fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

অতিক্রান্ত আড়াই বছর…আজও ভগ্নপ্রায় খন্যাডিহি-কাজিচক সুতি খালের সেতু

বাবলু ব্যানার্জি, কোলাঘাট: সালটা ২০১৮। এলাকার মানুষ পাকা সেতুর জন্য প্রথম দাবি করে, কিন্তু হয়নি। দেখতে দেখতে প্রায় আড়াই বছর অতিক্রান্ত, যেমন ভগ্নপ্রায় সেতু ছিল সেই একই ভাবে দাঁড়িয়ে আছে খন্যাডিহি কাজিচক খালের উপর একটি মাত্র কাঠের সেতুটি। কেন এখনও সরকারি বাঁধন থেকে মুক্তি পায়নি সেটাই এখন এলাকার সাধারণ মানুষের প্রশ্ন। গ্রামবাংলায় উন্নয়নের খামতি রাখা যাবে না সরকার বলছে, তখন কেনই বা সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই সেতু পাকা হবে না এই প্রশ্ন ও ওই এলাকার আনাচে-কানাচে শোনা যাচ্ছে। ভগ্নপ্রায় সেতু পারাপার হতে গিয়ে ঘটে গেছে অনেক দুর্ঘটনা। আগামী দিনের জন্য হয়তো আরও দুর্ঘটনা অপেক্ষা করছে।

এই সেতু দিয়ে স্থানীয় মানুষজনদের বেলডাঙ্গা হাটে যেতে হয়। ক্রেতা-বিক্রেতারা ও এই ভগ্নপ্রায় সেতু দিয়ে যায়। খন্যাডিহি হাইস্কুলের ছাত্র – ছাত্রী থেকে প্রাইমারি ও শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রছাত্রীরা নিত্য যাতায়াত করে। সেতুটি এলাকার প্রান্তিক চাষি থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের একমাত্র মাধ্যম। এই সেতু দিয়েই চাষীরা ফসল নিয়ে পারাপার করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হলেও সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এখনও পড়েনি এই সেতুটির প্রতি।

এলাকার মানুষজন সেতুটি কংক্রিট সেতুতে রূপ দেওয়ার জন্য স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি জেলাশাসক, কোলাঘাট পঞ্চায়েত সমিতি,ব্লক আধিকারিক, এসডিও( ইরিগেশন } পাঁশকুড়া, স্থানীয় গ্রাম প্রধানকে প্রদান করেন। কেবল বিষয়টি নজরে আছে বলে দেওয়া ছাড়া গ্রামবাসীদের ভাগ্যে কিছুই আশ্বাসের বাণী জুটেনি।

এলাকার মানুষজনদের স্বার্থেই স্বপন কুমার ভৌমিক, সঞ্জীব মন্ডল, বলরাম সামন্ত,প্রশান্ত সিংহ সহ অনেকেই তাদের ন্যায্য দাবি থেকে পিছিয়ে না এসে প্রশাসনিক স্তরে বারংবার বিষয়টি তুলতে থাকেন। ২৪-৯-২০১৯ সালে কোলাঘাট ব্লক আধিকারিক সেতু সংক্রান্ত বিষয়টি এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ডিপারমেন্ট পূর্ব মেদিনীপুর মেমো নম্বর ১৬০৭ (কোলাঘাট)ও সাব ডিভিশনাল অফিস (তমলুক) অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ইরিগেশন( পাঁশকুড়া) কে অবগত করান।

চিঠির আদান-প্রদান হলেও কোনরূপ ব্যবস্থা না করার গ্রামবাসীরা নিজেদের স্বার্থে ওই ভগ্ন সেতুর পাশ দিয়ে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা করেন তবে তা অস্থায়ী, স্থায়ী পাকা সেতুর ছাড়পত্র কবে পাবে তার জন্য আগে যেমন প্রশাসনিক স্তরে দরবার করা হয়েছে এখনো সমানভাবে করা হবে বলে জানান গ্রামবাসীদের পক্ষে সঞ্জীব মন্ডল।

স্থানীয় খন্যাডিহি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুপ্রিয়া পাঁজা কে ধরা হলে তিনি বলেন, এই সেতুটি ভগ্নপ্রায় হয়ে রয়েছে। পাঁশকুড়া ইরিগেশন অফিসে যাওয়া হয়েছিল কাঠের সেতু করে দেওয়ার জন্য বলেছিল। এলাকার মানুষদের দাবি এই সেতু কংক্রিটের সেতুই করতে হবে। প্রশাসনিক ছাড়পত্র হলে সেতুর কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

Related Articles

Back to top button
Close