তরের প্রতিবাদে শহিদ পরিবারের সদেস্যরাও  এদিন মাল্যদান করেন৷ সেখানে এসে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন৷ শহিদ পরিবারের সদেস্যদের মধ্যে পুলক অধিকারী অভিযোগ করে জানান যে “প্রত্যেক বছর এই দিনটিতে নেতা, মন্ত্রীরা শহিদবেদীতে এসে মাল্যদান করেন আর তাদের নানা  সাহায্যের  আশ্বাস দেন। কিন্তু সেইসবই মিথ্যা৷

Related Articles

Back to top button
Close