fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হিন্দু মুমূর্ষুর পাশে দাঁড়ালো মুসলিম যুবক, রক্তদানে সম্প্রীতির সুর

শান্তনু অধিকারী, সবং: রক্তের কোনও ধর্ম হয় না। বরং রক্তই মিলিয়ে দেয় ধর্মের পাতা। রক্তদানে লেখা হয় মানবধর্মের জয়গান। সেই জয়গানই আরও একবার ধ্বনিত হল। মুখরিত হল কবির সেই শাশ্বত উচ্চারণ, ‘সবার উপর মানুষ সত্য, তাহার উপর নাই।’ এমনই দৃষ্টান্তমূলক ঘটনার সাক্ষী থাকল ঘাটাল। যেখানে এক মুসলিম যুবকের রক্তে প্রাণ পেলেন এক হিন্দু মুমূর্ষু।

একে লকডাউন। তারওপরে রক্তের হাহাকার। ফলে কোটালপুরের বাসিন্দা, অর্শরোগী বছর পঞ্চান্নর নিরঞ্জন ঘোষকে নিয়ে রীতিমতো আতান্তরে পড়েছিলেন তাঁর পরিজনেরা। রক্ত অমিল হওয়ায় বারবার ফিরে আসতে হচ্ছিল হাসপাতাল ও নার্সিংহোম থেকে। এদিকে রোগির পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। ভর্তি করেন ঘাটাল শহরের একটি নার্সিংহোমে। কিন্তু রক্তের সংকটে তাঁর চিকিৎসাই শুরু করতে পারেননি চিকিৎসকেরা। মরিয়া হয়ে নিরঞ্জনবাবুর পুত্র বিশ্বনাথ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। রক্তের আবেদন জানিয়ে। সেই পোস্ট দেখেই এগিয়ে আসেন ঘাটালের কুশপাতা এলাকার বাসিন্দা, শিক্ষক ও সমাজসেবী কোনি আনসারি। বিশ্বনাথের কথায়, ‘বাবাকে নিয়ে পুরো দিশাহারা হয়ে পড়েছিলাম। বুঝতে পারছিলাম না, কী করব। এমন সময় উনি যেন দেবদূতের মতো পাশে এসে দাঁড়ালেন।’

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ১২’শ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী উপহার দিলেন বিএনপি নেতা জনি

কোনির রক্তে প্রাথমিক সংকট মিটেছে রোগীর। রোগীর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চিকিৎসাও শুরু হয়েছে নিরঞ্জনবাবুর। অনেকটাই আশ্বস্ত তাঁর পরিজনরা। কোনিও তৃপ্ত এইভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে। বললেন, ‘ফেসবুকের পোস্ট দেখেই জানতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে নিজের থেকে যোগাযোগ করি ওনাদের সাথে। তারপর গিয়ে রক্ত দিয়ে আসি।’ আরও জানালেন, রোগীর ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে তাঁর কোনও মাথাব্যথাও ছিল না। মানুষ হয়ে মানুষের ধর্ম পালন করেছেন, এতেই কোনি খুশি। খুশি নিরঞ্জনবাবুর পরিজনরাও। বারবার তাঁরা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছিদেন কোনির প্রতি।

গল্পের ‘কোনি’ ক্ষুধাকে হারিয়ে সাঁতারে এনেছিল জয়ের শিরোপা। আর বাস্তবের এই কোনি? ধর্মের গোঁড়ামিকে হারিয়ে গড়ে দিলেন ভালোবাসার নতুন দৃষ্টান্ত। ‘রমজান মাসে এমন এক পবিত্র কাজের সুযোগ পেয়ে আমি ধন্য’, তৃপ্তির সুর কোনি আনসারির কণ্ঠে।

Related Articles

Back to top button
Close