fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের শেষকৃত্যের সমস্ত দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে নজির পুলিশের

নিজস্ব প্রতিনিধি, দিনহাটা: দিনহাটার গ্রামে দিন কয়েক আগে করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের শেষকৃত্যের সমস্ত দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়ে নজির সৃষ্টি করল পুলিশ। দিনহাটা দুই ব্লকের বুড়িরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুলকি গ্রামের করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের শেষকৃত্যের সমস্ত দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিল পুলিশ এবং প্রশাসন। কঠিন আই পরিস্থিতিতে এবং করোনায় আক্রান্ত থাকার জন্য শেষকৃত্য হাজির হতে পারেননি কোনো আত্মীয় স্বজন। দিনহাটা দুই ব্লকের সাহেবগঞ্জ থানার ওসি হেমন্ত শর্মা নিজেই মুখাগ্নি করলেন শেষ মুহূর্তে। সদ্য পিতৃহারা হওয়ার পর মাথার উপর থেকে পিতার ছাদ সরে যাওয়া মানসিক যন্ত্রনা। এমনকি দাহকার্য্য শেষে হিন্দু রীতি মেনে সেই চিতাভস্ম নিজে যত্ন করে এনে রেখে দেন মালখানাতে। মালখানা হল থানার সেই সুরক্ষিত ঘর যেখানে বাজেয়াপ্ত করা সমস্ত বস্তু এবং মূল্যবান জিনিস এমনকি কোন অপরাধে ব্যবহত অস্ত্রশস্ত্রও থাকে। নিজে যত্ন করে সেই সুরক্ষিত ঘরে রেখে দেন চিতাভস্ম।

বৃহস্পতিবার সকালে মৃতের এক পুত্র বিবেকানন্দ অধিকারী থানায় এসে নিজের পরিচয় দেন এবং সেই সুযত্নে সুরক্ষিত চিতাভস্ম হেমন্ত বাবুর হাত থেকে গ্রহণ করেন। পাশাপাশি দুই পিতৃহারাকে কোভিড আবহে এই পবিত্র চিতাভস্ম চিনিয়ে মিলিয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।বিবেকানন্দ অধিকারী বারংবার তার হার্দিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, হেমন্ত শর্মাকে তথা কোচবিহার পুলিশ প্রশাসনকে এই কোভিড আবহে মানবিকতার ও দায়িত্বশীলতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য। কোচবিহার পুলিশের মানবিক মুখের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি আজ সারা জেলায় তথা সারা বাংলায় সুপরিচিত। কিন্তু আত্মীয় স্বজন বিহীন এক কোভিড আক্রান্ত মৃতদেহের মুখাগ্নি থেকে শুরু করে সমস্ত রীতিনীতি মেনে দাহকার্য্য সম্পন্ন করে সুরক্ষিত চিতাভস্ম পরিবারের হাতে তুলে দিয়ে বিরলতম নজির সৃষ্টি করল কোচবিহার জেলা পুলিশ। করোনা মোকাবিলায় পুলিশ কর্মীরা প্রথম সারিতে থেকে যেভাবে লড়াই করে চলছে তাকে স্যালুট জানান অনেকেই।

Related Articles

Back to top button
Close