fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

কুলটিতে বেআইনী অস্ত্র কারখানার হদিশ, উদ্ধার প্রচুর পরিমাণে পিস্তল ও সরঞ্জাম

শুভেন্দু বন্দোপাধ্যায়, আসানসোল: আসানসোলের কুলটি থানার নিয়ামতপুরের নুরনগরে শুক্রবার রাতে একটি বড়সড় বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ পাওয়া গেলো। এদিন রাতে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের ১৩ জনের একটি দল আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের কুলটি থানা ও নিয়ামতপুর ফাঁড়ির পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে নুরনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ি থেকে এক বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ পায়। গ্রেফতার করা হয় মোট ৫ জনকে। উদ্ধার করা হয় তিনশোর বেশি অসম্পূর্ণ দেশী পিস্তল, ১০০ টিরও বেশি সম্পূর্ণ দেশী পিস্তল, প্রচুর পরিমাণে পিস্তল তৈরীর সরঞ্জাম লেদ মেশিন সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ। শনিবার ভোররাতে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের দল ধৃতদের সহ উদ্ধার হওয়া সবকিছু নিয়ে কলকাতা চলে যায়।

নিয়ামতপুর পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে গত প্রায় দেড় বছরের বেশী সময় ধরে চলা এই বেআইনি অস্ত্র কারখানা চললেও, স্থানীয় পুলিশের কাছে এর কোন খবর ছিল না । যা, নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গেছে, কলকাতার কাছে এক বেআইনি অস্ত্র কারখানায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের পরে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে যে, কুলটি থানার নিয়ামতপুরে নুরনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে এক অস্ত্র কারখানা চলছে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। শুক্রবার রাতে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের ১৩ জনের একটি দল কুলটিতে আসে। সেই দল থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঐ বাড়ির চারিপাশ ঘিরে ফেলে। এরপরে বাড়ির মালিক সহ ছয় জনকে আটক করে পুলিশ । এই ছয়জনের মধ্যে মালিক সহ দুজন ঝাড়খন্ডের ধানবাদের বাসিন্দা। বাকি চারজন রাঁচির বাসিন্দা বলে জানা যায় । পরে তার মধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বাড়ির মালিককে পুলিশ জেরা করে। ধৃতরা হলো মহঃ ইসার আহমেদ, মহঃ আরিফ, সুরজ কুমার, উমেশ কুমার ও অরুণ কুমার ভার্মা।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে জনবহুল এলাকার হাই স্কুলে ‘কোয়ারেন্টাইন সেন্টার’ তৈরির প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ স্বয়ং শাসকদলের

খবর পেয়ে রাতে চলে আসেন আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি ( পশ্চিম) অনমিত্র দাস । ধৃতদের নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় রাতেই । ঐ বাড়ি থেকে ছটিরও বেশি ডাইস পাওয়া গেছে। যা দিয়ে বেআইনী অস্ত্র তৈরি হতো। এছাড়া প্রচুর পরিমাণ অসম্পূর্ণ পিস্তল পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ জানতে পেরেছে, গত এক বছরের বেশি সময় অস্ত্র কারবারিরা এখানে অস্ত্র তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতো। এই বাড়িতে তারা ভাড়া নিয়ে কারখানাটি চালাচ্ছিল । পুলিশ ধৃতদের জেরা করে আরো তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স সূত্রে আরো জানা গেছে, বিহারের মুঙ্গেরের অস্ত্র কারবারিদের সঙ্গে এই কারখানার যোগাযোগ আছে।

অন্যদিকে, আসানসোল পুরনিগমের স্থানীয় ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ মির হাসিম বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছি ঐ এলাকায় মহঃ আশরাফ খান বলে কোন ব্যক্তি জমি কিনে বাড়ি করে। তারা ধানবাদের মহঃ আলম নামে কাউকে বাড়ি ভাড়া দিয়েছিল । বাড়ি ভাড়া নেয়ার সময় তারা বলেছিলো, সেখানে গাড়ির যন্ত্রাংশ এনে বিক্রি করা হবে। তাদের যেহেতু আরে কিছুটা বেশি জায়গা দরকার ছিল তাই পাশের ফাঁকা জমিতে তারা একটা ঘর বানিয়ে ছিল । মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে ভাড়া দেয়। রাতে জানতে পারি যে, ধানবাদের বাসিন্দা মালিক সহ ছয় জন কে পুলিশ আটক করেছে। প্রচুর জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। যা দিয়ে অস্ত্র তৈরি হতো। আমরাও চাই এই ঘটনার দোষীদের গ্রেফতার করা হোক।

Related Articles

Back to top button
Close