fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

ওপারে মণ্ডপ ভাঙা! বিক্ষোভে কলকাতার পুজো কমিটিগুলি 

রক্তিম দাশ: বাংলার রাজনৈতিকদল, হিন্দু সংগঠনগুলির পর এবার মৌলবাদীদের হাতে বাংলাদেশে পুজো মণ্ডপ ও প্রতিমা ভাঙা, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের বাড়িতে হামলা এবং খুনের ঘটনার প্রতিবাদে এবার বিক্ষোভে কলকাতার পুজো কমিটিগুলি। ‘সংহতি’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে সোমবার বিকেলে অ্যাকাদেমি অব ফাইন আর্টসের পাশে রাণু ছায়া মঞ্চে কলকাতার শতাধিক পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা সামিল হয়ে এই হিংসার প্রতিবাদ জানাবেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আহ্বায়ক প্রীতম সরকার বলেন,‘ এই ধরনের হিংসার ঘটনায় আমরা কলকাতার বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তরা ব্যথিত ও মর্মাহত। বাংলাদেশে নির্যাতিত সংখ্যালঘু হিন্দু ভাই-বোনদের পাশে দাঁড়াতে আমরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছি।

ইতিমধ্যেই সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো কমিটি তাঁদের মণ্ডপের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ করছেন। এবার তাঁদের এই প্রতিবাদের সঙ্গে আমরাও একত্রিত হচ্ছি। গান, কবিতা আর বক্তব্যের পাশাপাশি কলকাতার থিম পুজোর শিল্পীরা ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ করবেন।’এদিকে, বাংলাদেশের হিংসার প্রতিবাদে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দল ব্যারাকপুর চিড়িয়ামোড়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে। ভিএইচপির পূর্ব ক্ষেত্র সম্পাদক অমিয় সরকার বলেন,‘আমরা বাংলার সর্বত্র এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করছি। আমরা এর শেষ দেখতে চাই। বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমরা আবেদন করছি ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিন। হিন্দুদের স্থায়ী সুরক্ষার ব্যবস্থা করুন।’ এদিকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে আরএসএস।

সংঘের পূর্ব ক্ষেত্র সম্পাদক অজয় কুমার নন্দী আরএসএসের পক্ষ থেকে প্রেস বিবৃতিতে বলেছেন,‘বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মণ্ডপ ভাঙচুর, হিন্দুদের সম্পত্তি লুট, হত্যা এবং অত্যাচারের ঘটানায় আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ধরনের হিংসা ভারত এবং বাংলাদেশের সৌহার্দ্য ও সাম্প্রদায়িক সৌভ্রাতৃত্বের ওপর জেহাদিদের কুঠারাঘাত। ভারত সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক এবং মানবধিকারের প্রশ্নে ওপারের হিন্দুদের প্রাণ রক্ষা, সম্মানজনক ভাবে বাঁচার অধিকার, সম্পত্তির সুরক্ষার ব্যবস্থা অবিলম্বে সুনিশ্চিত করুন।’ এর পাশাপাশি এই ঘটনার প্রতিবাদ করে বাংলার জনগণের কাছে আরএসএস-এর আবেদন, “সাংবিধানিক উপায়ে এর সর্বাত্মক প্রতিবাদ করুন এবং ভারত সরকারকে হিন্দু সমাজের রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করুন।’’অন্যদিকে বঙ্গ বিজেপির উদ্বাস্তু সেলের পক্ষ থেকে রবিবার একটি প্রতিবাদ সভা করা হয় যাদবপুরে।

হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকেও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি মৌন মিছিল করা হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ২০ অক্টোবর কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ‘ওই দিন সকাল ১১ টায় শিয়ালদহ স্টেশন থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে আমরা পার্কসার্কাসে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে স্মারকলিপি দেব।  ১৯৪৬ সালে এই দিনে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন নোয়াখালিতে ব্যাপক দাঙ্গা হয়। হিন্দুদের মৃত্যু,ঘরবাড়ি,সম্পত্তি লুট হয়। সেই দুঃস্বপ্নের স্মৃতি আবারও ফিরিয়ে আনতে চাইছে বাংলাদেশের মৌলবাদীরা। হিন্দু হত্যা, দেবী প্রতিমা, মন্ডপ বিনষ্ট করা, হিন্দু সম্পত্তি লুট, অগ্নিসংযোগ করার মধ্য দিয়ে। হিন্দুরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তাদের পাশে থাকার বার্তা দিতে ওই দিন আমরা প্রতিবাদ করব।এটা সময়ের আহ্বান। এটা হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান।’

Related Articles

Back to top button
Close