fbpx
ব্লগহেডলাইন

বিজনসেতুর স্মৃতি ফিরে এল মহারাষ্ট্রের পালঘরে

পার্থ ধাড়া: বিজনসেতুর পুনরাবৃত্তি ঘটল এবার মহারাষ্ট্রের পালঘরে। তবে এবার আগুনে পুড়িয়ে নয়, পিটিয়ে খুন করা হল দুজন নিরীহ সন্ন্যাসী ও তাঁদের গাড়ির চালককে। মহারাষ্ট্র পুলিশের সামনেই গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনা ১৭ তারিখের হলেও কোনো মিডিয়াতে এই খবর দেখানো হয়নি। গতকাল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সন্ত হত্যার ভিডিও সামনে আসার পর থেকে সারা দেশ শিউরে উঠেছে। সন্তরা পুলিশের সামনে হাতজোড় করে প্রাণে বাঁচানোর আর্তি জানালেও পুলিশ কোনোরকম সাহায্য করেনি। দেশজুড়ে লকডাউন চলাকালীন মহারাষ্ট্রের পালঘরে প্রায় ২০০ লোক একত্রিত হয়ে জুনাগড় আখরার দুই সন্ত মহন্ত কল্পবৃক্ষ ও মহন্ত সুশীল গিরি এবং তাঁদের গাড়ির চালককে পিটিয়ে খুন করল। ভিডিওতে দেখা যায় যে রক্তাক্ত অবস্থায় এক বয়স্ক সাধু পুলিশের হাত ধরে বেরিয়ে আসছেন এবং তারপর বাইরে থাকা লাঠিধারীরা তাঁর উপরে চড়াও হয়ে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশও হত্যাকারীদের হাত থেকে বাঁচানোর কোনো চেষ্টাই করলেন না। যা দেখে শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোট সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন বিরোধীরা।

জানা যায় যে সন্তরা তাঁদের গুরুর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে মহারাষ্ট্রের কান্দীবলী থেকে গুজরাতের সুরাতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু পালঘর জেলার কাসা অঞ্চলে একটি গুজব রটে যায় যে কয়েকজন চোর চুরির উদ্দেশ্যে ঐ অঞ্চলে আসছে। খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে খবরটা। মূহুর্তের মধ্যে প্রায় দুশো লোক কাসা অঞ্চলে জড়ো হয়। এরপর সন্ন্যাসীদের গাড়ি কাছাকাছি আসলে গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয় এবং তারপর গাড়ি থেকে নামিয়ে চলে গণপিটুনি। একজন দুজন নয়, প্রচুর পুলিশকর্মী উপস্থিত থাকলেও সেইভাবে কাউকেই সন্তদের বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। শুধু তাই নয়, মৃত্যুর পরও তাঁদের যথেষ্ট সম্মান দেওয়া হয় নি বলে অভিযোগ করেন বিরোধীরা। মৃতদেহগুলি অ্যাম্বুলেন্সে করে না নিয়ে ধূলো ভর্তি মালবাহী গাড়ি করে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন: কোলাঘাটে বিজেপির পক্ষ থেকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

সাধু সন্তের দেশ ভারতবর্ষে এই সন্ন্যাসীদের উপর হামলাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না নেটিজেনরা। জুনাগড় আখরা হল সেই প্রতিষ্ঠান, যেখানে দুবছর আগে আখরার সর্বোচ্চ আসন মহামণ্ডলেশ্বরের পদে এক দলিত সাধুকে বরণ করা হয়। হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও জাতপাতের বাঁধন ভেঙে দেওয়ার জন্য যে আন্দোলন জারি আছে সেখানেও বড় ভূমিকা পালন করে এই জুনাগড় আখরা।তাবরেজ আনসারির ঘটনার পর গর্জে উঠলেও কিন্তু এই ঘটনার পর সুশীল সমাজ তথা সাহিত্যিক, শিল্পী বুদ্ধিজীবীদের নীরবতা তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই দেয়।

বিরোধীদের প্রবল বিরোধীতার পর গতকাল অনেক রাতে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে টুইট করা হয়েছে। তাতে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে বলেন যে “পালঘরের ঘটনা নিয়ে তদন্ত হয়েছে। দুই সাধু ও এক ড্রাইভার ও ঘটনার সময় উপস্থিত পুলিশ কর্মীদের উপর হামলাকারীদের সব অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ” তিনি বলেন, “এই জঘন্য অপরাধ ও লজ্জাজনক ঘটনার কোনো দোষীকেই ছাড়া হবে না, তাদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। ” মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশমুখ টুইট করে জানান যে পালঘরে হত্যার সঙ্গে যুক্ত একশো এক জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে । এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ তিনি দিয়েছেন । বিজেপির বরিষ্ঠ নেতা তথা মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবীশ এই মামলার উচ্চস্তরীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন ।

Related Articles

Back to top button
Close