fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশব্লগহেডলাইন

পরিযায়ীরা কাজ পেয়েছে উত্তরপ্রদেশে, বাকি রাজ্যগুলি সেই পথে কবে হাঁটবে…

রবীন্দ্র কিশোর সিনহা: সেই ভয়ঙ্কর এবং হৃদয় বিদারক চিত্রগুলির কথা মনে করুন, যা বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার সংক্রমণ চক্রকে ভাঙার জন্য লকডাউন করার পরে দেখছিলাম। সেই সময়ে, হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিকরা জাতীয় সড়কের মধ্যে দিয়ে হেঁটে নিজেদের গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।এই শ্রমিকদের ভিড়ে উত্তরপ্রদেশের শ্রমিকের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। লক্ষাধিক ছিল সেই সংখ্যা। তারা দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, সুরাট, বরোদা, আহমেদাবাদ, অমৃতসর, লুধিয়ানা, জলন্ধর, পটিয়ালা, ইন্দোর, চণ্ডীগড় থেকে নিজেদের পৈতৃক ভিটেতে ফিরে আসার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরলে যে তারা চাকরি পাবে, সেটা তারা জানত না। অর্থাৎ তাদের ভবিষ্যত গভীর অন্ধকারে নিমগ্ন বলে মনে হয়েছিল।

পথে বসে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে উত্তরপ্রদেশে সরকার যে ভাবে দাঁড়িয়েছিল, তা প্রশংসনীয়। সংকটকালে যোগী আদিত্যনাথের সরকার এই লক্ষাধিক শ্রমিকদের দক্ষতা এবং অতীতের অভিজ্ঞতার তথ্য নিয়ে ডেটাবেজ প্রস্তুত করেছিল এবং তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি দুর্দান্ত ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। উত্তরপ্রদেশ সরকার রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকসহ প্রায় ১. ২৫ কোটি মানুষের সম্মানজনক কর্মসংস্থান দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। এই উদ্যোগটি দেখায় যে উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রস্তুতি অবশ্যই কতটা নিবিড় এবং ব্যাপক ছিল।

আরও পড়ুন: কোভিড-১৯ মোকাবিলায় মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. হর্ষবর্ধন

এই উদ্যোগের কারণে উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রধানমন্ত্রীর গরিব কল্যাণ রোজগার অভিযানে অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে অনেক এগিয়ে। উত্তরপ্রদেশ সরকার প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কর্মসংস্থান দিতে চলেছে।প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষকে গ্রামীণ বিকাশের সঙ্গে যুক্ত করতে চলেছে।এ ছাড়া মুদ্রা যোজনার আওতায় কয়েক হাজার উদ্যমীকে ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

একটি বিষয় বুঝতে হবে যে সরকারগুলি যখন এই জাতীয় জনকল্যাণমূলক কাজ করে কেবল তখনই তার নৈতিকতা উন্নত হয়। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি এবং স্পেনের মতো উন্নত দেশগুলি উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছ থেকে শিখতে পারে কীভাবে তাদের জনগণকে করোনার মতো মহামারী থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এটি একটি কাকতালীয় ঘটনা যে এই চারটি দেশের মোট জনসংখ্যা উত্তর প্রদেশের সমান। ২৪ কোটি জনসংখ্যার উত্তরপ্রদেশ সরকার দুর্যোগকে সুযোগে পরিণত করার সুযোগ ছাড়েনি। সঙ্কটের প্রতিটি মোড়কে শক্তিশালী ভাবে মোকাবিলা করেছে।

এই সঙ্কটের সময় উত্তরপ্রদেশের ভাবমূর্তি আলোর মতো উত্থিত হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের ডাক্তার, প্যারামেডিক্যাল স্টাফ, পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষা কর্মচারী, পুলিশ, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, ব্যাংক ও ডাকঘর কর্মী, পরিবহন বিভাগ, ইত্যাদি এই সঙ্কটের প্রতি পূর্ণ নিষ্ঠার সঙ্গে অবদান রেখেছেন। আত্মনির্ভর উত্তরপ্রদেশের শুভারম্ভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঠিকই বলেছেন যে ইউরোপের চারটি বড় দেশ ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনের মোট জনসংখ্যায় উত্তরপ্রদেশের সমান। এই চারটি দেশে করোনার কারণে ১. ৩ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছেন এবং উত্তরপ্রদেশে কেবল ৬১১ জন মারা গেছেন। আমেরিকার কাছে সমস্ত কিছু থাকা সত্ত্বেও করোনার জেরে বিপর্যস্ত। আমেরিকার জনসংখ্যা ৩৩ কোটি।এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ মারা গেছে।উত্তরপ্রদেশেও যদি প্রাথমিক পর্যায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না যেত, তবে এখন অব্দি ৮৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারাতো।

