fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

সংকটে মৃৎশিল্পীদের জীবন-জীবিকা

তন্ময়ী প্রধান, মুকুন্দপুর: দেখতে দেখতে পুজোর মরশুম চলে এল আর কিছুদিন পর পুজো শুরু হতে চলেছে। আর করোনার সংকটে ঘোর বিপদের মুখে মৃৎশিল্পীরা। ঠিক পুজোর সময় তাদের জীবনে এমন ঘোর অন্ধকার নেমে আসবে সেটা তারা কল্পনাও করতে পারেনি। তারা ভেবেছিল স্বাভাবিক যেভাবে চলছিল ঐরকম জীবনযাপনই তাদের ফিরে আসবে। কিন্তু কোথায় আর তাদের স্বচ্ছল ভাবে পুজো কাটানো, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে জীবন-জীবিকা প্রশ্নের মুখে। আমরা ভাবি যে শুধু গ্রামাঞ্চলে মৃৎশিল্পীদের জীবন-জীবিকা প্রশ্নের মুখে কিন্তু না শহরাঞ্চলে মৃৎশিল্পীরা ও একই প্রশ্নের মুখে পড়েছে কি করে চলবে তাদের দিন। কি করে কাটাবে তারা বারো মাসে তেরো পার্বণ । আর তার মধ্যে একটা পার্বণ যদি হয় সেই দূর্গোপূজো। আদৌ কি পুজো হবে? যদিও বা পুজো হয় তাতে কতটা বা তারা লাভের মুখ দেখবেন তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ কপালে। অনিশ্চিয়তার কালো মেঘ গ্রাস করেছে তাদের জীবন-জীবিকাকে।

গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় মৃৎশিল্পের করুন দুর্দশার চিত্র উঠে আসে। তাদের হাত এখন কপালে কি করে তারা জীবন-যাপন করবে কি করে তারা তাদের জীবিকা কে টিকিয়ে রাখবে যদি এইভাবে চলে সমস্যা। তাও আবার সেই সমস্যা যদি পুজো মরশুম হয় সেটা আরও ভয়াবহ। একদিকে করোনা একদিকে লকডাউন একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা হাল বেহাল। তারা তাদের সাধ্যমতো জিনিসপত্র তৈরি করে যাচ্ছে কিন্তু তাদের এই তৈরি জিনিসের হচ্ছে না কোন রফতানি। যেখানে অন্যান্য বছর পুজোর পুজোর সময় তারা খাওয়ার সময় টুকু পেত না, সেখানে এই বছর পুজো তে কোনো কেনাবেচা নেই । সেই লকডাউনে প্রথম থেকে শুরু করে এখনো পর্যন্ত তাদের এই দুর্দশা চলছে। তারা ভেবেছিল হয়তো পুজোর সময় সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে আবার আগের মত  বেচাকেনা শুরু হবে কিন্তু কোথায় লকডাউনের প্রথম থেকে শুরু করে যেমন চলছিল পুজো মরশুম এ তেমনই চলছে। হচ্ছেনা কোন আমদানি আর পণ্য রফতানি। ঠিক এই রকম পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শহরাঞ্চল তো বটে গ্রামাঞ্চলে মৃৎশিল্পীদের জীবন-জীবিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে ।

আরও পড়ুন: ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বাদুড়িয়া পৌরসভার প্রশাসকের

মেমারির পাল্লা ক্যাম্প এলাকায় তেমনই একটি দুর্দশার চিত্র উঠে এলো আমাদের ক্যামেরায়।  এইরকম দুর্দশা চলতে থাকলে কিভাবে চলবে তাদের সংসার, কিভাবে চলবে তাদের জীবনযাপন ,ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা  ,এই প্রশ্নের মুখে প্রত্যেকটা মৃৎশিল্পী। তাই তাদের এই দুর্দশার দিনে রাজ্য সরকারকে পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন প্রত্যেকটা মৃৎশিল্পী। অবিলম্বে রাজ্য সরকার যেন কিছু একটা পদক্ষেপ নেয় এবং তাদের পাশে দাঁড়ান  এই করুণ অবস্থায়।

 

 

Related Articles

Back to top button
Close