fbpx
অন্যান্যঅফবিটকলকাতাপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনাসুরের দাপট, অনিশ্চয়তার অন্ধকারে পুজোর ভাবনা

শান্তনু অধিকারী, সবং: বিশ্বজুড়ে করোনাসুরের দাপট। মহিষাসুর বধের পরিকল্পনা তাই আপাতত বিশ বাঁও জলে। কত হবে বাজেট? কী হবে থিম? কোন তারকাকে এনে দেওয়া হবে চমক? কীভাবেই-বা প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিয়ে মিলবে সেরার স্বীকৃতি? সব প্রশ্নেরই উত্তর আজ কার্যত অনিশ্চয়তার গর্ভে। কেউ জানেন না, কী হবে! করোনাতঙ্কের জেরে আদৌ পুজোটাই সম্ভব কিনা, তৈরি হয়েছে সংশয়। তাই মাথায় হাত পড়েছে জেলার ছোট-বড় সমস্ত পুজো উদ্যোক্তাদের।

২৮ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ফি-বছরই নিত্যনতুন থিমে চমক দেন মেদিনীপুর শহরের রাঙামাটির পুজো কর্তারা। তাঁদের পুজো এ বছর একান্নতম বর্ষে পদার্পণ করলেও রীতিমতো অসহায় তাঁরা। কমিটির অন্যতম কর্তা সুশান্ত ঘোষ জানালেন, ‘কী হবে জানি না। কোনও পরিকল্পনাই করা হয়ে ওঠেনি। আদৌ পুজো করাই সম্ভব কিনা, সন্দেহ আছে।’ একই হা-হুতাশ বিধাননগর সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির রবীন্দ্রনাথ ঘোষের গলাতেও। এবছর তাঁদের পুজো ৪২তম বর্ষে পদার্পণ করলেও, জানালেন, ‘কমিটির আপতকালীন তহবিলে নামমাত্র পুজো করা ছাড়া উপায় নেই।’

কে দেবে চাঁদা? কে হবে স্পনসর? করোনাসুর ধ্বস নামিয়েছে গ্রামবাংলার নিজস্ব অর্থনীতিতেও। তার জেরে জেলার ছোট থেকে বড়, প্রায় সব পুজোতেই নেমেছে অনিশ্চয়তার অন্ধকার। সবংয়ের চাঁদকুড়ির সার্বজনীন পুজো এবার পঁচিশ বছরে পড়েছে।
কমিটির অন্যতম কর্তা তপনকুমার শীট বললেন, ‘ভেবেছিলাম রজতজয়ন্তী বর্ষে পুজোটা জাঁকজমকপূর্ণ করব।’ কিন্তু আদপেই তা যে আর সম্ভব হচ্ছে না, করোনা বিপর্যযয়ের জেরে তা মানছেন তিনিও।

এগরার নবারুণ সংঘের পুজো গতবছর চমকে দিয়েছিল সারা জেলাকে। মন্ডপসজ্জায় জেলা সেরার পুরস্কারও মিলেছিল। কিন্তু এবার আশঙ্কার মেঘ তাঁদের মনেও। পুজোর অন্যতম কর্তা তথা এগরা শহরের পুরপিতা মিন্টু দাসের গলাতে রীতিমতো অসহায়ের সুর, ‘এগরা শহর এমনিতেই রেডজোনে রয়েছে। ফলে সকলেই আপাতত হাত গুটিয়ে।’ তবে পুজো নয়, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই যে এইমুহূর্তে একমাত্র পাখির চোখ, তা জানাতে ভুললেন না মিণ্টুবাবু। অসহায়তায় থমকে নান্দনিক উৎকর্ষতায় সেরা হওয়া নোনাকুড়ি সার্বজনীন পুজোর প্রাথমিক ভাবনাটুকুও। অন্যতম কর্তা জয়দেব বর্মণ বললেন, ‘আগে করোনা থেকে সবাই বাঁচুক। তারপরে পুজোর ভাবনা।’
যদিও মেদিনীপুর শহরের ছোটবাজার সার্বজনীন পুজো কমিটির তরফে পৃত্থীশ দাস দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, ‘পুজো করতেই হবে। কারণ, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের রুটিরুজির প্রশ্ন।’

ঐতিহাসিকরা বলেন, ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই সর্বজনীন পূজার সূত্রপাত। মুলত দেবী দুর্গাকে মাথায় রেখেই দেশমাতা বা ভারতমাতার জাতীয়তাবাদী ধারনা বিপ্লবের আকার নেয়। এই দেবী দুর্গার ভাবনা থেকেই বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দেমাতরম’ গানটির রচনা। যা ভারতের স্বাধীনতা-আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্র।

সুভাষচন্দ্র বসু-সহ অন্যান্য অনেক বিল্পবী ও জাতীয়তাবাদী নেতারা বিভিন্ন সর্বজনীন পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকতেন। আজও বহু রাজনৈতিক নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় পুষ্ট রাজ্যব্যাপী অসংখ্য পুজো। অতএব পরম্পরা আছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পৃষ্ঠপোষকতাও হয়তো মিলবে। কিন্তু ভাগ্যের পৃষ্ঠপোষকতা যে হারাতে চলেছে এবারের পুজো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Related Articles

Back to top button
Close