fbpx
অসমগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

করোনা আতঙ্কে এবছর বন্ধ থাকবে কামাখ্যার অম্বুবাচী মেলা, জারি নিষেধাজ্ঞা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনার আতঙ্কের জেরে এবার বাতিল হল অসমের কামাখ্যা মন্দিরে আয়োজিত অম্বুবাচীর মেলা। বহু বছর ধরেই এই মেলা চলে আসছে। কিন্তু এবার করোনার কারণে পুণ্যার্থী সহ সাধুদের আসতে নিষেধ করা হয়েছে। জুন মাসে এই উৎসব হওয়ার কথা থাকলেও এখন থেকেই তা বাতিল করার ঘোষণা করা হয়েছে। এই মেলা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এই ধর্মীয়স্থানে ভিড় জমিয়ে থাকেন।

অসমের কামাখ্যায় জুনে ‘অম্বুবাচী মেলা’-র আয়োজন করা হয়। ‘মা কামাখ্যা দেবালয়’ কর্তৃপক্ষ এই মেলার আয়োজন করে থাকে। সংস্থার তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সংক্রমণের আশঙ্কায় এই বছরে কামাখ্যায় এই উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে না। পঞ্জিকা অনুসারে এই বছরে অম্বুবাচি পড়েছে ২২ জুন থেকে ২৬ জুন।

সংস্থার পক্ষ থেকে প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, দেশজুড়ে কোভিড-১৯, মহামারীর আকার নেওয়ায় এবার এই উৎসবের কোনও ব্যবস্থাই করা হবে না।

ধর্মীয় মতে, আষাঢ় মাসের এই সময়ে পৃথিবী বা ধরিত্রী মা ঋতুমতী হন। এই সময়টিতে অম্বুবাচী পালন করা হয় দেশের সর্বত্রই। অম্বুবাচীর দিন থেকে পরর্বতী তিন দিন পর্যন্ত কামাখ্যা দেবীর মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে। তবে কামাখ্যা মন্দির চত্বরে বিশাল উৎসবের আয়োজন করা হয়। ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ।

প্রসঙ্গত, ভারতের অসম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরের পশ্চিমাংশে নীলাচল পর্বতে অবস্থান করছে হিন্দুদের পবিত্র ধর্মস্থান কামাখ্যা মন্দির। এটি ৫১ সতীপীঠের অন্যতম। কামাখ্য মন্দিরটি বিশেষ কারণ দেবী সতীর গর্ভ এবং যোনি এখানে পড়েছিল। এই কারণে দেবী কামাখ্যাকে উর্বরতার দেবী বা “রক্তক্ষরণকারী দেবী” বলা হয়।

সনাতন ধর্ম রীতি অনুযায়ী, অম্বুবাচীর সময়ে হিন্দুরা কোনও ধরনের মাঙ্গলিক কাজ করা থেকে বিরত থাকে। তিন দিন পর চতুর্থ দিন থেকে মঙ্গলিক কাজে করা যেতে পারে। এই সময়ে জমিতে হাল ধরা, গৃহপ্রবেশ, বিবাহ ইত্যাদি শুভ কাজ হয় না। দেশের প্রায় সর্বত্রই এই সময় বিভিন্ন দেবী মন্দিরের প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকে। ঢেকে দেওয়া হয় সমস্ত দেবীমূর্তির মুখ। সেই সময় কোনও হিন্দু দেবীদের পুজোও করা হয় না।

Related Articles

Back to top button
Close