fbpx
দেশহেডলাইন

মুখ্যমন্ত্রী হতে চান পাইলট, দাবি মানলে তবেই দেখা সনিয়া-রাহুলের সঙ্গে

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যস্থানের সরকার নিয়ে চলছে নাটকের পর নাটকের। দুর্যোগের মেঘ জেন জাঁকিয়ে বসেছে মরুরাজ্যে। এখনও নিজের দাবি থেকে সরে আসেননি রাজস্থানের বিদ্রোহী কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট। জানা গিয়েছে, তাঁর দাবি এক বছরের মধ্যে তাঁকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পদ দিতে হবে। এই দাবি মেনে নিলে তবেই কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী ও তাঁর ছেলে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। শচীন পাইলটকে নিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনল প্রিয়ঙ্কা গান্ধী শিবির। প্রিয়ঙ্কা ঘনিষ্ঠ, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলীয় এক নেতাই এমন কথা বলেছেন। প্রিয়ঙ্কার শিবির সূত্রে জানানো হয়েছে, পাইলটকে এক বছরের মধ্যে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী করা হবে, সেটা যেন প্রকাশ্যে ঘোষণা করে হাইকম্যান্ড। এই ব্যাপারে আশ্বাস না দিলে গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাত্‍ করেও তাঁর কোনো লাভ নেই বলেও জানিয়েছিলেন পাইলট।

কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্বের কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই শচীন পাইলটের। কেবল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বে থাকা প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়ার সঙ্গেই যোগাযোগ করেছে তাঁর। প্রিয়ঙ্কার মাধ্যমেই নিজের দাবি সনিয়া-রাহুলের সামনে তুলে ধরছেন পাইলট।কংগ্রেসের তরফে পাইলটকে রাজস্থানের উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। প্রিয়ঙ্কার হাজার অনুরোধেও নাকি এখন কাজ হচ্ছে না। কংগ্রেস শীর্ষনেতৃত্বের উপর ভরসা রাখতে নারাজ পাইলট। তাই এখনও নিজের দাবি থেকে সরছেন না এই তরুণ নেতা।

পাইলট শিবিরের দাবি, ‘প্রিয়ঙ্কা গান্ধী খুব ধৈর্য ধরেই সচিনের কথা শুনেছিলেন।’ শচীনের বক্তব্য শুনে, প্রিয়ঙ্কা না কি আশ্বাস দেন যে এই সমস্যার ব্যাপারে অতি দ্রুত তিনি সনিয়া আর রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলবেন। এ দিকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেও সচিনকে বোঝানোর একাধিক চেষ্টা শুরু করেছে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাঁর কাছে একাধিক বার্তা দেওয়া হয়েছে দলে ফিরে আসার জন্য যেটা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ক্ষেত্রে দেওয়া হয়নি। যদিও সে সব কিছুই বিশ্বাস করছেন না সচিন। ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁর বক্তব্য, ‘আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কংগ্রেসই কী করে সব কিছু মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলছে?’

আরও পড়ুন: ভয়াবহ বন্যায় কাজিরাঙার ৯৫ শতাংশই জলের নীচে! ভেসে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

পাইলট বলেন, ‘এক দিকে কংগ্রেস বলছে ‘দরজা খোলা’, আবার অন্য দিকে আমাকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বরখাস্তের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে! ‘তাঁর অভিযোগ, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট গান্ধী পরিবারের কাছে তাঁর নামে মিথ্যে বলেছেন। তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন।  শনিবার সকালে শচীন পাইলট বলেছেন, “রাজস্থান আমার কর্মভূমি। আমি সেখানেই সব কাজ করেছেন। আর সেটা কংগ্রেসে থেকেই। তাই সেখানে বিজেপির সঙ্গে যোগ দেওয়ার কোনও কথাই নেই। আমার বিরুদ্ধেই একটা বড় চক্রান্ত হয়েছে। আর সেটাই গাঁধী পরিবারের সামনে তুলে ধরতে চাই।” সূত্রের খবর, নিজের দেওয়া শর্ত পূরণ হলেই সোনিয়া-রাহুলের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। এরমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পাইলট ও তাঁর ১৮ বিধায়ক। এই পদক্ষেপে কংগ্রেস নেতৃত্ব আরও ক্ষুব্ধ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাইলটের এই পদক্ষেপের ফলে দলে তাঁর জায়গা আরও খারাপ হতে পারে বলেই খবর কংগ্রেস অন্দরের।

প্রসঙ্গত, শচীন পাইলটকে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে টানার ইঙ্গিত দিয়েছিল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। যদিও শচীন পাইলট ঘনিষ্ঠ এক নেতা দাবি, পাইলট বলেছেন রাজস্থান তার কর্মভূমি। রাজস্থানের বাইরে কংগ্রেস তাঁকে কী দায়িত্ব দেবে তা নিয়ে সন্দিহান রাজস্থানের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবেই তিনি রাজস্থানে থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাতে চান। এখন প্রশ্ন উঠছে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট এবং শচীন পাইলট এর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে শচীনের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর হস্তক্ষেপে কি দূর হবে?

Related Articles

Back to top button
Close