fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আতঙ্কে গর্ভের সন্তানকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে মা

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: করোনার আতঙ্কে নিজের গর্ভের সন্তানকেউ দূরে ঠেলে দিচ্ছেন মা।কিছুটা নিজেকে ও পরিবারের বাকি সদস্যদের বাঁচানোর জন্য এই নির্মম সিদ্ধান্ত। কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি সমাজের চাপে এই কঠিন কাজটা করতে হচ্ছে মায়েদের।

রবিবার শিলিগুড়ি মহকুমার মাটিগাড়া পালপাড়াতে মহারাষ্ট্র থেকে একদল শ্রমিক ফিরে আসেন। কিন্তু এলাকার মানুষ তাদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন। অসহায়ভাবে সেই শ্রমিকরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে। শিলিগুড়ি পালপাড়া থেকে বহু মানুষ মহারাষ্ট্র সহ বিভিন্ন রাজ কাজের জন্য গিয়েছিরেন। লকডাউন শুরু হতেই তারা আটকে পড়েন। অনেক কষ্ট করে সবকিছু হারিয়ে তারা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। কিন্তু পরিবার ও প্রতিবেশীরা তাদের বাড়িতে কেন, পাড়াতেই ঢুাতে দিচ্ছেন না। তাদের বক্তব্য, মহারাষ্ট্র করোনার হটস্পট। সেখান থেকেই আসা মানেই করোনা সংক্রমিত হয়ে আসা। তাই তাদের আগে সরকারি ব্যবস্থায় কোয়ারেন্টাইনে থেকে সব রকম পরীক্ষা ও চিকিৎসার পর বাড়িতে ফিরতে হবে।

ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের বক্তব্য, তাদের কাছে যে সরকারি কাগজপত্র রয়েছে সেখানে তাদের হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে অর্থাৎ,  নিরাটদ দূরত্ব বজায় রেখে বাড়িতে থাকতে হবে। কিন্তু পাড়ার লোক তা মানছেন না। তাহলে সরকারি ডাক্তার কেন বাড়িতে থাকার কথা লিখে দিচ্ছেন? তাদের এই প্রশ্নের উত্তরে এদিন পুলিশ প্রশাসন দিতে পারেনি। তাই স্থানীয় মানুষের চাপের কাছেই বাধ্য হয়ে পালপাড়ার এই শ্রমিকদের পুলিশ বিডিও অফিসের পথ দেখায়। দীর্ঘক্ষন জাতীয় সড়কে অসহায় ভাবে দাঁড়িয়ে থাকার পর সেই শ্রমিকরা আবার নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সারিবদ্ধ হয়ে মাটিগাড়া বিডিও অফিসের উদ্দেশ্যে হাঁটতে শুরু করেন।

আর দূর থেকে সন্তানের এই পরিণতি দেখে চোখের জল ফেলেছেন অনেক মা। আশালতা পাল (পরিবর্তিত নাম) এমনই একজন হতভাগ্য মা।  বাড়ির কাছে এসে বাড়িতে সন্তানের কাছে যেতে পারছেন না। এক কোনে গিয়ে আস্তে আস্তে বলেন, ‘আসলে সমাজের চাপে আমাকে বলতে হচ্ছে ছেলেকে বাড়িতে ঢুকতে দেব না। তা নাহলে আমাদেরও মারণ রোগ গ্রাস করবে। কিন্তু অন্তর বলছে অন্য কথা। অনেক কষ্ট করে যে সন্তানকে পৃথিবীতে এনেছি, কোলেপিঠে মানুষ করেছি তাকে কোনও মা দূরে ঠেলে দিতে পারে! কিন্তু সে কথা আজ কেউ শুনবে না। আজ সকলে বাঁচতে চাইছে। বাইরে থেকে এলেই মারণ রোগ নিয়ে এসেছে এটা সকলের মনে গেঁথে গিয়েছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোনও পথ নেই।’ আর এখানেই ধাক্কা খাচ্ছে সচেতনতা প্রচার, ‘ রোগী নয়, রোগের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই।’

Related Articles

Back to top button
Close