fbpx
কলকাতাহেডলাইন

নয়া শিক্ষানীতি পড়ুয়াদের একাধিক পথ খুলে দিয়ে আত্মনির্ভর করে তুলবে, জানালেন বিদ্যাভারতী তারক দাস

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রের নয়া শিক্ষানীতি পড়ুয়াদের একাধিক ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর করে তুলবে। জানালেন বিবেকানন্দ বিদ্যাবিকাশ পরিষদের দক্ষিন বঙ্গ সম্পাদক তারক দাস। সোমবার এক সক্ষাতকারে তিনি এভাবেই কেন্দ্রের নয়া শিক্ষা নীতিকে সমর্থন জানালেন। তাঁর মতে, পড়ুয়াদের জন্য একাধিক নতুন ক্ষেত্র খুলে দেওয়া হয়েছে যেখান থেকে মূল বিষয়ের পাশাপাশি নিজের পছন্দ মত ঐচ্ছিক বিষয় চয়ন করে আত্মনির্ভর হয়ে উঠতে পারবে। বাংলা জুড়ে যখন নয়া শিক্ষা নীতি নিয়ে সোরগোল তখন কেন্দ্রের এই শিক্ষা নীতিকে সমর্থন জানালেন তারক দাস। তিনি বলেন, ‘ এই শিক্ষানীতি আগের থেকে অনেক গুন ভালো। অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। অনেক ডিপার্টমেন্ট কেও এক করা হয়েছে। এটা শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন। যা পুরোটাই ভারতীয় দর্শনের উপর ভিত্তি করে। পাশাপাশি নতুন শিক্ষানীতি গ্রহণ করার আগে এক লক্ষের বেশি গ্রাম থেকে শিক্ষাবিদদের মতামত নেওয়া হয়েছে। সেই মতামতের ভিত্তিতেই এই নতুন শিক্ষা নীতি কে প্রবর্তন করা হয়েছে। যা আগামী দিনে দেশের পড়ুয়াদের জন্য ভালো হবে।’

এ প্রসঙ্গে তারক বাবু আরও বলেন, ‘ শিক্ষাক্ষেত্র কে সম্পূর্ণ অটোনোমাস করা উচিত আইনের মতো। যেখানে রাজনীতির কোনো প্রভাব থাকবে না। এতদিন পর্যন্ত আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলো নিজের নিজের মত করে শিক্ষা নীতি চালাত। যার সঙ্গে ভারতীয় দর্শনের কোন সামঞ্জস্য ছিলনা। কিন্তু এই নতুন শিক্ষানীতি ভারতীয় দর্শন কে সামনে রেখে তৈরি হওয়ায় সঠিক রাস্তায় এগোতে পারবে।’ পাশাপাশি, ‘আগে প্রি প্রাইমারি শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাকেও নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৫,৩,৩,৪ পদ্ধতিতে পড়ুয়াদের পড়ার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। আগে যেখানে কেউ বিএসসি পড়ছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না পুরোটা শেষ হচ্ছে সার্টিফিকেট পেতেন না। কিন্তু এখন যতটা পড়বেন ততটাই সার্টিফিকেট পাবেন। পাশাপাশি ভোকেশনাল ট্রেনিং হাতে-কলমে চালু করা হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে। যা পড়ুয়াদের শিক্ষার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে নিজের ইচ্ছা পূরণ করবে। একই সঙ্গে আত্মনির্ভর করে তুলবে।’

