fbpx
ব্লগহেডলাইন

ভারতে গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া হয়ে উঠেছে পাকিস্তানি দূতাবাস

রবীন্দ্র কিশোর সিনহাঃ  ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের দুইজন কর্মীকে পাকিস্তান নির্মম ভাবে অত্যাচার করেছে।তারপর দিল্লিতে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসে ৫০ শতাংশ কর্মী কমানোর নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। তা স্বাগত যোগ্য।ভারতের সঙ্গে সমস্যা সমাধানের জন্য আগ্রহ নয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।এর থেকেই তা প্রমাণিত হয়েছে।ইমরান খানের আগের সরকারগুলিও পরোক্ষভাবে ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল।সরাসরি ভারতের সঙ্গে সংঘাতের যাওয়ার কোনও সাহস নেই পাকিস্তানের। দিল্লিতে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাসে গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট পাঠিয়ে ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। ভারতের মধ্যে থাকা বিশ্বাসঘাতক ও পাকিস্তানী সমর্থকদের সাহায্য করতে সচেষ্ট ছিল আইএসআই।

 

 

ভারত সরকার এই সমস্ত বিষয় অবগত।এটি অন্য বিষয় যে কোনও কারণে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা থেকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।এখন মোদী-শাহ জুটি কঠোর অবস্থান নিয়েছে।সেই কারণেই পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মীদের সংখ্যা হ্রাস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আসলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং আইএসআই কর্মীরা প্রায়শই কূটনীতিকের মুখোশ পরে দিল্লিতে আসেন।তারা ভারতে এসে ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়ার চেষ্টা করেন এবং অনেক সময় তারা সফলও হয়।এর সাথে তাদের অন্যতম কাজ হ’ল ভারতের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে যাবতীয় সাহায্য এবং দিশা নির্দেশ দেওয়া।কারও কাছ থেকে এটি গোপন নয় যে কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পাকিস্তান হাইকমিশনে জামাই আদর এর মতন রাখা হয়। তবে, মোদী সরকার কেন্দ্রে আসার পরে সে সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে।আপনাদের নিশ্চই পাকিস্তানি গুপ্তচর নিশান্ত আগরওয়ালের নাম মনে রয়েছে।পাকিস্তানের কাছে ব্রাহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের তথ্য ফাঁসের জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।তিনি পাকিস্তানি হাই কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তথ্য ফাঁস করে দিতেন।বলা বাহুল্য যে এই দেশে জয়চাঁদের মতো বিশ্বাসঘাতক রয়েছে।গত মে মাসে দিল্লি পুলিশ গুপ্তচরবৃত্তির করার দায়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের দুই কর্মকর্তাকে হাতেনাতে ধরেছিল।তাদের নাম আবিদ হুসেন এবং তাহির হুসেন।কূটনৈতিক রক্ষাকবচ থাকার কারণে ভারত তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের দেশ ত্যাগ করতে বলেন।

 

 

সরকার পাকিস্তানি হাই কমিশনের কর্মকাণ্ডের উপর গভীর নজর রেখে চলেছে।দেশের মধ্যে থাকা বিশ্বাসঘাতকতা গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।তারা কয়েকটি টাকার জন্য ভারত মায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।এই সকল বিশ্বাসঘাতক হাজার হাজার যোদ্ধাদের অসম্মান করেছে,যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। দেশের যেকোনো নাগরিক যদি বিশ্বাসঘাতকতা করে তবে তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করা নিশান্ত আগারওয়াল এর ঘটনাটি অত্যন্ত জটিল ছিল। তিনি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন নথি আইএসআই বিক্রি করছিলেন।লোকটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে ডিআরডিও ইনস্টিটিউটে একজন বিজ্ঞানী ছিলেন।যারা দেশকে প্রতারণা করেছে তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত যে তারা কোন লোভের অধীনে দেশকে প্রতারণা শুরু করে?

 

 

আমরা যদি ফিরে তাকাই তবে দেখব ২০১৬ সালে, পাকিস্তান হাইকমিশনে কর্মরত মাহমুদ আক্তারকে অবৈধভাবে সংবেদনশীল দলিল হাতানোর জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।ভারত সরকারও তাকে আবার পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছিল।দেখুন দুটি দেশ উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে একে অপরের দেশগুলিতে তাদের হাই কমিশন খোলে। কিছু দেশ এর ঊর্ধ্বে উঠে নিজস্ব সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং গ্রন্থাগারও খোলে।আমেরিকা, ইতালি, ব্রিটেন, স্পেন, রাশিয়া প্রভৃতি দেশও নয়াদিল্লির সাংস্কৃতিকতে কেন্দ্র গড়ে তুলেছে।এখানে শিল্প-সংস্কৃতি সম্পর্কিত সেমিনার, আলোচনা ও অন্যান্য অনুষ্ঠান হয়।একইভাবে আমেরিকা, ইরান,জাপান ইত্যাদি দেশগুলিরও দিল্লিতে স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে এখানে বসবাসরত নাগরিকদের বাচ্চারা এখানে পড়াশোনা করে।. কিন্তু পাকিস্তান হাইকমিশন নিজেকে এই সমস্ত অর্থবহ এবং গঠনমূলক কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। সেখান থেকে কেবল ভারতের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি হয়ে আসছে। দেখুন কতটা নিকৃষ্ট দেশ পাকিস্তান।আপনরা মনে করে দেখুন ১৯৬০ সালে নির্মিত পাকিস্তান হাই কমিশনের ভবনে কোনও ভাল অনুষ্ঠান হয়েছে কিনা। ১৯৫৮ সালের পর ভারত সরকার বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেট হাউস নির্মাণের জন্য রাজধানীর চাণক্যপুরী অঞ্চলে বিভিন্ন প্লট বরাদ্দ করেছিল।পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক মধুর করার আশা নিয়ে সেরা জায়গা দূতাবাস তৈরীর জন্য দেওয়া হয়েছিল। তবে পাকিস্তান ভারতকে হতাশ করেছে।নিজেদের ভুল সংশোধন করেনি পাকিস্তান।ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পাকিস্তানের শিখরে।বিশ্বের সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অন্যতম শক্তিশালী জায়গায় পৌঁছিয়ে গিয়েছে. তবোকিস্তানের এই নোংরামি সত্ত্বেও ভারত কোনওভাবেই পাকিস্তানের ক্ষতি কর উদকর নোর নোর এটি সংশোধন করতে হবে।পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ১৯৪৮, ১৯৬৫, ১৯৭১ এবং কর্গিলের যুদ্ধ হয়েছে। চারটি যুদ্ধেই জিতেছে ভারত।কিন্তু তার পরেও পাকিস্তান ভারতকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করে গিয়েছে।২০০৮ সালে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসবাদি হামলা তারই প্রমাণ।এখন তারা আমাদের দুজন কূটনীতিককে যা করেছিলেন তা তাঁর উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দেয়।পাকিস্তান সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা মওলানা আজাহার মেহমুদ এবং হাফিজ সইদ ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী যুদ্ধে লড়াই করে চলেছে।এদেরকে প্রকাশ্যে সমর্থন করে আইএসআই।জইশারতের এক পরিচিত শত্রু।তারা পাঞ্জাবের অবশিষ্ট খালিস্তানী সন্ত্রাসীদের পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছেন। ভারতে যে সকল জইশ জঙ্গি রয়েছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে হত্যা করতে হবে গুপ্তচর সংস্থাগুলিকে।. তাকিস্তানের পুতুলরা প্রকাশ্যে ভারতের বিরোধিতা করপ চলে।

Related Articles

Back to top button
Close