fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া টাকার ব্যাগ ফিরিয়ে দিলেন ফেরিওয়ালা

বিশ্বজিত হালদার, কাকদ্বীপ:‌ পাড়ায় পাড়ায় ছোটদের জামাকাপড় ফেরি করেন আলমগির শেখ। টানা লকডাউনের জেরে সব গ্রামে এখন ঢোকাও যায়না। এই অবস্থার মধ্যেও রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া মানিপার্স ফিরিয়ে দিয়ে সততার নজির গড়েলন বছর সাঁইত্রিশের আলমগির। পার্সে ছিল ৮ হাজার টাকা ও প্যানকার্ড, ভোটার কার্ডের মতো জরুরী নথি। হারিয়ে যাওয়া মানিপার্স টাকা সমেত ফিরে পেয়ে কার্যত আপ্লুত পঞ্চানন শাসমল।

আলমগির আদতে মুর্শিদাবাদের লালগোলার বাসিন্দা। প্রায় বছর দশেক আগে থেকে কাকদ্বীপে চলে আসেন। একটি সাইকেলে ছোটদের পোশাক সাজিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করেন। কাকদ্বীপ অনুকূল আশ্রমের পাশে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। গত রবিবার কাকদ্বীপের ১৩ নম্বর ঘটিহারানিয়াতে গিয়েছিলেন ফেরি করতে। গ্রাম ঘুরে ফেরার পথে রাস্তায় একটি মানিপার্স দেখতে পান। সেটি কুড়িয়ে নেন তিনি। চারদিকে খোঁজখবর করেও কাউকে না পেয়ে পার্সটি নিয়ে ভাড়া বাড়িতে চলে আসেন। পুরো বিষয়টি জানান বাড়িওয়ালা অর্মত্য রায়কে। তিনি নামখানা বিডিও অফিসের কর্মী। তিনি সব দেখার পর কাকদ্বীপের বিডিও অফিসের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ছবি তুলে পাঠান সমস্ত জরুরী নথিপত্রের। এরপর কাকদ্বীপ বিডিও অফিস থেকে পঞ্চানন শাসমলের খোঁজ পাওয়া যায়। জানা যায় স্থানীয় বাপুজি পঞ্চায়েতের বাসিন্দা বছর ৫৫-র পঞ্চানন।

[আরও পড়ুন- ধর্মীয়স্থান দখল করার অভিযোগ, বিডিও অফিস ঘেরাও করে আদিবাসীদের বিক্ষোভ]

আলমগিরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয় পঞ্চাননকে। শুক্রবার আলমগিরের ভাড়া বাড়িতে চলে আসেন পঞ্চানন। খোয়া যাওয়া মানিপার্স ফিরে পেয়ে কার্যত আপ্লুত তিনি। গত রবিবার বাজার করে বাইকে ফেরার পথে রাস্তায় এই মানিপার্সটি খোয়া গিয়েছিল। ছেলের বিয়ের বাজার করে ফেরার পথে খোয়া যায় পার্সটি। এদিন টাকা সমেত পার্স ফিরে পেয়ে বলেন,‘‌ আমি আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু যখন ফোন করে সব বলা হল তখন আশ্বস্ত হই। অন্য কেউ হলে হয়ত টাকা ফেরাত না। অভাবের মাঝেও সততা মুগ্ধ করেছে। ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না।’‌ আলমগিরও পার্সটা ফেরত দিতে পেরে খুব খুশী। তিনি বলেন,‘‌ পার্সটা পাওয়ার পর কিছুক্ষণ আশপাশে খুঁজি। কিন্তু কাউকে দেখতে পাইনি। পরে ঠিকানা জোগাড় হয়। ফেরত দিয়ে আমি খুব খুশী হয়েছি।’‌

 

Related Articles

Back to top button
Close