fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

লকডাউনে বন্ধ আয়ের একমাত্র রাস্তা, পরিবার নিয়ে সঙ্কটে বানা শিল্পীরা

সুকুমার রঞ্জন সরকার, কুমারগ্রাম: বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের সংরক্ষিত ছিপড়া বনাঞ্চল লাগোয়া উত্তর পারোকাটা, ছিপড়া ও নারারথলি গ্রাম কয়টি গড়ে উঠেছে অনুর্বর, চাষ বাসের অনুপযুক্ত জমিতে। চাষ আবাদ না হওয়ায় গ্রাম তিনটিতে বসবাস কারি হাজার খানেক পরিবারের আয়ের একমাত্র উপায় বানা তৈরি করা।

 

 

বানা হল বাঁশ থেকে তৈরি এক ধরনের মাদুর। এটি তৈরি করতে গেলে প্রথমে বাঁশ কে নির্দিষ্ট মাপ অর্থাৎ মাদুরের মাপে টুকরো করে নিতে হয়। তারপর সেই টুকরো থেকে দা দিয়েপাতলা ছিল্কা বা বেত তুলতে হয়। এই ছিল্কা বা বেত গুলোকে চেঁছে মসৃন করে নির্দিষ্ট মাপের ফ্রেমে পরপর সাজিয়ে বেঁধে সরু নাইলনের সুতো দিয়ে গেঁথে তৈরি করা হয় বানা বা বাঁশের মাদুর। এটির দাম ধার্য্য হয় প্রতি বর্গফুট হিসাবে। বানা শিল্পীরা ও বানা তৈরির জন্য প্রতি বর্গফুট হিসাবে মজুরী পেয়ে থাকেন। বাঁশ ও নাইলনের সুতো মহাজনরা সরবরাহ করেন। এই বানা বা বাঁশের তৈরি মাদুরের ব্যপক চাহিদা রয়েছে রাজস্থান, দিল্লী, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে।

 

 

দেশ জুড়ে লকডাউন চলায় বানা ব্যবসায়ীরা বানা ভিনরাজ্যে পাঠাতে না পারায় বানা শিল্পীদের কাজ ও বন্ধ রয়েছে দুমাস । বানা শিল্পী মালতি পাল, শঙ্করী পাল, রঞ্জন দাস সহ অনেকেই জানান তাদের আয়ের একমাত্র উপায় বন্ধ হয়ে থাকায় লক ডাউন পরিস্থিতিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এলাকায় চাষ বাস করাও অসম্ভব, তারা কি করবেন ভেবে দিশেহারা। বিকল্প কোনও আয়ের পথও তাদের জানা নেই ফলে পরিবার নিয়ে হয়তো তাদের অনাহারেই মরতে হবে বলেও তারা জানান। কামাক্ষ্যাগুড়ি বাজারের বানা ব্যবসায়ী অমর দেবনাথ বলেন লক ডাউনে বাইরে বানা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না ফলে বানা তৈরির কাজ বন্ধ। ভিন রাজ্যে উৎপাদিত বানা পাঠাতে না পারলে বানা তৈরির কাজ চালু করা সম্ভব নয়।

 

 

বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাস সরকার এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন লক ডাউনে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বানা শিল্পীদের সমস্যা গুলি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কর্মহীন অবস্থায় তারা যাতে অনাহারে না থাকেন সে বিষয়ে ও নজর দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close