fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হাজার হাজার মানুষের চোখের জলে শেষ বিদায় বীর শহিদ রাজেশ ওঁরাও-এর

সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাঁইথিয়া : শেষ বাড়ি এসেছিলেন গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। এ বছরের জুন মাসেই তাঁর বাড়ি ফিরে নিজের বিয়ে হবার কথা ছিল। সেই মোতাবেক মে মাসে বাড়ি ফিরবার কথা । কিন্তু লকডাউনের কারনে বাড়ি আসতে পারেনি। বাড়িতে অসুস্হ বাবা, মা ও বোন অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন একমাত্র ছেলের ঘরে ফেরার আশায়। কিন্তু যখন তাঁর জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিনবন্দী দেহ ঘরে ফিরলো তখন বাবা মা ও বোনের চোখের জলের সঙ্গে মিশে গেল উপস্হিত হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের কান্না।

 

 

১৬ বিহার রেজিমেন্টের ২৬ বছরের জওয়ান রাজেশ ওঁরাও-এর দেহ কাল রাত্রেই পানাগড় থেকে বেলগড়িয়াতে এসে পৌঁছানোর কথা। কিন্তু রাত্রি হয়ে যাওয়ায় আজ সকালে পানাগড় থেকে সেনাবাহিনীর গাঁদাফুল দিয়ে সুসজ্জিত ট্রাকে কফিনবন্দী দেহ বেলগড়িয়া আনা হয়। সামনে ছিল রাজ্যসরকারের টাইগার বাহিনী।শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তখন রাজ্যের মন্ত্রী, সাংসদ, প্রশাসনের উচ্চপদস্হ আধিকারিক, বিধায়ক, বিরোধী নেতৃবৃন্দ ও জেলা ও জেলার বাইরে থেকে উপস্হিত হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন এই বীর শহীদ কে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন করতে।

 

 

ভারত মাতা কি জয়, জয়হিন্দ ধ্বনিতে উত্তাল আকাশ বাতাস। সেনাবাহিনীর ট্রাক থেকে কফিনবন্দী দেহ নামানো হলে আগে থেকেই তৈরী করে রাখা প্যান্ডেলের মাঝখানে অস্হায়ী বেদীতে কফিন বসানো হয়। সেখানে একে একে রাজ্যের মন্ত্রী আশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ সিনহা, বীরভুম জেলা তৃনমুল কংগ্রেসের সভাপতি অনুব্রত মন্ডল, জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বাসু, পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ, বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, জেলা বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মন্ডল, সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ রামচন্দ্র ডোম, জেলা কংগ্রেস সভাপতি সঞ্জয় অধিকারী , সাঁইথিয়ার বিধায়ক নীলাবতী সাহা এবং অসংখ্য সাধারন মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পন করে এই বীর শহীদকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

 

 

কিছুপরে সেনাবাহিনীর জওয়ানেরা গ্রামের ভেতর রাজেশ ওরাংয়ের সদ্যনির্মিত পাকাবাড়িতে শেষবারের মতো নিয়ে যাওয়া হয়। সুত্রে জানা গেল আজই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

Related Articles

Back to top button
Close