fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত সোমেন মিত্র, শোকস্তব্ধ রাজনীতি মহল

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজনীতির জগতে ছন্দপতন। প্রয়াত প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তাঁর। বুধবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। সকলের কাছেই তিনি ‘ছোড়দা’ বলে পরিচিত ছিলেন। সোমেন মিত্র’র প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনীতি মহল।

 

সম্প্রতি তাঁর ছেলে রোহন মিত্র জানিয়েছিলেন, বাবার(সোমেন মিত্র) শরীর আগের চেয়ে ভালো আছে। চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি। সর্বদা চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল তাকে।

পুরনো পেসমেকার বদল করার জন্য নার্সিং হোমে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি হওয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ডায়ালিসিস করতে হচ্ছিল। তবে মঙ্গলবার রাত থেকে তাঁর অবস্থার উন্নতিও হচ্ছিল। সোমেনবাবুর পরিবার সূত্রের বক্তব্য, বুধবার নার্সিং হোমে তিনি হাঁটাচলা করেছিলেন। কিন্তু বেশি রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। রাতেই প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে টুইট করে সভাপতির প্রয়াণের কথা জানানো হয়।

আরও পড়ুন:সোমেন মিত্রের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ মুখ্যমন্ত্রী, টুইটে শোকজ্ঞাপন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

 

১৯৪১ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের যশোরে জন্মগ্রহণ করেন সৌমেন্দ্রনাথ মিত্র। স্বাধীনতার সময় দেশ ভাগ হবার সময় ছিন্নমূল হয়ে পরিবারের সবাই পূর্ব পাকিস্থান অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ থেকে চলে আসেন কলকাতায়। কলকাতাতেই শুরু হয় শৈশব জীবন ও পড়াশোনা। কলকাতা বিশ্বদ্যালয়ের থেকে বিএসসি ও এলএলবি পাশ করেন তিনি। কলেজে পড়ার সময় সির্দ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের হাত ধরে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সোমেন মিত্র। এরপর রাজ্য রাজনীতিতে এবিএ গনিখান চৌধূরী, প্রণব মুখোপাধ্যায়, প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সী দের সঙ্গে সমান তালে প্রদেশ কংগ্রেসের নেতৃত্ব দেন।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ এবং ১৯৮২ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শিয়ালদহ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সাত বারের বিধায়ক ছিলেন। ২০০৮ সালে সোমেন মিত্র কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। সেই বছর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। ২০১৩ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ থাকাকালীন তিনি প্রথম সারদা চিট ফান্ডের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন এবং কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকে আর্থিক অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে সারদা চিটফান্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান। দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে সারদা আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খোলার অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন সোমেন মিত্র।

২০১৪ সালে ফের জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন এবং লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হন। এরপর ২০১৮ সালে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন। আমৃত্যু তিনি জাতীয় কংগ্রেস কমিটির কার্যকরী পরিষদের সদস্য ছিলেন। রেখে গেলেন স্ত্রী শিখা মিত্র ও একমাত্র পুত্র রোহণ মিত্রকে। ইতিমধ্যেই সোমেন মিত্রের জীবনাবসানের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক ডাক্তার সূর্যকান্ত মিশ্র সহ বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। চোখের জলে বিদায় নিলেন বিধান ভবনের ছোড়দা।

Related Articles

Back to top button
Close