fbpx
দেশহেডলাইন

পাইলটের দাবি মানল কংগ্রেস, দায়িত্ব থেকে সরানো হল অবিনাশ পাণ্ডেকে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজস্থানের বিধানসভায় আস্থা ভোট মেটার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের পদে ঘটল বড় রকমের রদবদল। এই পদে দায়িত্বে থাকা অবিনাশ পাণ্ডেকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হল বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অজয় মাকেনকে। রাজস্থানের কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক করা হল তাঁকে। রবিবার রাতেই এআইসিসি’র পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।

প্রথমে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে মনের কথা জানিয়েছিলেন রাজস্থানের বিদ্রোহী কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট। তারপর সনিয়া গান্ধীর দুই ঘনিষ্ঠ নেতা আহমেদ পটেল ও কেসি বেণুগোপালের কাছেও অভাবঅভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকেও বলেছিলেন, রাজস্থান কংগ্রেসে কী কী নিয়ে তাঁর সমস্যা। সেসবের অন্যতম ছিল কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতা অবিনাশ পাণ্ডের আচরণ। পাইলটের দাবি ছিল, তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হোক রাজস্থানের দায়িত্ব থেকে। আস্থা ভোটে গেহলট সরকারের জয় সুনিশ্চিত হওয়ার তেরাত্তির কাটতে না কাটতেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন অন্তর্বর্তী কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধী। অবিনাশ পাণ্ডেকে সরিয়ে দেওয়া হল রাজস্থানের দায়িত্ব থেকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন অজয় মাকেন। এই সিদ্ধান্তকে সাদরে স্বাগত জানিয়েছেন শচীন। রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সনিয়া গান্ধীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘রাজস্থানের কংগ্রেস কর্মীরা এই সিদ্ধান্তে অত্যন্ত খুশি। তাঁরা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করতে পারবেন।’ মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: সংসদ ভবনের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ৭টি ইঞ্জিন

রাজস্থানে বিদ্রোহী নেতাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে, তা সমাধানের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই তিন সদস্যের কমিটিতে আছেন, আহমেদ প্যাটেল, অজয় মাকেন এবং কে সি ভেণুগোপাল। উল্লেখ্য, সচিন পাইলটের শর্তের মধ্যে অন্যতম শর্ত ছিল এই অবিনাশ পাণ্ডের অপসারণ। পাইলট রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তাঁর আলোচনায় পান্ডের কার্যকারিতা প্রসঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি পান্ডের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ করেছিলেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজস্থানের দায়িত্বে থাকা অবিনাশ পাণ্ডে কখনই সর্বভারতীয় নেতার মতো আচরণ করেননি। তিনি হাইকম্যান্ডের অংশ হয়ে ওঠার চেয়ে বাস্তবে হয়ে উঠেছিলেন অশোক গেহলটের লোক। শচীনদের কোনও বক্তব্যই শুনতেন না বলে রাহুল প্রিয়ঙ্কাদের জানানো হয়েছিল। শচীনের মূল দাবি ছিল, অশোক গেহলটের বদলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হোক। কিন্তু সে দাবি মানা সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে তাঁরা শচীনকে এও বলেছিলেন, তাঁর অন্যান্য দাবিগুলি নিয়ে দল অবশ্যই আলাপালোচনা করবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেস নেতৃত্ব আসলে বার্তা দিতে চাইলেন শচীনকেই। বুঝিয়ে দেওয়া হল, তাঁর যে দাবিতে মান্যতা দেওয়া উচিত, হাইকম্যান্ড তা দিয়েছে। এবার যেন তিনি ইগো ছেড়ে স্বাভাবিক স্রোতে ফেরেন। গত এক মাস ধরে নাটকের পর নাটক চলেছে রাজস্থানে।

Related Articles

Back to top button
Close