এ বিষয়ে বিদ্যাভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থান -এর রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষ শ্ৰী ডি . রামকৃষ্ণ রাও মহাশয় এক প্রেস বিবৃতি জানিয়েছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা , বর্তমানের চ্যালেঞ্জ তথা ভবিষ্যতের আবশ্যকতাকে মাথায় রেখে নির্মিত রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতি । গবেষণা – শিক্ষা মূলক সম্প্রদায় , বুদ্ধিজীবী , চিন্তাবিদ , শিক্ষার জননেতা , প্রশাসক , অন্যান্য স্টেক হােল্ডার সহ ভৌগােলিকভাবে এক লক্ষেরও বেশি গ্রামসমূহ থেকে এবং সেমিনার ও কর্মশালা করে , প্রতিটি স্তরে আলােচনা সভা ইত্যাদি করে দীর্ঘ ছয় বৎসর পরামর্শের পর বহু প্রতীক্ষিত ” রাষ্ট্রীয় শিক্ষা মূলক নীতি – ২০২০ ” ভারত সরকার দ্বারা অনুমােদিত হয়েছে এবং বর্তমানে তা জনসাধারণের কাছে উপলব্ধ । এই শিক্ষানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভাবে প্রচলিত ধারাকে ভেঙেছে এবং রূপান্তরিত পরিবর্তন হয়েছে – যা অত্যন্ত সাধুবাদ এবং গুণগ্রাহিতার দাবি রাথে । নতুন রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতিতে ২১ তম শতাব্দীর দক্ষতা এবং মূল্য আধারিত মানুষ নির্মাণের শিক্ষাকে অবহেলা না করে সমগ্র বিকাশ সমন্বিত ( সংহত ) , ব্যাপক এবং সকল অন্তর্ভুক্ত উচ্চমানের শিক্ষার পথ প্রদর্শিত হয়েছে ।

বিদ্যাভারতী ” রাষ্ট্রীয় শিক্ষা নীতি -২০২০ ” – র জন্য সমগ্র দেশবাসীকে আন্তরিক ভাবে সাদর সম্ভাষণ জানায় এবং তার সাথে এটি বিশ্বাস করে যে প্রত্যেকটি নীতির সফলতা নির্ভর করে সেটির সাথে জনগণের সম্পৃক্ততা অংশগ্রহণ এবং অনুসরণ মূলক ক্রিয়ার উপর । প্রাক- বিদ্যালয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সমগ্র বিকাশমূলক শিক্ষার লক্ষ্যে কযেকটি মূল পদক্ষেপসহ পাঠক্রম পরিবর্তন এবং বিদ্যালয় শিক্ষার শিক্ষাগত পরিকাঠামাের রূপান্তরণ ( ৫ + ৩ + ৩ + ৪ ) বৃত্তিমূলক শিক্ষার সাথে সমন্বিত । ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা , পুষ্টি , অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্ব – সহায়তা দক্ষতার বিকাশ এবং খেলা আধারিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিযে শৈশবের শুরুতে শিশু পরিচর্যা এবং শিক্ষা ( early childhood care and education – ECCE ) সুশৃংখল ও পদ্ধতিবদ্ধ ভাবে করা হচ্ছে , যার ফলে ১০ লক্ষ অঙ্গনওয়াড়িদের খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে ৭ কোটি শিশুকে শিক্ষার মূল স্রোতে আনার প্রচেষ্টা একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ ।

স্কুল ছুটের ( drop out ) হার কমাতে , তাদের বিদ্যালয় শিক্ষার সুযােগ সুবিধা আরও প্রশস্ত করতে ঔপচারিক ও লোপচারিক উভয় পদ্ধতিতে সম্পর্কিত বিষয় শেখার একাধিক উপায় হল এই শিক্ষানীতির একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । বর্তমান আর্থ – সামাজিক পরিবেশের সুবিধাবঞ্চিত গােষ্ঠীর সকলের জন্য ন্যায়সঙ্গত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এর বিশেষ কেন্দ্রবিন্দু এবং এর সাথে বিদ্যালয় শিক্ষায় বাস্তব ব্যবধান কমাতে পৃথক কৌশল গ্রহণ হল একটি অন্যতম অসাধারণ বৈশিষ্ট্য । জীবনের জন্য আবশ্যক কৌশল ও ক্ষমতার বিকাশ , শিখন উদ্দেশ্য আধারে বিষযের সমগ্রতা ও সমন্বিত শিখন , বৈজ্ঞানিক মানসিকতার বিকাশ , ডিজিটাল সাক্ষরতা তথা বহু ভাষাতে শিক্ষণ কার্যকে প্রােৎসাহনের মাধ্যমে ভারতীয় ভাষার বিকাশ দ্বারা ক্র্যিা আধারিত অভিজ্ঞতা মূলক শিখন একটি শিশুকে কেবলমাত্র বর্তমানের জন্য নয় । পরন্তু ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে । বরং মূল্যায়ন পদ্ধতিকে কেবল পরীক্ষা কেন্দ্রিক না রেখে , একটি ছাত্রের মূল্যায়ন বহুমাত্রিক মাপকাঠিতে করার দিশা নির্দেশে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে – তা এই প্রণালীকে সরল এবং অধিক সমগ্র রূপ দেবে । সামগ্রিক অগ্রগতির কার্ডের মাধ্যমে এই উদ্ভাবনী ( নবাচার ) প্রক্রিয়া খুবই ভালাে ফলাফল দেবে ।

