fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জাতীয় সড়কের পাশে আমরন ধর্ণায় নবদম্পতি

মিলন পণ্ডা, কাঁথি: বাঁচার ও গহনা ফেরতের দাবিতে আমরন ধর্নায় বসল এক নবদম্পতি‌। অসহায়তা যেন পিছু ছাড়ছে না ওই নববিবাহিত দম্পতির।বাসস্থানের জন্য ঠাঁই হয়নি বাপের বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে। রাস্তা যেন ওদের স্থায়ী বাসস্থান হয়ে উঠেছে। অবশেষে জীবন যুদ্ধে লক্ষ্যে পথে নেমেই চড়া রোঁদে আমরণ অনশনে ধর্নায় বসলেন নবদম্পতি। রবিবার সকাল থেকে দিঘা নন্দকুমার জাতীয় সড়কের কাঁথির দিঘা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় আমাকে বাঁচতে দাও , আমাদের গহনা ফিরিয়ে দাও পোস্টার নিয়ে ধর্নায় বসে পড়েন দম্পওি। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরই জাতীয় সড়কের পাশে ভীড় জমতে থাকে। দিঘা বেড়াতে আসা পর্যটকরা রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে স্থানীয় বাসিন্দারা ভীড় জমাতে থাকে। এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কাঁথি থানার বিশাল পুলিশবাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগিয়েছে, প্রেম সম্পর্কে জ্বড়িয়ে পড়েন মেহেবুব ও সুমিতা। বাবা মার অমতে দুজনেই বিয়ে করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। অবশেষে ২০১৮ সালে ১৮ই মে সামাজিকতা মতে তাদের বিবাহ বন্ধনের আবদ্ধ হয়। মেহেবুব এর বাবা অনল দাস সহকারী চাকুরীজীবী ও অশ্রুকণা দেবী স্থানীয় একটি হাই স্কুলের শিক্ষিকা। কোন রকমের পায়ে হাতে ধরে বাড়িতে ঠাঁই হলেও দাবিমতো পর না দেওয়ায় বৌমা ও ছেলের উপর দিনের-পর-দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত অনল ও পরিবারের সদস্যরা বলে এমনটাই অভিযোগ। বিয়ের পর বৌমা পড়াশোনা করতে চাইলে বেঁকে বসেন শ্বাশুড়ি। গত কয়েক মাস আগে ছেলের বৌমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে শ্বশুর-শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, এতদিন ধরে খাইয়েছি পরিয়েছি বলে তার মূল্য হিসেবে বৌমার সমস্ত সোনার গহনা রেখে দেয়। সেই সোনার গহনা আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দশ লক্ষাধিক টাকা।

এরপর তারা সেখান থেকে ছেড়ে কাঁথি শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন ওই দম্পতি। টিউশান পড়িয়ে কোনরকমে দিন যাপন করছিলেন।লকডাউন পড়ে যাওয়ায় সমস্ত টিউশান বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে সমস্যায় পড়েন ওই দম্পওি। খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার জন্য তার স্ত্রীর গহনা বাবার কাছে ফেরত চায়। উল্টে বাবা-মা উত্তেজিত হয়ে ছেলে ও বৌমাকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয় ছেলেকে জামাপ্যান্ট সহ কিনে দেওয়া পরনে বস্ত্র তুলে নেয় বাবা বলে অভিযোগ। ছেলে বৌমাকে লাথি মেরে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। তবুও বাবার কাছে হাতজোড় করে গহনা চাইতে গেলে লাঠি দিয়ে ছেলের হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ উঠে বাবার বিরুদ্ধে। কোনরকমে ছেঁড়া জামা কাপড় পড়ে মান্দারমনি উপকুল থানায় হাজির হয় নবদম্পতি। ১ জুলাই এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। আরও জানা গিয়েছে মান্দারমনি উপকূল থানার কালিন্দী গ্রাম পঞ্চায়েতের সুপ্রিয়া তে তাদের একটি বাড়ি রয়েছে। সেখানে তালা বন্ধ করে কাঁথিতে চলে আসেন। চাকরিসূত্রে কারণে কাঁথি শহরে বাড়ি করে থাকেন অনল বাবু সহ তার পরিবারের লোকেরা। অভিযোগ পাওয়ার পরেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে ওই নবদম্পতির অভিযোগ। পুলিশের ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই নবদম্পতি।

দম্পওি সুমিতা মিশ্র (দাস) বলেন আমাদের বিবাহ সূত্রে সমস্ত গয়না আসবাবপত্র শ্বশুর-শ্বাশুড়ি কেড়ে নিয়েছে। এই ঘটনায় অনেকবার ধরে বলেছি, পায়ে পড়ে কেঁদেছি তবু শ্বশুর-শ্বাশুড়ি সেই গহনা দেয়নি। গহনা ও আসবাবপত্র ফিরে পাওয়ার জন্য বহু ব্যক্তিকে জানিয়েছি। পুলিশকে অভিযোগ জানিয়ে কোন লাভ হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমার পেটে লাথি মেরেছে ও আমার স্বামীর মেরে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে শ্বশুরমশাই। এখন আমরা রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছি। প্রশাসন যদি কোন ব্যবস্থা না করে আগামী দিনে হয়ত রাস্তায় পড়ে মরে যাবো। অনল দাসের ছেলে মেহেবুব দাস বলেন ছ’মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে আমি বাড়ী ছেড়েছি। আমার স্ত্রী পড়াশোনা করার জন্য আবেদন জানিয়েছিল। মা ও বাবা জানায় পড়াশোনা করা যাবেনা, বাড়ির সমস্ত কাজ করতে হবে। স্ত্রীর উপর নির্মম অত্যাচারের প্রতিবাদ করলে আমাকে জুতো ও লাঠি মেরে মাথা ফাটিয়ে দিত। কয়েকদিন আগে আমার জিনিসপত্র ফেরৎ নিতে বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখনই বাবা ও মা বেধড়ক মারধর করে। জিনিসপত্র না দিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

কাঁথি মহাকুমা পুলিশ আধিকারিক অভিশেষ চক্রবর্তী বলেন, মান্দারমনি উপকূল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। রবিবার সকালে ওই দম্পতি কাঁথি দীঘা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ধর্নায় বসেছিলেন। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখা হচ্ছে‌। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। যদিও এ ব্যাপারে অনল দাস তার পরিবারের কোনো সদস্যের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য ফোন করা হলে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।

Related Articles

Back to top button
Close