fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নদীর চর দখল হওয়ায় বর্ষায় দুর্ভোগের শিকার শিলিগুড়ির মানুষেরা

রাজনীতির উর্ধে উঠে নদীগুলিকে বাঁচাবার আবেদন মন্ত্রীর

কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়ি, ২৮ জুলাই: গোটা পার্বত্য অঞ্চল সহ শিলিগুড়ি ও উত্তরবঙ্গের বিস্তির্ণ অঞ্চলে গত কাল সকাল থেকে রাতভোরের প্রবল বৃষ্টির ফলে শিলিগুড়ির সমস্ত নদীগুলিতে জলস্তর ব্যপক হারে বৃদ্ধি পায়। একদিকে নদী সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে অপরদিকে পাহাড়ে ধসের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি শিলিগুড়ির মহানন্দ নদী সহ পঞ্চনই নদীর জল ফুলে ফেপে ওঠে।

শিলিগুড়ি জংশনের কাছে নদীর ওপরের অস্থায়ী লোহার সেতু দুদিক ধসে যায়। এছাড়াও শিলিগুড়ির অদুরে দাগাপুরে পঞ্চনই নদীর সড়ক ও রেল সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে নদীর চড় দখলের অভিযোগই বার বার উঠে আসে। আর তাতেই এবারও পর্যটন মন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবী জানাল স্থানীয়রা। অন্যদিকে গৌতম দেবের অভিযোগের তীর সেই বামেদের দিকে।

শিলিগুড়ি শহরের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ছোট বড় বহু নদ নদী। সেই নদীগুলির প্রায় সব কটির দুদিকেই নদীর চড় দখল করে বসতি গড়ে উঠেছে। ফলে নদীগুলি ছোট হতে হতে বহু নদী নর্দমার আকার ধারন করেছে বলে অভিযোগ। বহুনদী আবার তার গতিপথও পরিবর্তন করে ফেলেছে। এদিকে প্রায় প্রতি বর্ষাতেই নদী সংলগ্ন এলাকার দুকুল ছাপিয়ে প্লাবনের আকার নেয়। এ বছরও তার ব্যাতিক্রম ঘটলো না।

শিলিগুড়ির কাছে পশ্চিম ধনতলা এলাকায় মহানন্দা নদীর জল ঢুকে গিয়ে শিলিগুড়ির কাছে ফুলবাড়ির পশ্চিম ধনতলা এলাকার ৫০০ পরিবার জলের তলায় চলে যায়। অন্যদিকে শিলিগুড়ি জংশনের পাতিকলোনী এলাকায় পঞ্চনই নদীর ওপরের লোহার অস্থায়ী সেতু তৈরী করে এই সেতুর প্রায় ৫০০মিটারের মধ্যে একটি পাকা সেতু তৈরী করতে শুরু করে এসজেডিএ। প্রায় এক বছর ধরে সেই সেতুর কাজ চলছে। স্বাভাবিকবাভেই এই লোহার সেতুর ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয় শিলিগুড়ির ১ ও ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের।

কিন্তু এদিন লোহার সেতুর ওপরে জল উঠে গিয়ে পার্শবর্তি এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে। যার ফলে এই সেতুটির দুইদিক ধসে গিয়ে এই দুই এলাকার মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি শিলিগুড়ির অদূরে দাগাপুরে পঞ্চনই নদীর পাড় ধসে গিয়ে রাস্তার ধার ও রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানেও ব্যাহত হয় যান চলাচল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীর চর দখল হয়ে যাওয়াতেই এই দুর্ভোগ। মন্ত্রী গৌতম দেবের হস্তক্ষেপের দাবি জানায় তারা।

তাদের অভিযোগ, এভাবে নদীর চড় দখল হওয়ার ঘটনায় সমস্ত রাজনৈতিক দলই জড়িত। যে দলই ক্ষমতায় আসে তারাই এই কাজে যুক্ত। এভাবে নদীর চর দখল হওয়ায় মানুষকেই ভুগতে হচ্ছে। তাই অবিলম্বে নদীর চর দখল মুক্ত করে দখল হওয়ার হাত থেকে নদীকে রক্ষা করা উচিত বলে স্থানীয়রা দাবী জানায়।

এ ব্যাপারে পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবের অভিযোগের তীর বিগত বাম সরকারের বিরুদ্ধেই। তার অভিযোগ, “বাম জমানায় নদীর চরে মানুষদের বসিয়ে দিয়ে মানুষের জীবন ও জীবিকা সবই বিপন্ন করে দিয়েছে। আমরা চাই নদীগুলি স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসুক। নদী দখলের এই প্রবনতা বন্ধ করতেই হবে। জীবনের নিরাপত্তার অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাজনীতি এখানে বিচার্য বিষয় নয়। সব রাজনৈতিক দলগুলিকেই সহায়ক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।”

Related Articles

Back to top button
Close