আরও পড়ুন: সুস্থতার সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও! রাজ্যে ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত ২৭১৬, মৃত্যু ৫৩, সুস্থ ২০৮৮

প্রত্যেকেই শিক্ষক – শিক্ষায় সংস্কারের সন্ধান করছিলেন , যার জন্য এই ” জাতীয় শিক্ষানীতি – ২০২০ ” আমাদের কাছে একটি নতুন দিগন্ত এবং ব্যাপক জাতীয় প্রত্যাশা প্রদানের জন্য অধিক সমাবেশী রাষ্ট্রীয় পাঠ্যচর্যা সমন্বিত ২০২১ সালের মধ্যে নতুন শিক্ষক – শিক্ষার পাঠ্যক্রমের কাঠামাে খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশিত হবে । উচ্চশিক্ষায় অনেক প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনা হয়েছে । স্নাতক স্তরে চার বর্ষীয় পাঠ্যক্রমে একাধিকবার প্রবেশ – প্রস্থান এর সুযােগ দেওয়া । হয়েছে , যা বিদ্যার্থীদের জন্য একটি ভালাে বিকল্প । অনেকগুলি নিয়ামক সংস্থার বিলীন ঘটিয়ে একটি সশক্ত নিয়ামক সংস্থা গঠন প্রক্রিয়া । স্বাগতযােগ্য পদক্ষেপ । একটি নতুন রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধানের মাধ্যমে শৈক্ষিক গবেষণার বিবিধ ক্ষেত্রগুলির সমাবেশ তথা গুণবত্তার বিকাশ ঘটানাের প্রয়াস – প্রসন্নতার বিষয় ।

বিদ্যাভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থান ‘ একটি দেশব্যাপী শিক্ষা । সংগঠন | তারই অধীনে ‘ বিবেকানন্দ বিদ্যাবিকাশ পরিষদ ‘ সারা দক্ষিণবঙ্গে শিশু মন্দির যােজনার মাধ্যমে এই সংগঠনের কাজে রত । এই দক্ষিণবঙ্গে ২০৫ টি শিশুমন্দির বিদ্যামন্দির -এ ২৩৩৫ জন আচার্য – আচাৰ্যার ( শিক্ষক – শিক্ষিকা ) পথপ্রদর্শনে ৫০,০১৩ জন ভাই – বােন ( ছাত্র – ছাত্রী ) অধ্যয়নরত আছে । এরই সাথে অনুন্নত এলাকায় ৩০ টি সংস্কার কেন্দ্র ( অনৌপচারিক বিদ্যালয় ) -এ ৭০৫ জন ভাই – বােন সংস্কাররত রযেছে । তদনুরূপ পরিষদের মার্গ দর্শক বিদ্যাভারতীর নেতৃত্বে সারা দেশব্যাপী সকল প্রান্তে ১২৮৩০ ঔপচারিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১.৫ লক্ষ আচার্য – আচার্যার মার্গ দর্শনে ৩৪.৫ লক্ষ ছাত্র – ছাত্রী অধ্যয়নরত । এছাড়াও বিদ্যাভারতী সুদূর জনজাতি ক্ষেত্রে প্রায় ৫০০০ একল বিদ্যালয় এবং সেবা বস্তিতে প্রায় ৬৫০০ টি সংস্কার কেন্দ্র সঞ্চালিত করে থাকে । কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা চিরপ্রতিক্ষিত রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি ঘােষিত হয়েছে । ‘ বিবেকানন্দ বিদ্যাবিকাশ পরিষদ ‘ তথা ‘ বিদ্যাভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থান ‘ এই ‘ রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি -২০২০ ‘ কে স্বাগত জানায় । ‘

Related Articles

Back to top button
Close