আরও পড়ুন:সৎ বাবার বিকৃত যৌন লালসায় অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী, অভিযুক্তকে বেধড়ক মার প্রতিবেশীদের

লকডাউনের জেরে উত্তরপ্রদেশে ফিরে আসা ৩০ লক্ষ কাজ হারানো শ্রমিকদের জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রশাসনিক আমলারা প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

এর ফলস্বরূপ, মনরেগা, এমএসএমই, নির্মাণ প্রকল্প এবং পল্লী উন্নয়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যে মোট ১.২৫ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান। এটি আরও সহজ হয়েছিল কারণ উত্তরপ্রদেশের যোগী-সরকার আগে থেকে এক জেলা, এক শিল্প চিহ্নিত করে সমস্ত জেলার জন্য কাজ শুরু করেছিল। দেশের ভেতরে এবং বাইরে এরকম ঘটনা আগে কোনদিন ঘটেনি। এক কথায় বিষয়টি নজিরবিহীন।করোনার কারণে সৃষ্ট সঙ্কটে জেরবারদের জন্য ২৫ ধরণের কাজ চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে তারা সামঞ্জস্য হবে।

এজন্য এক ডজন বিভাগকে এর বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পল্লী উন্নয়ন, পঞ্চায়েতি রাজ, সড়ক পরিবহন, খনন, রেলপথ, পানীয় জল এবং স্যানিটেশন, পরিবেশ ও বন, পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস, বিকল্প তি্র উত্তরপ্রদেশের পরিযায়ী এবং বেকারদের জন্য আশ্বাসের কথা এলেও।বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্য প্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড প্রভৃতি রাজ্যগুলিকেও দ্রুত এই প্রচেষ্টা করতে হবে। শ্রমিকদের কিছু কাজ পাওয়া উচিত। বর্তমানে বেশিরভাগের কোনও কর্মসংস্থান নেই। পুরো দেশটি যখন দেখেছিল যে পরিযায়ী শ্রমিকরা বড় বড় সমস্যার মুখে তাদের বাড়ির দিকে হাঁটছিল। অনেকে রাস্তায় মারা যান, আবার অনেকে দুর্ঘটনায় এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।পরিযায়ী শ্রমিক প্রসঙ্গে যখন দেশের অন্যান্য রাজ্যের মনোভাব অমানবিক ছিল। তখন এই সকল শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে নজির সৃষ্টি করেছে যোগী সরকার। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপদে বাড়ি ফেরানোর জন্য যোগী সরকার সবার প্রথমে ১০০০০ বাস চালানোর কথা বলেছিল। উত্তরপ্রদেশ সরকার অন্যান্য রাজ্য থেকে আগত শ্রমিকদের চিকিত্সার জন্য ৫০০০০ এরও বেশি মেডিকেল টিম মোতায়েন করেছিল।

আরও পড়ুন:চিনা আগ্রাসনের প্রতিবাদে জোম্যাটো ডেলিভারি বয়দের প্রতিবাদ

যাইহোক, এখন পরিযায়ী শ্রমিকরা তাদের নিজ বাড়িতে পৌঁছিয়ে গিয়েছে। এখন রাজ্য সরকারগুলির উচিত তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ বড়, তবে উত্তরপ্রদেশ সরকার যদি ১. ২৫ কোটি মানুষকে কর্মসংস্থান দিতে পারে, তবে অন্য রাজ্যগুলি কেন পারবে না। স্থানীয়দের এখন তাদের বাড়ির আশেপাশে কর্মীদের কর্মসংস্থান দিতে হবে সরকারকে। এগুলি কুটির শিল্প বা কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত ছোট শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এই শ্রমিকদের বাচ্চাদের পড়াশোনা সম্পর্কেও ভাবতে হবে। সরকার তাদের বাচ্চাদের সরকারি স্কুলে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেবে। উত্তরপ্রদেশ সরকার যেহেতু একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে, তাই কেউই বলতে পারে না যে তাদের রাজ্যে এত শ্রমিককে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়।

(মতামত নিজস্ব)

Related Articles

Back to top button
Close