fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

মসজিদ ভেঙে সুলভ শৌচালয় বানাল জিনপিং সরকার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: উইঘুর মুসলমানদের প্রতি চিনের বর্বরতার কথা আজ বিশ্বে কারও অজানা নয়। এবার আরও একবার স্বেচ্ছাচার ও হিংসার মুখ তুলে ধরল চিন। উত্তর চিনের জিংজিয়াং প্রদেশে একটি ভাঙা মসজিদে এবার শৌচালয় তৈরি করল চিন।চিন তার উত্তর পশ্চিম প্রান্তে পাঁচ হাজারের বেশি মসজিদ ভেঙেছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। তবে এখন চীনের শাসন ব্যাবস্থার উপর নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে চিন প্রশাসন বহু মসজিদের জায়গায় সার্বজনিক শৌচালয় বানিয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের উপর চিন অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ।

আতুশ সুনতাং গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এই শৌচালয়টি যেখানে তৈরি হচ্ছে সেখানেই আগে ছিল টোকুল মসজিদ ছিল। ২০১৮ সালে এই মসজিদ ভেঙে ফেলে চিন সরকার। একটি সাক্ষাত্‍কারে Uyghur neighborhood committe প্রধান বলেন, “কমরেডরা মসজিদ ধ্বংস করে সেখানে শৌচালয় বানাল। এখনও জনতার উদ্দেশ্যে তা উন্মুক্ত হয়নি।

কিন্তু গ্রামে কি আর জায়গা ছিল না? নাকি গ্রামের মানুষের গণ শৌচালয় খুবই জরুরি? উত্তরে Uyghur neighborhood committee chief বলছেন, এই গ্রামে প্রত্যেকের বাড়িতে শৌচালয় রয়েছে। উইঘুরদের জেনেবুঝে আহত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবশ্য এই প্রথম নয়। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানিয়েছেন ২০১৯ সালে গ্রামের আনজা মসজিটিকেও ভেঙে ফেলা হয়। মসজিদ ভেঙেই তৈরি হয় শপিং কমপ্লেক্স। সেখানে দেদার মদ, সিগারেট বিক্রি হয়, ইসলাম অনুযায়ী যা নিষিদ্ধ।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার করোনা টীকায় আস্থা রেখে স্বেচ্ছায় প্রথম গ্ৰহণ করবেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট

এই বিষয়টি নিয়ে আমেরিকার তরফে অনেকবার সমালোচনাও করা হয়েছে তাদের। শুধু তাই নয়, চিনে বসবাসকারী উইঘুরদের কাছ থেকে ধর্মাচরণের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাঁদের পাঁচ হাজারের বেশি মসজিদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে। এবার জানা গেল উইঘুর মুসলিমদের মসজিদ ভেঙে সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ শৌচালয় বানাল জিনপিং সরকার। বিষয়টি প্রকাশ্য আসার পর বিতর্ক শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়নি কোন ইসলামিক দেশ। এপ্রসঙ্গে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে শি জিনপিংয়ের সরকার টোকুল নামে ওই মসজিদটি ভেঙে ফেলে। তার সেখানে সুলভ শৌচালয় বানিয়েছেন চিনের কমরেডরা। তবে সেটি এখনও ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি।

এই এলাকার প্রতিটি মানুষের বাড়িতে শৌচালয় রয়েছে। তাই আলাদা করে শৌচালয় বানানোর দরকার না থাকলেও তা উইঘুর মুসলিমদের মনে আঘাত করার জন্যই ওই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম চিনের জিনজিয়াং প্রদেশের আতুশ এলাকার সুনতাগ গ্রামের বাইরে থাকা টোকুল নামে একটি মসজিদকে ভেঙে সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ শৌচালয় বানিয়েছে জিনপিং সরকার। তবে তার ব্যবহার এখন শুরু হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় উইঘুর মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

Related Articles

Back to top button
Close