fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মালদায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৩

মিল্টন পাল, মালদা: পরিযায়ী শ্রমিক জেলায় ফিরতেই বাড়ছে করোনা সংক্রমন। ইতিমধ্যে শনিবারের পর আরও তিন জনকে করোনা সন্দেহ করা হচ্ছে। এরই লকডাউন চলাকালীন দিল্লি থেকে সড়ক পথে অটো নিয়ে ফিরেছে পরিযায়ী শ্রমিকের দল। আর তাতেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে চাঁচোল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকায়। এনিয়ে মালদায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ালো ১৩ প্রশাসনের একটি সূত্রের খবর।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দুইজন মানিকচক এবং রতুয়া ব্লকে তিন পরিযায়ী করোনা শ্রমিক আক্রান্ত হওয়ার পর, তাদের মধ্যে প্রথম দুইজনকে শিলিগুড়ি কোভিক-১৯ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে যাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে পুরাতন মালদার নারায়ণপুর এলাকার কোভিক-১৯ হাসপাতালে। প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত মালদায় করোণা পজিটিভের সংখ্যা ছিল ১০। রবিবার নতুন করে আজমের ফেরত আরও তিন পরিযায়ী শ্রমিকের লালারস পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়েছে। তিন জন বাদে ১০ জনই রয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের একটি গ্রামের বাসিন্দা।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে আজমের থেকে ২৭৯ জন পরিযায়ী শ্রমিকদের কয়েকটি বাসে করে সরকারি উদ্যোগে মালদায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করে প্রশাসন‌। এরপর ওইসব শ্রমিকদের শারীরিক পরীক্ষা লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারপর থেকেই একটার পর একটা করোনা সংক্রমনের খবর বেরিয়ে আসছে । এতে করে চাঁচোল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গোটা হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দারা। বাইরে থেকে কিভাবে অটোতে করে পরিযায়ী শ্রমিকের দল সড়ক পথ দিয়ে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর এ চলে গেল তা নিয়েও অসন্তোষ ছড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে।

আরও পড়ুন: অনলাইনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হরিশ্চন্দ্রপুর থানার মধ্যগ্রামের বাসিন্দা রঞ্জিত মন্ডল বলেন, এদিন সকালে আমরা দেখতে পাই দিল্লির নম্বর প্লেট লাগানো দুটি অটোরিকশা ভর্তি পরিযায়ী শ্রমিকের দল হরিশ্চন্দ্রপুর এসেছেন। কিভাবে তারা এতদুর থেকে মালদায় আসতে পারলো। পুলিশ এবং প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন তা নিয়ে সরব হয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, যারা বাইরে থেকে আসছেন তাদের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখার কোন ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত কোরেন্টাইন সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে যার মতো বাড়ি চলে যাচ্ছেন। হোম কোয়ারান্টিনেও পরিযায়ী শ্রমিকরা থাকছেননা। স্বাভাবিক কারণেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুরে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এতদিন করোনা সংক্রমনের কোন খবরই ছিল না এলাকায়। কিন্তু আজমের থেকে পরিযায়ী শ্রমিকের দল আসার পর একটার পর একটা করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ছে এই এলাকায়। যাতে করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

অন্যদিকে বিভিন্ন রাজ্য থেকে পরিচয় শ্রমিকদের নিয়ে একটি ট্রেন মালদায় ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।এই নিয়ে জেলা পুলিশ প্রশাসন ও রেলের থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই নিয়ে জেলা প্রশাসন ও রেলের তরফ থেকে ঘন ঘন বৈঠক করা হয়।এদিন বিভিন্ন রাজ্য থেকে মালদা জেলায় প্রায় 9 টি বাস আসলেও দেখা যায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে সোয়াব টেষ্ট শ্রমিকেরা না করেই নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়। মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ অমিত দাঁ বলেন,২৭৩৩ জনের পরীক্ষা করানো হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬জনের পজেটিভ এসেছে। যার মধ্যে তিনজন অন্য জেলার।

Related Articles

Back to top button
Close