fbpx
কলকাতাহেডলাইন

মাদ্রাসায় অমুসলিম ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা বেশি, শিক্ষক শিক্ষিকা ৬০ শতাংশ হিন্দু, মন্তব্য বোর্ডের

মোকতার হোসেন মন্ডল: হাইমাদ্রাসায় রাজ্যে ষষ্ঠ স্থান অধিকারী বীরভূমের জগন্নাথ দাসকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে জানাগেছে, রাজ্যের কিছু মাদ্রাসায় মুসলিমদের থেকে অমুসলিম অর্থাৎ হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। এমনকি অমুসলিম শিক্ষক শিক্ষিকাও বেশি। জগন্নাথকে পাঠানো চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন,”হাই মাদ্রাসায়,২০২০ পরীক্ষায় তুমি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছো। এরজন্য তোমাকে অনেক,অনেক অভিনন্দন। সাথে সাথে তোমার অভিভাবক, শিক্ষক শিক্ষিকা ও সকল শুভানুধ্যায়ীকেও আমার অভিনন্দন জানাই।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন,”জীবনে অনেক বড় হও,সফল হও, এই শুভকামনা রইলো।’ এরপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ, ‘ভালো থেকো,সুস্থ্ থেকো, সাবধানে থেকো।’ বীরভূম জেলার দুবরাজপুরের খন্ডগ্রাম ডিএস হাইমাদ্রাসার ছাত্র জগন্নাথ দাস ৭৬০ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় ষষ্ট স্থান অধিকার করেছে। জগন্নাথের খন্ডগ্রাম পাড়াতেই অবস্থিত এই মাদ্রাসা। তাদের পাশের পড়াতেই রয়েছে একটি বিরাট স্কুল। তারপরেও, জগন্নাথ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছে। জগন্নাথের বাবা দিনবন্ধু দাস বলেন, ‘আমরাও এই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছি। আমাদের পাড়ার ছেলে মেয়েরা এই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে বড় হয়েছে। অনেকে ভালো জায়গায় চাকরিও করছে।’

আসলে মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাদ্রাসাগুলি সঙ্গে স্কুলের কোনও পার্থক্য নেই। সিলেবাসও একইরকম। শুধু মাদ্রাসায় একটি বিষয় বেশি পড়ানো হয়। সমস্ত স্কুলে আরবি ভাষা পড়ানো হয় না। কিন্তু সমস্ত হাইমাদ্রাসায় ১০০ নম্বরের আরবি ভাষা পড়ানো হয়। তাই, বাংলা, ইংরাজি, হিন্দির সঙ্গে আরবি ভাষা শেখার জন্য বহু অমুসলিম ছেলে মেয়েরাও মাদ্রাসায় ভর্তি হচ্ছে। যার ফলে দিন দিন বেড়েই চলেছে অমুসলিম পড়ুয়ার সংখ্যা।

একা জগন্নাথ নয়, এবারে হাইমাদ্রাসায় ৫৭৩৮ জন অমুসলিম ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় বসেছিল। এর মধ্যে ছাত্র ১৭১৬ আর ছাত্রী ৪০২২। গত বারের তুলনায় এই সংখ্যাটা অনেকটাই বেশি। এর মধ্যে অর্থেক এসসি, এসটি ও ওবিসি সম্প্রদায় ভুক্ত। অসুমলিম পরীক্ষার্থীদের মধ্যে এবারে পাশ করেছে ৪৬৮১। শতকরা ৮১.৫৬ শতাংশ। মাদ্রাসা পর্ষদের সভাপতি ড: আবুতাহের কামরুদ্দিন বলেন, ‘অমুসলিম ছাত্রছাত্রীরাও মেধায় তালিকায় স্থান পাচ্ছে। একটা আমাদের কাছে ভালো দিক। সেইসঙ্গে প্রতিবছরেই অমুসলিম পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে। এটা আমাদের কাছে গর্বের।’

আরও পড়ুন: কলকাতায় একাধিক কোভিড হাসপাতালের জন্য ৪ হাজার শয্যা ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এবার মোট ১২.৫% অমুসলিম ছাত্র ছাত্রী হাইমাদ্রাসার পরীক্ষা দিয়েছিল,এরমধ্যে ছাত্র ৩০% ও ছাত্রী ৭০%। বোর্ডের সভাপতি জানাচ্ছেন, মাদ্রাসা মানে বিদ্যালয়। তাই সব সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা এখানে পড়াশোনা করে। তাঁর মতে, বিগত কয়েক বছরে মাদ্রাসাগুলির পরিকাঠামোর ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। শুধু ভবন সংস্কার নয়, স্মার্ট ক্লাসরুম, শৌচাগার, পানীয় জলের ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। মিনা মঞ্চের মতো প্রকল্প চলছে ছাত্রীদের নিয়ে। তারা নাবালিকা বিয়ে রোধ করা থেকে শুরু করে মাদ্রাসাছুটদের ফিরিয়ে আনার কাজ করে। এতে প্রশাসনের সঙ্গেই হাত মিলিয়ে চলে তারা। এর প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলেও পড়ছে।

মাদ্রাসা বোর্ডের সভাপতি কামরুদ্দিন বলেন, মাদ্রাসা শব্দের অর্থ শিক্ষালয়। তাই একে শুধুমাত্র মুসলিমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ভাবলে হবে না। প্রত্যন্ত বহু জায়গাতেই অমুসলিম ছাত্রছাত্রীরা মাদ্রাসায় পড়ে। মাধ্যমিকের সিলেবাস মেনেই পঠনপাঠন হয়। তাদের শুধু আরবি এবং ইসলাম পরিচয় বিষয় দু’টি বাড়তি পড়তে হয়। শিক্ষক শিক্ষিকারা আছেন সব সম্প্রদায়ের। আর মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এখন যারা নিয়োগপ্রাপ্ত পাচ্ছেন তাদের ৬০ শতাংশই হচ্ছে হিন্দু। বীরভূমের একটি মাদ্রাসায় পড়ুয়াদের মধ্যে সংখ্যাধিক্য হচ্ছে হিন্দুদের।

Related Articles

Back to top button
Close